মূল বিষয়বস্তুতে যান
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা
সব উৎসব
পূজাপ্রধান উৎসব

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা

Lakshmi Puja

অক্টো২৫২০২৬

সর্বশেষ

রবি, ২৫ অক্টোবর

নির্ঘণ্ট

পঞ্জিকা:
  • আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা

    সকাল ৭:০০

  • পূর্ণিমা তিথি

    গুপ্তপ্রেস মতে: সকাল ১১:২৯ থেকে সকাল ১০:২০ (পরদিন)

    পঞ্জিকায়: বেণীমাধব শীল ১৪৩৩: ৭ কার্তিক (২৫ অক্টোবর) চতুর্দশী দিবা ঘ ১০।৫৯ মিঃ পর্যন্ত, ৮ কার্তিক (২৬ অক্টোবর) পূর্ণিমা দিবা ঘ ৯।৫০ মিঃ পর্যন্ত; ভারতীয় সময়

  • পূর্ণিমা তিথি (দৃক্‌ গণনা)

    বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে: দুপুর ১২:২৬ থেকে সকাল ১০:১১ (পরদিন)

  • লক্ষ্মীপূজার প্রদোষকাল

    গুপ্তপ্রেস মতে: বিকাল ৫:৩১ থেকে সন্ধ্যা ৭:০৭

    পঞ্জিকায়: বেণীমাধব শীল ১৪৩৩: প্রদোষে সন্ধ্যা ঘ ৫।১ গতে রাত্রি ঘ ৬।৩৭ মধ্যে শ্রীশ্রীকোজাগরীলক্ষ্মী পূজা ও শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ ব্রত (ভারতীয় সময়)

  • রাতে কোজাগর জাগরণ: চিঁড়া, নারকেল ও ডাবের জল

  • নিশীথকাল (দৃক্‌ গণনা)

    রাত ১১:১৭ থেকে রাত ১২:০৮ (পরদিন)

  • হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐচ্ছিক ছুটি

    সারাদিন

পরিচয়

আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার রাতে বাঙালি হিন্দু ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা হয়। দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরের পূর্ণিমায় এই পূজা, তাই একে অনেকে লক্ষ্মীপূর্ণিমাও বলেন। পূজা মূলত বাড়ির মেয়েদের হাতে, পুরোহিত ছাড়াও করা যায়।

বাংলাদেশে পরিবারভেদে দেবীর পূজা হয় প্রতিমায়, ঘটে, পটে বা লক্ষ্মীর সরায়। ঢাকাই, ফরিদপুরী ও সুরেশ্বরী সরা এ দেশের নিজস্ব শিল্প। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশনসহ বহু মন্দিরেও এই রাতে পূজা হয়।

ধর্মীয় তাৎপর্য

কোজাগরী নামটি এসেছে "কো জাগর্তি", অর্থাৎ "কে জেগে আছ?" থেকে। রঘুনন্দনের তিথ্যাদিতত্ত্বে উদ্ধৃত লিঙ্গপুরাণের বিধানে আশ্বিনের পূর্ণিমায় রাত জেগে লক্ষ্মী ও ঐরাবতসহ ইন্দ্রের পূজার কথা আছে; সেখানে বলা হয়েছে, মাঝরাতে দেবী "কে জেগে আছ?" বলে খোঁজেন।

বাংলায় লক্ষ্মী শস্যেরও দেবী: নতুন ধান, ধানের ছড়া আর লক্ষ্মীর পা আঁকা আলপনায় তাঁকে ঘরে ডাকা হয়।

আচার-অনুষ্ঠান

সন্ধ্যায় প্রদোষকালে ঘট বা প্রতিমা সাজিয়ে পূজা: আলপনায় লক্ষ্মীর পা, ঘটে আমপল্লব আর কাঁঠালি কলা বা হরীতকী, তারপর ধ্যান, আবাহন, উপচারে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম। নারায়ণকে তুলসী দেওয়া হয়, লক্ষ্মীর ঘটে নয়। ঘণ্টা নয়, শাঁখ ও উলুধ্বনি।

পূজার পরে লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ, আর রাত জেগে চিঁড়া, নারকেল ও ডাবের জল নিয়ে কোজাগর পালন। ভোগে খিচুড়ি, লাবড়া, পায়েস ও নাড়ু।

উপবাসের নিয়ম

উপবাস প্রচলিত, তবে বাধ্যতামূলক নয়। অনেকে পূজা শেষে চিঁড়া, নারকেল ও ডাবের জল খেয়ে উপবাস ভাঙেন।

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা কবে?

২০২৬

অক্টো২৫

রবি, ২৫ অক্টোবর

এই উৎসব কোথায় হয়

মন্দিরবিডির তালিকায় এখন পর্যন্ত এমন ৭টি মন্দির আছে, যেখানে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পালিত হয়।

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পালিত হয় এমন কোনো মন্দির চেনেন?

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

লক্ষ্মীর পাঁচালি: বৃহস্পতিবারের ব্রতকথা সম্পূর্ণ, বারমাস্যাসহ

লক্ষ্মীর পাঁচালি: বৃহস্পতিবারের ব্রতকথা সম্পূর্ণ, বারমাস্যাসহ

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মী পূজার পর যে পাঁচালি পড়া হয়, তার সম্পূর্ণ পাঠ: নারদের নিবেদন, অবন্তীর বৃদ্ধা আর বণিকপুত্রের কাহিনি, সঙ্গে শ্রীশ্রীলক্ষ্মীদেবীর বারমাস্যা। কখন ও কীভাবে পড়বেন, পাঁচালিতে বলা ব্রতের নিয়ম, গল্পের সংক্ষেপ আর কঠিন শব্দের মানেও আছে।

প্রবন্ধ পড়ুন
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ২০২৬: তারিখ, পূর্ণিমা তিথি ও পূজার সময় (বাংলাদেশ সময়ে)

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ২০২৬: তারিখ, পূর্ণিমা তিথি ও পূজার সময় (বাংলাদেশ সময়ে)

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা ২০২৬ হবে ৭ কার্তিক ১৪৩৩, রবিবার (২৫ অক্টোবর)। বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা মতে পূর্ণিমা লাগবে সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে, পূজা প্রদোষে সন্ধ্যা ৫টা ৩১ মিনিট থেকে ৭টা ৭ মিনিট। পঞ্জিকার ভারতীয় সময়ে ৩০ মিনিট যোগ করে বাংলাদেশ সময় দেওয়া হলো।

প্রবন্ধ পড়ুন
কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার নিয়ম ও পদ্ধতি: পুরোহিত ছাড়াই বাড়িতে ধাপে ধাপে

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার নিয়ম ও পদ্ধতি: পুরোহিত ছাড়াই বাড়িতে ধাপে ধাপে

পুরোহিত ছাড়াই বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা করার নিয়ম ও পদ্ধতি: পূজার সময়, আলপনা, ঘট স্থাপন, ধাপে ধাপে পূজার ক্রম, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম মন্ত্র অর্থসহ, ভোগ, উপবাস আর রাত জাগা। কোনটা শাস্ত্রীয়, কোনটা লোকাচার, তাও আলাদা করে বলা।

প্রবন্ধ পড়ুন

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার ফর্দ: সম্পূর্ণ উপকরণ তালিকা

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার ফর্দ এক জায়গায়: ঘরোয়া পূজার সংক্ষিপ্ত তালিকা, দশকর্ম ভাণ্ডারের পূর্ণ ফর্দ আন্দাজ পরিমাণসহ, ঘটের জিনিস, ফুল, নৈবেদ্য, ভোগের বাজার, আলপনা ও হোমের উপকরণ, আর কোনো জিনিস না পেলে কী করবেন।

প্রবন্ধ পড়ুন

লক্ষ্মী পূজার মন্ত্র অর্থসহ: ধ্যান, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম মন্ত্র

বাড়ির লক্ষ্মী পূজায় যে মন্ত্রগুলো লাগে, ধ্যান থেকে প্রণাম পর্যন্ত, পড়ার ক্রমে বাংলা অর্থসহ। সঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি কতবার দেবেন, সংস্কৃত না জানলে কী করবেন, আর কোজাগরী পূর্ণিমার মূল শ্লোকের মানে।

প্রবন্ধ পড়ুন

লক্ষ্মী পূজায় কলা লাগে না কেন? কলা, তুলসী, ঘণ্টা ও লোহার নিয়ম

লক্ষ্মী পূজায় কলা নিষেধ, এমন কথা কোনো শাস্ত্র বা পঞ্জিকায় আমরা পাইনি; প্রচলিত বিধিতে ঘটের ওপর একটি কাঁঠালি কলা বা হরীতকী রাখা হয়। তুলসী কেন নারায়ণকে, ঘণ্টা কেন বাজে না, লোহার পাত্র কেন নয়, আর কোন নিয়ম শাস্ত্রীয়, কোনটা লোকাচার, সে কথাও এখানে।

প্রবন্ধ পড়ুন

এখনো কোনো উত্তর নেই

এই বিষয়ে প্রশ্ন করুন →

সম্পর্কিত দেবতা

লক্ষ্মী

মন্দির দেখুন →

তথ্য

ধরন

পূজা

সময়কাল

১ দিন

আরও উৎসব দেখুন

বাংলাদেশের সকল সনাতন উৎসব ও পূজার তালিকা

সব উৎসব

সচরাচর জিজ্ঞাসা

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা কবে?

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা-এর পরের তারিখ এখনো যোগ করা হয়নি; পঞ্জিকায় তিথি দেখুন। সর্বশেষ পালিত হয়েছিল রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬।

কোজাগরী শব্দের অর্থ কী?

"কো জাগর্তি", অর্থাৎ "কে জেগে আছ?"। প্রচলিত বিশ্বাস, আশ্বিন পূর্ণিমার মাঝরাতে দেবী লক্ষ্মী এই প্রশ্ন করে ঘুরে বেড়ান, আর যে জেগে থাকে তাকে আশীর্বাদ করেন। তাই এই রাতে জেগে থাকার রীতি।

লক্ষ্মীপূজা রাতে কেন হয়?

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পূর্ণিমার রাতের পূজা: যে রাতে পূর্ণিমা তিথি থাকে, সেই রাতে সন্ধ্যার প্রদোষকালে পূজা হয়। পঞ্জিকা সূর্যোদয়ের তিথি ধরে ৮ কার্তিককে (২৬ অক্টোবর) পূর্ণিমার দিন দেখালেও পূজা ৭ কার্তিক (২৫ অক্টোবর) রাতে।

পুরোহিত ছাড়া কি বাড়িতে লক্ষ্মীপূজা করা যায়?

হ্যাঁ। কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা মূলত স্ত্রী-আচার, বাড়ির মেয়েরাই করে আসছেন। সংস্কৃত মন্ত্র না জানলে বাংলায় ভক্তিভরে দেবীকে ডাকলেও পূজা সম্পূর্ণ হয়।

লক্ষ্মীপূজায় কি কলা লাগে?

হ্যাঁ, প্রচলিত পূজাবিধিতে ঘটের ওপর একটি কাঁঠালি কলা বা একটি হরীতকী দেওয়া হয়, আর নৈবেদ্যের ফলেও কলা থাকে। শাস্ত্রে কলা নিষেধের কথা পাওয়া যায় না; কোনো পরিবারে না দেওয়ার রীতি থাকলে সেটি পারিবারিক আচার।

লক্ষ্মীপূজায় ঘণ্টা বাজানো হয় না কেন?

বাংলার প্রচলিত লোকাচারে লক্ষ্মীপূজায় ঘণ্টা বা কাঁসর বাজানো হয় না; শাঁখ বাজিয়ে আর উলুধ্বনি দিয়ে দেবীকে বরণ করা হয়। এর কোনো শাস্ত্রীয় শ্লোক নেই, এটি বহুকালের রীতি।

লক্ষ্মীপূজায় কি সরকারি ছুটি আছে?

শ্রীশ্রী লক্ষ্মী পূজা পঞ্জিকা মতে ৭ কার্তিক, রবিবার (২৫ অক্টোবর); ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় দিনটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এক দিনের ঐচ্ছিক ছুটি। রবিবার বাংলাদেশে কর্মদিবস, তাই ছুটি নিতে হলে অফিসে আগে জানাতে হয়।

কোজাগরী আর প্রতি বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীপূজায় পার্থক্য কী?

বৃহস্পতিবারের পূজা সাপ্তাহিক, অল্প উপকরণে ঘটে করা ছোট পূজা, সঙ্গে পাঁচালি পাঠ। কোজাগরী বছরে একবার, আশ্বিন পূর্ণিমার রাতে: প্রদোষে পূজা, বড় ভোগ, সরা বা প্রতিমা, আর রাত জেগে চিঁড়া–নারকেলে কোজাগর পালন।