মূল বিষয়বস্তুতে যান
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
যাচাইকৃতঐতিহ্যবাহী

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

Dhakeshwari National Temple

c.প্রতিষ্ঠিত1200১৮৩বার দেখা হয়েছে
দিকনির্দেশনা

দর্শনের আগে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

সব দিনের খোলার সময়
  • রবিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • সোমবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • মঙ্গলবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • বুধবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • বৃহস্পতিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • শুক্রবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • শনিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০

তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদ ১ নভে ২০২৬

বিবরণ

ঢাকেশ্বরী মন্দির কেবল ইটের তৈরি একটি ইমারত নয়, এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হাজার বছরের বিশ্বাস, ভক্তি এবং ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক। ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই মন্দিরটি বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে স্বীকৃত। এর শান্ত, স্নিগ্ধ পরিবেশ এবং ধূপ-ধুনোর সুবাস ভক্তদের মনে এক গভীর প্রশান্তি এনে দেয়।

  • স্থাপত্যশৈলী ও গঠন:

    • মন্দিরের মূল চত্বরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে প্রাচীন স্থাপত্যের এক অপরূপ নিদর্শন।

    • মূল মন্দির প্রাঙ্গণের বাইরে একটি নাটমন্দির রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন পূজা ও উৎসবের সময় ভক্তরা সমবেত হন।

    • মন্দিরের স্থাপত্যে ঐতিহ্যবাহী বঙ্গীয় রীতির ছোঁয়া পাওয়া যায়। যদিও কালের বিবর্তনে এবং বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের ফলে এর আদি রূপের অনেক পরিবর্তন ঘটেছে, তবুও এর গাম্ভীর্য বিন্দুমাত্র কমেনি।

    • মূল মন্দিরের পূর্ব দিকে রয়েছে শিবের চারটি ছোট মন্দির। এই শিব মন্দিরগুলো একই সারিতে অবস্থিত এবং এদের চূড়াগুলো দেখতে অনেকটা প্যাগোডার মতো।

  • আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও প্রাত্যহিক রীতিনীতি:

    • প্রতিদিন ভোরে এখানে মঙ্গল আরতি হয়। শঙ্খের ধ্বনি এবং উলুধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে।

    • সারা দিন ধরে ভক্তরা এখানে আসেন মায়ের দর্শন পেতে, নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা জানাতে এবং আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে।

    • মন্দিরের পুরোহিতরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে প্রতিদিনের পূজার্চনা পরিচালনা করেন।

  • সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব:

    • ঢাকেশ্বরী মন্দির শুধু পূজা-অর্চনার স্থান নয়, এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় সামাজিক মিলনকেন্দ্রও বটে।

    • শারদীয় দুর্গাপূজা, জন্মাষ্টমী, সরস্বতী পূজাসহ অন্যান্য উৎসব এখানে অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে উদযাপিত হয়। বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় এখানে লাখো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

    • মন্দির প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা সভা, কীর্তন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এই মন্দিরটি একটি জীবন্ত সত্ত্বার মতো। শহরের কোলাহলের মাঝেও এখানে এলে মনে হয় যেন অন্য এক জগতে প্রবেশ করেছি, যেখানে কেবল ভক্তি আর সমর্পণের রাজত্ব।

ইতিহাস

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস ঢাকা শহরের নামের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। লোককথা ও ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, এই মন্দিরের ইতিহাস প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো।

  • প্রতিষ্ঠা ও কিংবদন্তি:

    • জনশ্রুতি আছে যে, দ্বাদশ শতাব্দীতে সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

    • কথিত আছে, রাজা বল্লাল সেন একবার স্বপ্নে দেবী দুর্গাকে জঙ্গলের মধ্যে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তিনি সেই স্থানে খনন কাজ চালিয়ে দেবীর একটি মূর্তি উদ্ধার করেন এবং সেখানে একটি মন্দির নির্মাণ করেন।

    • যেহেতু দেবীর মূর্তিটি জঙ্গলে 'ঢাকা' অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, তাই দেবীর নাম দেওয়া হয় 'ঢাকেশ্বরী' এবং এই নাম থেকেই ঢাকা শহরের নামকরণ হয়েছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন।

  • কালের বিবর্তনে পরিবর্তন:

    • প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে মন্দিরটির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমান যে কাঠামোটি আমরা দেখতে পাই, তা রাজা বল্লাল সেনের নির্মিত আদি কাঠামো নয়।

    • মোঘল আমলে এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে মন্দিরের স্থাপত্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে।

  • মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়:

    • ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই মন্দিরটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মন্দিরের অনেক অংশ ধ্বংস করে দেয়।

    • স্বাধীনতার পর মন্দিরটি পুনরায় সংস্কার করা হয়।

  • জাতীয় মন্দিরের স্বীকৃতি:

    • ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে "জাতীয় মন্দির" হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এটি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার ও অস্তিত্বের একটি বড় স্বীকৃতি।

    • বর্তমানে মন্দিরটি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এবং একটি শক্তিশালী পূজা কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

ইতিহাসের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দির আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। এটি আমাদের শেখায় যে, বিশ্বাস ও ভক্তি যদি খাঁটি হয়, তবে তা কালের সীমানা পেরিয়ে চিরঞ্জীব হয়ে থাকে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ সহজ। ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় যেকোনো প্রান্ত থেকেই এখানে আসা যায়:

  • বাস বা সিএনজি যোগে: গুলিস্তান, নিউমার্কেট বা শাহবাগ থেকে বকশীবাজার বা পলাশী মোড়গামী যেকোনো বাস বা সিএনজিতে উঠে পড়ুন। পলাশী মোড় বা বকশীবাজার থেকে রিকশায় বা মাত্র কয়েক মিনিট হেঁটেই ঢাকেশ্বরী রোডে পৌঁছানো যায়।

  • মেট্রোরেল: জ্যাম এড়িয়ে দ্রুত পৌঁছাতে চাইলে মেট্রোরেল সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' (টিএসসি) বা 'শাহবাগ' স্টেশনে নেমে একটি রিকশা নিলেই খুব সহজে এবং অল্প সময়ে মন্দিরে পৌঁছানো সম্ভব।

  • ব্যক্তিগত গাড়ি বা রাইড শেয়ারিং: উবার, পাঠাও বা নিজস্ব গাড়িতে আসার জন্য গুগল ম্যাপে 'Dhakeshwari National Temple' লিখে সার্চ দিলে সরাসরি রুট পেয়ে যাবেন। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য মন্দিরের বাইরে বা বুয়েট ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আশেপাশের রাস্তায় জায়গা পাওয়া যায়।

দেবতাগণ

ভ্রমণ তথ্য

প্রবেশ মূল্যফ্রি
পার্কিংনিকটে
শৌচাগারআছে
খাবার জলআছে
থাকার ব্যবস্থানেই
ফটো অনুমতিহ্যাঁ
জুতা রাখার ব্যবস্থা
হুইলচেয়ার সুবিধা
যাওয়ার সেরা সময়সকাল ৬:০০ থেকে দুপুর ১২:০০ এবং বিকাল ৪:০০ থেকে রাত ৮:০০ পর্যন্ত। সকালের মঙ্গল আরতি, জন্মাষ্টমী এবং দুর্গাপূজার সময় দর্শন করা সর্বোত্তম।

অবস্থান ও মানচিত্র

দিকনির্দেশনা পান ↗

ঢাকেশ্বরী রোড, লালবাগ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

এলাকাঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
পাড়া/মহল্লালালবাগ
রাস্তাঢাকেশ্বরী রোড

কাছের রেস্তোরাঁ

এই মন্দিরের কাছেই নিরামিষ খাবারের জায়গা।

সব রেস্তোরাঁ

আমাদের তালিকায় নেই এমন নিরামিষ রেস্তোরাঁ জানেন?

এক মিনিটেই যোগ করুন। অ্যাকাউন্ট লাগবে না।

রেস্তোরাঁ যোগ করুন

যে উৎসবগুলো এখানে হয়

মতামত

এখনো কোনো উত্তর নেই

এই বিষয়ে প্রশ্ন করুন →

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

কালী পূজা ২০২৬ কত তারিখ: শ্যামা পূজার তারিখ ও সময়

কালী পূজা ২০২৬ কত তারিখ: শ্যামা পূজার তারিখ ও সময়

কালী পূজা ২০২৬ পঞ্জিকা মতে ২১ কার্তিক ১৪৩৩, রবিবার (৮ নভেম্বর)। শ্যামা পূজা ও দীপাবলি একই রাতে, পূজা মধ্যরাতে। অমাবস্যা প্রচলিত ও দৃক্‌ দুই গণনায়, ঢাকার নিশীথকাল, ভূত চতুর্দশী, সরকারি ছুটি আর ভাইফোঁটা, সব বাংলাদেশ সময়ে।

প্রবন্ধ পড়ুন
শ্যামা পূজা কী: কালী পূজা ও দীপাবলির নিয়ম, কেন অমাবস্যার রাতে

শ্যামা পূজা কী: কালী পূজা ও দীপাবলির নিয়ম, কেন অমাবস্যার রাতে

শ্যামা পূজা কার্তিকী অমাবস্যার মাঝরাতে দেবী কালীর পূজা; ২০২৬ সালে পঞ্জিকা মতে ২১ কার্তিক ১৪৩৩, রবিবার (৮ নভেম্বর) রাতে। কালী পূজা কেন রাতে হয়, দুই পঞ্জিকার অমাবস্যা, দীপাবলি, উপবাস, ঐচ্ছিক ছুটি আর ভাইফোঁটার তারিখ।

প্রবন্ধ পড়ুন
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ২০২৬: তারিখ, পূর্ণিমা তিথি ও পূজার সময় (বাংলাদেশ সময়ে)

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ২০২৬: তারিখ, পূর্ণিমা তিথি ও পূজার সময় (বাংলাদেশ সময়ে)

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা ২০২৬ হবে ৭ কার্তিক ১৪৩৩, রবিবার (২৫ অক্টোবর)। বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা মতে পূর্ণিমা লাগবে সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে, পূজা প্রদোষে সন্ধ্যা ৫টা ৩১ মিনিট থেকে ৭টা ৭ মিনিট। পঞ্জিকার ভারতীয় সময়ে ৩০ মিনিট যোগ করে বাংলাদেশ সময় দেওয়া হলো।

প্রবন্ধ পড়ুন

এই প্রোফাইলটি ৯০% সম্পূর্ণ

সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করুন

তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদ ১ নভে ২০২৬

এই তথ্য কি সঠিক?

স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিন

আমাদের ডিজিটাল ঐতিহ্য রক্ষায় সাহায্য করুন। আপনার এলাকার মন্দিরের তথ্য, ছবি বা পঞ্জিকা আপডেট করে আমাদের সাথে যুক্ত হোন।

আবেদন করুন
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হোন

নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবক আবেদন স্বেচ্ছাসেবক ড্যাশবোর্ড থেকে করা যায়।

খোলার সময়

  • রবিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • সোমবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • মঙ্গলবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • বুধবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • বৃহস্পতিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • শুক্রবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • শনিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০

অ্যাপে এই মন্দির

মন্দিরটি সঙ্গে রাখুন, এক ছোঁয়ায় আবার খুঁজে পান।

  • সেভ করুন, গেলে চেক-ইন করুন
  • আরতি আর প্রসাদের সময় এক নজরে
  • দৈনিক পঞ্জিকা ও উৎসবের বার্তা
ডাউনলোড করুনGoogle Play

সাধারণ প্রশ্ন

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কোথায়?

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির-এর ঠিকানা: ঢাকেশ্বরী রোড, লালবাগ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কখন খোলা থাকে?

প্রতিদিন সকাল ৬:০০ থেকে রাত ৮:০০।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির-এ কোন দেবদেবীর পূজা হয়?

এখানে পূজিত দেবদেবী: দুর্গা, শিব।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির-এ কোন কোন উৎসব পালিত হয়?

এখানে পালিত উৎসব: শারদীয় দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, শ্যামাপূজা (কালীপূজা)।