ব্রহ্ম মুহূর্ত
রাত ৪:১০ – রাত ৪:৫৮
ঐতিহ্যবাহী বৈদিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জ্যোতিষশাস্ত্রীয় তারিখ, তিথি, শুভ মুহূর্ত এবং আসন্ন উৎসবসমূহ সম্পর্কে জানুন।
সনাতনী তারিখ
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার
রাত ৪:১০ – রাত ৪:৫৮
সকাল ১১:২৭ – দুপুর ১২:১৫
বাম থেকে ডানে পড়ুন—সকাল, দুপুর, তারপর রাত। কালো ‘এখন’ রেখাটি বর্তমান সময় দেখায়।
বর্তমান সময়
বিকেল ৪:৪৫
মুহূর্ত ও বিশেষ সময়
সতর্কতার সময়
19 সেপ্ট – 18 অক্টো 2026
বিস্তারিত জ্যোতিষশাস্ত্রীয় তথ্য দেখতে ক্যালেন্ডারের যেকোনো তারিখে ক্লিক করুন।
হিন্দু পঞ্জিকা কী, কত প্রকার এবং বাংলাদেশের তারিখের সঙ্গে কেন তা মেলে না — সহজ ভাষায় জেনে নিন।
সনাতনী পঞ্জিকা হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী পঞ্জিকা, যেখানে সূর্য ও চন্দ্রের গতির ভিত্তিতে তিথি, নক্ষত্র, যোগ ও করণ নির্ণয় করা হয়। এটি ব্রত, পূজা, উৎসব ও শুভ কাজের দিনক্ষণ ঠিক করতে ব্যবহৃত হয়। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের মতো নির্দিষ্ট নয়, বরং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার উপর নির্ভরশীল।
গণনা পদ্ধতির ভিত্তিতে পঞ্জিকা মূলত দুই ধারার — সূর্য সিদ্ধান্ত (প্রাচীন স্থির গণনা) ও দৃক সিদ্ধান্ত (প্রকৃত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণভিত্তিক)। বাংলায় গুপ্তপ্রেস, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও পি. এম. বাগচী পঞ্জিকা জনপ্রিয়। কোন পঞ্জিকা অনুসরণ করা হচ্ছে তার উপর কিছু তিথি ও উৎসবের তারিখ সামান্য ভিন্ন হতে পারে।
বাংলাদেশের সরকারি বাংলা তারিখ একটি সংস্কারকৃত সৌর ক্যালেন্ডার, যেখানে মাসের দৈর্ঘ্য স্থির করে দেওয়া হয়েছে এবং পহেলা বৈশাখ প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল ধরা হয়। সনাতনী পঞ্জিকা প্রকৃত সূর্য-সংক্রান্তির উপর নির্ভর করে, তাই দুই তারিখের মধ্যে সাধারণত এক-দুই দিনের পার্থক্য থাকে।
বিক্রম সংবৎ একটি প্রাচীন ভারতীয় চান্দ্র-সৌর অব্দ, যা রাজা বিক্রমাদিত্যের নামে প্রচলিত বলে মনে করা হয় এবং খ্রিস্টাব্দের চেয়ে প্রায় ৫৭ বছর এগিয়ে। উত্তর ভারত ও নেপালে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পঞ্জিকায় তিথি ও পক্ষ নির্ণয়ে এই চান্দ্র মাস-ভিত্তিক গণনার গুরুত্ব রয়েছে।
বঙ্গাব্দের উৎপত্তি নিয়ে দুটি মত প্রচলিত — একটি গৌড়রাজ শশাঙ্কের সময় (সপ্তম শতক), অন্যটি সম্রাট আকবরের ‘তারিখ-ই-ইলাহি’ থেকে, যেখানে হিজরি চান্দ্র বর্ষকে সৌর বর্ষের সঙ্গে মিলিয়ে খাজনা আদায়ের সুবিধা করা হয়। বর্তমানে চলছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, যা গ্রেগরিয়ান সালের সঙ্গে সমান্তরালভাবে গণনা করা হয়।
বিবাহ, অন্নপ্রাশন, গৃহপ্রবেশ, ব্রত ও পূজার শুভ দিনক্ষণ নির্ণয়ে পঞ্জিকা ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিনের তিথি, শুভ মুহূর্ত ও রাহুকাল দেখে অশুভ সময় এড়িয়ে কাজ শুরু করা যায়। MandirBD পঞ্জিকায় প্রতিদিনের এই তথ্য বাংলা ও ইংরেজিতে সহজে দেখা যায়।
তিথি, নক্ষত্র, একাদশী, রাহুকাল সহ পঞ্জিকার মূল উপাদানগুলোর অর্থ ও গুরুত্ব।
চন্দ্র ও সূর্যের মধ্যে ১২ ডিগ্রি কৌণিক দূরত্ব অতিক্রমের সময়কে এক তিথি বলা হয়। প্রতি চান্দ্র মাসে ৩০টি তিথি থাকে, শুক্ল ও কৃষ্ণ — দুই পক্ষে ভাগ করা। তিথি প্রতিদিন নির্দিষ্ট ঘড়ির সময়ে শুরু ও শেষ হয়, ইংরেজি দিনের সঙ্গে হুবহু মেলে না।
অমাবস্যার পর চাঁদ বাড়তে থাকা ১৫ দিনকে শুক্লপক্ষ এবং পূর্ণিমার পর চাঁদ কমতে থাকা ১৫ দিনকে কৃষ্ণপক্ষ বলা হয়। অনেক ব্রত ও উৎসব নির্দিষ্ট পক্ষের তিথিতে পালিত হয়, যেমন শুক্লপক্ষের একাদশী বা কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী।
আকাশে চাঁদের গতিপথকে ২৭টি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগকে এক নক্ষত্র বলা হয়, যেমন অশ্বিনী, ভরণী, কৃত্তিকা। জন্ম নক্ষত্র, বিবাহ ও শুভ কাজের সামঞ্জস্য নির্ণয়ে নক্ষত্রের গুরুত্ব রয়েছে।
সূর্য ও চন্দ্রের সম্মিলিত অবস্থান থেকে ২৭টি যোগ নির্ণয় হয়, যা দিনের শুভ-অশুভ প্রভাব বোঝায়। করণ হলো তিথির অর্ধেক অংশ; প্রতি তিথিতে দুটি করণ থাকে এবং মোট ১১টি করণ শুভ কাজের সময় নির্ধারণে সাহায্য করে।
প্রতি পক্ষের একাদশ তিথিকে একাদশী বলা হয়; মাসে দুটি একাদশী থাকে। বৈষ্ণব ভক্তরা এই দিনে উপবাস ও ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করেন। একাদশীর উপবাস আত্মশুদ্ধি ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে বিশেষ মর্যাদা পায়।
পূর্ণিমা হলো পূর্ণ চাঁদের তিথি এবং অমাবস্যা হলো চাঁদহীন রাত। বহু গুরুত্বপূর্ণ উৎসব — যেমন রাস পূর্ণিমা, দোল পূর্ণিমা বা কালীপূজার অমাবস্যা — এই দুই তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং পিতৃতর্পণের জন্যও অমাবস্যা বিশেষ।
রাহুকাল দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা, যা অশুভ বলে বিবেচিত হয় এবং এই সময়ে নতুন শুভ কাজ শুরু করা এড়ানো হয়। প্রতিদিন সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের ভিত্তিতে রাহুকালের সময় পরিবর্তিত হয়, তাই পঞ্জিকায় প্রতিদিন তা দেখে নেওয়া উচিত।
শুভ মুহূর্ত হলো কোনো কাজের জন্য জ্যোতিষশাস্ত্রসম্মত অনুকূল সময়। সংক্রান্তি হলো সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে প্রবেশের দিন; মকর সংক্রান্তি বা পহেলা বৈশাখের মতো দিন এর উদাহরণ, যা সনাতনী মাস গণনার ভিত্তি।
সনাতনী পঞ্জিকা, বাংলা সন, বিক্রম সংবৎ ও বাংলাদেশের সরকারি ক্যালেন্ডার — এই সবের সম্পর্ক ও পার্থক্য বিস্তারিতভাবে জেনে নিন।
ভারতীয় উপমহাদেশে সময় গণনার ঐতিহ্য কয়েক হাজার বছরের পুরনো। বৈদিক যুগে যজ্ঞ ও ঋতুভিত্তিক কৃষিকাজের জন্য চান্দ্র-সৌর গণনা ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে ‘সূর্য সিদ্ধান্ত’ নামক প্রাচীন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ পঞ্জিকা গণনার ভিত্তি হয়ে ওঠে, যেখানে সূর্য, চন্দ্র ও গ্রহের গতিপথ গাণিতিকভাবে নির্ণয় করা হয়।
আধুনিক যুগে প্রকৃত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ‘দৃক সিদ্ধান্ত’ পদ্ধতি গড়ে ওঠে, যা সূর্য সিদ্ধান্তের তুলনায় বেশি নির্ভুল। বাংলা অঞ্চলে গুপ্তপ্রেস ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা এই ঐতিহ্য বহন করছে এবং আজও ধর্মীয় উৎসব ও ব্রতের দিনক্ষণ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
MandirBD পঞ্জিকায় একসঙ্গে চারটি ক্যালেন্ডার দেখানো হয় — সনাতনী বঙ্গাব্দ, বিক্রম সংবৎ, বাংলাদেশের সরকারি বঙ্গাব্দ এবং গ্রেগরিয়ান (ইংরেজি) সাল। প্রতিটি পদ্ধতির গণনার ভিত্তি আলাদা, তাই একই দিনের তারিখ চার পদ্ধতিতে ভিন্ন হতে পারে।
সনাতনী বঙ্গাব্দ সূর্যের রাশি-প্রবেশ অর্থাৎ সংক্রান্তির উপর নির্ভরশীল সৌর ক্যালেন্ডার, আর বিক্রম সংবৎ চান্দ্র মাস-ভিত্তিক অব্দ যা প্রায় ৫৭ বছর এগিয়ে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সম্পূর্ণ সৌর এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত।
বাংলাদেশের সরকারি বঙ্গাব্দ একটি সংস্কারকৃত সৌর ক্যালেন্ডার, যেখানে মাসের দৈর্ঘ্য স্থির। এই চার পদ্ধতিকে পাশাপাশি দেখলে ভক্তরা সহজেই ধর্মীয় তিথি ও দৈনন্দিন তারিখ মিলিয়ে নিতে পারেন।
১৯৬৬ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলা একাডেমি বাংলা ক্যালেন্ডার সংস্কারের প্রস্তাব দেয়, যেখানে প্রথম পাঁচ মাস ৩১ দিন ও বাকি মাস ৩০ দিন করে স্থির করা হয়। এই সংস্কারের উদ্দেশ্য ছিল তারিখকে গ্রেগরিয়ান সালের সঙ্গে সুসংগত করা।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে আরও সংশোধন করে পহেলা বৈশাখ ও জাতীয় দিবসগুলোকে নির্দিষ্ট ইংরেজি তারিখে স্থির করা হয়। ফলে সরকারি বাংলা তারিখ এখন একটি স্থির সৌর ক্যালেন্ডার, যা সূর্য-সংক্রান্তি নির্ভর সনাতনী পঞ্জিকা থেকে সাধারণত এক-দুই দিন আলাদা হয় — এই কারণেই দুই তারিখ মেলে না।
সূর্য ও চন্দ্রের কৌণিক দূরত্ব ১২ ডিগ্রি অতিক্রম করলে এক তিথি সম্পন্ন হয়। যেহেতু চাঁদের গতি সমান নয়, তিথির দৈর্ঘ্য কম-বেশি হয় এবং একটি তিথি এক ইংরেজি দিনের চেয়ে ছোট বা বড় হতে পারে। তাই পঞ্জিকায় প্রতিটি তিথির শুরু ও শেষের নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ থাকে।
একাদশী, পূর্ণিমা, অমাবস্যা ও সংক্রান্তি হলো পঞ্জিকার বিশেষ দিন। একাদশীতে উপবাস, পূর্ণিমা-অমাবস্যায় বিশেষ পূজা ও তর্পণ এবং সংক্রান্তিতে নতুন মাসের সূচনা — এই সব ঘটনা সঠিকভাবে জানতে দৈনিক তিথি গণনা অপরিহার্য।
MandirBD পঞ্জিকা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতে তিথি, নক্ষত্র, যোগ, করণ ও সূর্য-চন্দ্রের সময় নির্ণয় করে এবং যেখানে সম্ভব অভিজ্ঞ পণ্ডিতের যাচাইয়ের ভিত্তিতে তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিটি দিনের সঙ্গে উৎসের নির্ভরযোগ্যতা ও যাচাই-অবস্থা দেখানো হয়, যাতে ভক্তরা তথ্যের উপর আস্থা রাখতে পারেন।
MandirBD পঞ্জিকায় তিথি, নক্ষত্র, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, রাহুকাল, শুভ সময়, উৎসব, ব্রত ও দৈনিক ধর্মীয় প্রেক্ষাপট থাকতে পারে।
পঞ্জিকাটি বাংলাদেশের ভক্তদের জন্য তৈরি এবং যেখানে তথ্য আছে সেখানে বাংলা ও ইংরেজিতে ক্যালেন্ডার তথ্য দেখায়।
হ্যাঁ। উৎসব ও ইভেন্ট পেজ পঞ্জিকা তারিখের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যাতে ক্যালেন্ডার প্রেক্ষাপট ও মন্দির কার্যক্রম একসাথে দেখা যায়।
বাংলাদেশের সরকারি বাংলা তারিখ একটি সংস্কারকৃত স্থির সৌর ক্যালেন্ডার, আর সনাতনী পঞ্জিকা প্রকৃত সূর্য-সংক্রান্তির উপর নির্ভর করে; তাই সাধারণত এক-দুই দিনের পার্থক্য থাকে।
গণনার ভিত্তিতে মূলত সূর্য সিদ্ধান্ত ও দৃক সিদ্ধান্ত — দুই ধারা। বাংলায় গুপ্তপ্রেস, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও পি. এম. বাগচী পঞ্জিকা জনপ্রিয়।
বিক্রম সংবৎ একটি প্রাচীন ভারতীয় চান্দ্র-সৌর অব্দ, যা খ্রিস্টাব্দের চেয়ে প্রায় ৫৭ বছর এগিয়ে এবং উত্তর ভারত ও নেপালে প্রচলিত।
প্রতি পক্ষের একাদশ তিথিতে একাদশী পালিত হয়, অর্থাৎ মাসে দুবার। MandirBD পঞ্জিকায় প্রতিটি একাদশীর তারিখ ও তিথির সময় দেখা যায়।