মূল বিষয়বস্তুতে যান
তথ্য উপাত্ত

লক্ষ্মী পূজায় কলা লাগে না কেন? কলা, তুলসী, ঘণ্টা ও লোহার নিয়ম

দদেব দেবাশীষ
১৪ অক্টোবর ২০২৬
৯ মিনিট পড়া
০

লক্ষ্মী পূজায় কলা দেওয়া যায়। কলা নিষেধ, এমন কথা কোনো শাস্ত্র, পঞ্জিকা বা পুরোহিতের পূজাপদ্ধতির বইয়ে আমরা পাইনি। বরং বাংলার প্রচলিত বিধিতে ঘটের ওপর একটি কাঁঠালি কলা বা একটি হরীতকী রাখা হয়, ফলের নৈবেদ্যেও কলা থাকে। কোনো পরিবারে কলা না দেওয়ার রীতি থাকলে সেটি সেই পরিবারের রীতি, সবার জন্য নিয়ম নয়।

এই লেখায় কলার পাশাপাশি তুলসী, ঘণ্টা আর লোহার নিয়মও দেখা হয়েছে। প্রতিটি নিয়মের পাশে বলা আছে সেটি শাস্ত্রীয়, প্রচলিত লোকাচার, নাকি আঞ্চলিক বা পারিবারিক রীতি। কোনো পরিবারের নিজস্ব আচারকে ছোট করা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়।

লক্ষ্মী পূজার প্রচলিত বিধিতে কলার জায়গা

বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার যে সংক্ষিপ্ত বিধি পুরোহিত দর্পণের ধারায় চলে আসছে, তার ফর্দে একটি কাঁঠালি কলা অথবা একটি হরীতকী থাকে। ঘট স্থাপনের সময় মাটি ও ধানের ওপর ঘট বসানো হয়, সিঁদুরে স্বস্তিক আঁকা হয়, আমপল্লব দেওয়া হয়। তারপর ঘটের ওপর সেই কলা বা হরীতকী রেখে ফুল দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রচলিত বিধিতে ঘটে কলা রাখার কথাই আছে, কলা না পেলে হরীতকী। ঘট বসানো থেকে প্রণাম পর্যন্ত পুরো ক্রম আছে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার নিয়ম ও পদ্ধতি লেখায়।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপূজার আরও কয়েক জায়গায় কলা বা কলাগাছ আছে:

  • নৈবেদ্য: পাঁচ রকম ফলের মধ্যে সাধারণত কলাও থাকে। এটি প্রচলিত লোকাচার।
  • বৃহস্পতিবারের পাঁচালি: লক্ষ্মীর পাঁচালির একটি প্রচলিত সংস্করণে নিবেদনের জিনিসের মধ্যে কলার উল্লেখ আছে। পাঁচালির নানা সংস্করণ আছে, রচয়িতার নাম জানা যায় না।
  • কলার বেড় বা বের লক্ষ্মী: কলাগাছের খোল গোল করে বেঁধে তার ভেতরে পাঁচ রকম শস্য রাখা হয়, ওপরে একটি সবুজ ডাব। এটি আঞ্চলিক ও পারিবারিক রীতি; গড়ন পরিবারভেদে আলাদা।
  • সপ্ততরী: কলাগাছের খোল দিয়ে গড়া সাতটি নৌকা, যা পুরোনো দিনের বণিকদের বাণিজ্যযাত্রার সঙ্গে জড়ানো। এটিও আঞ্চলিক রীতি।
  • কলাপাতা: অনেক বাড়িতে নৈবেদ্য আর প্রসাদ কলাপাতায় সাজানো হয়। এটিও প্রচলিত রীতি।

যে পূজায় কলাগাছের খোল দিয়েই দেবীর একটি রূপ আর সাতটি নৌকা গড়া হয়, সেখানে কলা নিষেধ করে এমন কোনো লিখিত বিধি আমরা পাইনি। পুরো উপকরণের তালিকা আছে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার ফর্দে।

তাহলে “লক্ষ্মী পূজায় কলা লাগে না” কথাটা কোথা থেকে এল

এর নিশ্চিত উত্তর কোনো সূত্রে নেই। নিচের কারণগুলো সম্ভাব্য, প্রমাণিত নয়:

  • সম্ভাব্য কারণ ১, বৃহস্পতিবারের একটি বিশ্বাস: উত্তর ভারতে অনেকে মনে করেন কলাগাছের সঙ্গে বিষ্ণু বা বৃহস্পতি জড়িত, তাই বৃহস্পতিবার কলা খাওয়া উচিত নয়। বাংলায় বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীবার, তাই কথাটা লক্ষ্মীপূজার সঙ্গে জুড়ে যেতে পারে। ২০২৪ সালের একটি বাংলা অনলাইন প্রতিবেদনও বিশ্বাসটিকে লক্ষ্মীর সঙ্গে জুড়েছিল, তবে কোনো শাস্ত্রবচন দেখায়নি, শুধু বলেছে “মনে করা হয়”। তা ছাড়া সেখানেও কথা কলা খাওয়া নিয়ে, নিবেদন নিয়ে নয়; বিষ্ণুকে কলা নিবেদনে সেই লেখাও আপত্তি করেনি।
  • সম্ভাব্য কারণ ২, পারিবারিক রীতি: কিছু পরিবারে লক্ষ্মীপূজায় কলা না দেওয়াই চলে আসছে। সেটি সেই পরিবারের নিজস্ব আচার।
  • সম্ভাব্য কারণ ৩, অন্য আচারের সঙ্গে গুলিয়ে যাওয়া: এক আচারের কোনো নিষেধ মুখে মুখে ঘুরে অন্য পূজায় এসে পড়া অস্বাভাবিক নয়।

বাংলাদেশের কিছু প্রকাশিত ফর্দে কলা রাখা হয়নি, তাতে ধারণাটা হয়তো আরও ছড়িয়েছে। কিন্তু তালিকায় না থাকা আর নিষেধ এক কথা নয়।

পরিবারে কলা না দেওয়ার রীতি থাকলে

সেই রীতি মানতে পারেন। পরিবারের রীতি মেনে পূজা করলে পূজা অসম্পূর্ণ হয় না। ঘটের ওপর কলার জায়গায় একটি হরীতকী রাখুন; প্রচলিত বিধিতেই এই বিকল্প দেওয়া আছে। নৈবেদ্যে কলার বদলে অন্য মৌসুমি ফল দিন।

আবার যাঁদের বাড়িতে কলা দেওয়া হয়, তাঁরাও প্রচলিত বিধি মেনেই দেন। দুই রীতিই শ্রদ্ধার সঙ্গে পাশাপাশি চলতে পারে। সন্দেহ থাকলে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ বা পুরোহিতের কাছে জেনে নিন।

লক্ষ্মী পূজায় তুলসী পাতা কেন লক্ষ্মীকে দেওয়া হয় না

তুলসী লাগে, তবে লক্ষ্মীর জন্য নয়। ফর্দে দুটি তুলসীপাতা রাখা হয় শুধু নারায়ণের জন্য। পুষ্পাঞ্জলির পরে নারায়ণকে একটি ফুল ও দুটি তুলসীপাতা দেওয়া হয়; ইন্দ্র ও কুবেরকে একটি করে ফুল, আর লক্ষ্মীর বাহন পেঁচাকেও একটি ফুল।

লক্ষ্মীর ঘটে তুলসী না দেওয়া প্রচলিত লোকাচার। এর পেছনে একটি বিশ্বাস আছে: কিছু পৌরাণিক কাহিনিতে তুলসী ও লক্ষ্মীকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এটি বিশ্বাস হিসেবেই চলে আসছে; সরাসরি নিষেধের কোনো শাস্ত্রবচন আমরা পাইনি।

নারায়ণকে তুলসী দেওয়ার পর এই প্রণাম মন্ত্রটি বলতে পারেন (বিষ্ণুপুরাণ ১.১৯.৬৫):

নমো ব্রহ্মণ্যদেবায় গোব্রাহ্মণহিতায় চ।

জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ॥

অর্থ: ব্রাহ্মণ্যদেব, গো ও ব্রাহ্মণের কল্যাণকারী, জগতের হিতকারী কৃষ্ণ গোবিন্দকে বারবার প্রণাম।

লক্ষ্মীর ধ্যান, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম মন্ত্র অর্থসহ আছে লক্ষ্মী পূজার মন্ত্র অর্থসহ লেখায়।

লক্ষ্মী পূজায় ঘণ্টা কেন বাজানো হয় না

বাংলার ঘরে লক্ষ্মীপুজোয় সাধারণত ঘণ্টা বা কাঁসর বাজানো হয় না। তার বদলে শাঁখ বাজানো হয় আর উলুধ্বনি দেওয়া হয়। এটি প্রচলিত লোকাচার; লক্ষ্মীর পাঁচালীতেও এর উল্লেখ আছে, আর পূজার নিয়ম নিয়ে বাংলা প্রতিবেদনগুলোও একই কথা বলে।

ঘণ্টা কেন বাজে না, তার কোনো শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আমরা পাইনি, তাই এখানে কোনো কারণ দাঁড় করানো হলো না। পূজার সময় কথা কম বলা আর ঘরে শান্ত পরিবেশ রাখাও একই ধারার প্রচলিত রীতি।

লক্ষ্মী পূজায় লোহা বা স্টিলের পাত্র কেন নয়

লোকাচারে লোহাকে অলক্ষ্মীর সঙ্গে জড়ানো হয়। তাই লক্ষ্মীপূজায় লোহা বা স্টিলের থালা, বাটি বা অন্য পাত্র ব্যবহার করা হয় না। এটি প্রচলিত লোকাচার; এর পক্ষে কোনো শাস্ত্রবচন আমরা পাইনি। নৈবেদ্য কলাপাতায় সাজাতে পারেন; সূর্যকে জল দেওয়ার জন্য ফর্দে তামার পাত্রের কথাই আছে।

এই বিশ্বাসের ছায়া আছে বাংলার কোজাগরী ব্রতকথায়। কাহিনির একটি প্রচলিত রূপে এক রাজা কথা দেন, তাঁর হাটে যা বিক্রি হবে না, তিনি নিজে কিনে নেবেন। এক কামারের গড়া লোহার অলক্ষ্মীমূর্তি কেউ কেনে না, তাই কথা রাখতে রাজা সেটি কেনেন। এরপর রাজলক্ষ্মী, ভাগ্যলক্ষ্মী, যশোলক্ষ্মী, কুললক্ষ্মী একে একে চলে যান; ধর্ম যেতে চাইলে রাজা তাঁকে ছাড়েন না, তাই ধর্ম থেকে যান। পরে রানি গ্রামের মেয়েদের সঙ্গে কোজাগরী ব্রত করেন: পিটুলির প্রতিমা, নারকেল আর চিঁড়া দিয়ে পূজা, সারা রাত জাগরণ। তারপর সংসারে আবার সমৃদ্ধি ফেরে। সংস্করণভেদে কাহিনির খুঁটিনাটি আলাদা।

লক্ষ্মী পূজার নিয়ম নিয়ে আরও যা শোনা যায়

মুখে মুখে আর সমাজমাধ্যমে আরও কিছু নিয়ম ঘোরে। এগুলোর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র আমরা পাইনি, আর পরিবারভেদে রীতি আলাদা:

  • পূজায় সাদা ফুল দেওয়া যাবে না।
  • পূজার দিন কালো পোশাক পরা যাবে না।
  • সন্ধ্যার পরে ঘর ঝাঁট দেওয়া যাবে না।
  • সেদিন কাউকে টাকা বা জিনিস ধার দেওয়া যাবে না।
  • নৈবেদ্যে লবণ, হলুদ বা তেঁতুল দেওয়া যাবে না।

আপনার পরিবারে এর কোনোটি মানা হলে মানতে পারেন। না মানা হলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। পূজার মূল কথা পরিষ্কার জায়গা, শান্ত মন আর ভক্তি।

লক্ষ্মী পূজার কোন নিয়ম শাস্ত্রীয়, কোনটা লোকাচার

কোজাগরীর শাস্ত্রীয় ভিত্তি লিঙ্গপুরাণের একটি বচন। স্মার্ত রঘুনন্দন তাঁর তিথ্যাদিতত্ত্বে এটি উদ্ধৃত করেছেন, আর রাধাকান্ত দেবের শব্দকল্পদ্রুমে তা ছাপা আছে:

আশ্বিনে পৌর্ণমাস্যাং তু চরেজ্জাগরণং নিশি।

কৌমুদী সা সমাখ্যাতা কার্যা লোকবিভূতয়ে॥

কৌমুদ্যাং পূজয়েল্লক্ষ্মীমিন্দ্রমৈরাবতং স্থিরম্।

সুগন্ধির্নিশি সদ্বেশশ্চাক্ষৈর্জাগরণং চরেৎ॥

নিশীথে বরদা লক্ষ্মীঃ কো জাগর্তীতি ভাষিণী।

তস্মৈ বিত্তং প্রযচ্ছামি অক্ষৈঃ ক্রীড়াং করোতি যঃ॥

অর্থ: আশ্বিনের পূর্ণিমায় রাত জেগে থাকতে হয়; এই রাতের নাম কৌমুদী, জগতের মঙ্গলের জন্য এটি পালনীয়। কৌমুদীতে লক্ষ্মী ও ঐরাবতসহ ইন্দ্রের পূজা করবে; সুগন্ধি মেখে, সুন্দর বেশে, অক্ষক্রীড়ায় রাত জাগবে। মাঝরাতে বরদাত্রী লক্ষ্মী বলেন, “কে জেগে আছ?” — যে জেগে অক্ষক্রীড়া করে, তাকে আমি ধন দিই।

এই শ্লোকগুলোতে কলা, তুলসী, ঘণ্টা বা লোহার কোনো উল্লেখ নেই। অক্ষক্রীড়া মানে পাশা খেলা। এটি রাত জাগার শাস্ত্রীয় আচার; পরিবারের মধ্যে আনন্দের জন্য খেলা হয়, কখনো টাকাপয়সা দিয়ে নয়।

এক নজরে কোন নিয়ম কোন শ্রেণির:

  • শাস্ত্রীয়: আশ্বিন পূর্ণিমার রাতে জাগরণ, লক্ষ্মী ও ঐরাবতসহ ইন্দ্রের পূজা, পরিবারের মধ্যে অক্ষক্রীড়া।
  • শাস্ত্রীয় (পঞ্জিকায় ছাপা): প্রদোষে পূজা; রাতে নারকেলসহ চিঁড়া খাওয়া ও ডাবের জল পান। শব্দকল্পদ্রুমেও দেবতা ও পিতৃপুরুষকে নারকেল-চিঁড়া নিবেদন করে আত্মীয়দের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়ার শ্লোক আছে।
  • প্রচলিত লোকাচার, পুরোহিত দর্পণের ধারার পূজাবিধিতে লেখা: ঘটের ওপর একটি কাঁঠালি কলা বা একটি হরীতকী; নারায়ণকে দুটি তুলসীপাতা।
  • প্রচলিত লোকাচার: ঘণ্টা বা কাঁসর নয়, শাঁখ ও উলুধ্বনি; লক্ষ্মীর ঘটে তুলসী নয়; লোহা বা স্টিলের পাত্র নয়; পূজার সময় কথা কম।
  • প্রচলিত লোকাচার: উপবাস। এটি রীতি, বাধ্যতামূলক নয়; পূজার পরে চিঁড়া আর নারকেল বা ডাবের জল দিয়ে উপবাস ভাঙা হয়।
  • আঞ্চলিক বা পারিবারিক রীতি: দেবীর রূপ, অর্থাৎ প্রতিমা, সরা, ঘট, পট, আড়ি লক্ষ্মী, কলার বেড় বা সপ্ততরী। পুরোহিতদের মতে কোনো একটি রূপ বাধ্যতামূলক নয়।
  • আঞ্চলিক রীতি: নিরামিষ না মাছের ভোগ। পশ্চিমবঙ্গের ঘরে বেশিরভাগ নিরামিষ ভোগ; ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশালের অনেক বাঙাল পরিবারে মাছের ভোগ, কারও কারও জোড়া ইলিশ। তবে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ, তাই এ বছর অন্য মাছ বা নিরামিষ ভোগ।
  • পারিবারিক রীতি: কলা না দেওয়া।
  • নির্ভরযোগ্য সূত্র মেলেনি: সাদা ফুল, কালো পোশাক, সন্ধ্যার পরে ঝাঁট, ধার দেওয়া, নৈবেদ্যে লবণ-হলুদ-তেঁতুল নিয়ে নিষেধ।

প্রশ্নোত্তর

লক্ষ্মী পূজায় কি কলা দেওয়া যায়?

হ্যাঁ। প্রচলিত বিধিতে ঘটের ওপর একটি কাঁঠালি কলা রাখা হয়, নৈবেদ্যের ফলেও কলা থাকে। পরিবারে না দেওয়ার রীতি থাকলে সেটাও মানতে পারেন।

ঘটের ওপর কলা না রাখলে কী রাখব?

একটি হরীতকী। প্রচলিত ফর্দেই কলা অথবা হরীতকী, এই দুইয়ের যেকোনো একটির কথা আছে।

বৃহস্পতিবার কলা খাওয়া কি নিষেধ?

এটি উত্তর ভারতের একটি প্রচলিত বিশ্বাস, বাংলার লক্ষ্মীপূজার বিধি নয়; এর পক্ষে কোনো শাস্ত্রবচন আমরা পাইনি। পরিবারে মানা হলে মানতে পারেন। বৃহস্পতিবারের পূজার ক্রম আছে প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মী পূজার নিয়ম লেখায়।

লক্ষী পূজায় তুলসী পাতা কি একেবারেই লাগে না?

লাগে, তবে নারায়ণের জন্য। দুটি তুলসীপাতা নারায়ণকে দেওয়া হয়; লক্ষ্মীর ঘটে তুলসী দেওয়া হয় না। এটি প্রচলিত লোকাচার।

বাড়িতে শুধু স্টিলের থালা আছে, তাহলে?

নৈবেদ্য কলাপাতায় সাজিয়ে নিতে পারেন। কোনো জিনিস না থাকলে যা আছে তা দিয়েই পূজা সম্পূর্ণ; মনে মনে নিবেদন, অর্থাৎ মানস পূজাও গ্রহণযোগ্য।

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ২০২৬ কবে, পূর্ণিমা আর পূজার সময় কখন?

৭ কার্তিক ১৪৩৩, রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬)। বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা মতে পূর্ণিমা লাগবে ৭ কার্তিক (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে, ছাড়বে ৮ কার্তিক (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে; পূজা প্রদোষে, সন্ধ্যা ৫টা ৩১ মিনিট থেকে ৭টা ৭ মিনিট। এগুলো বাংলাদেশ সময়। পঞ্জিকায় সময় ভারতীয় সময়ে ছাপা; বাংলাদেশ সময়ে ৩০ মিনিট যোগ করে দেওয়া হলো। ভারতীয় সময়ে লেখা কোনো সময় দেখলে তার সঙ্গেও ৩০ মিনিট যোগ করে নিন।

মন্দিরবিডির পঞ্জিকার দৃক্‌ গণনায় পূর্ণিমা ৭ কার্তিক (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২৬ মিনিট থেকে ৮ কার্তিক (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১১ মিনিট পর্যন্ত, বাংলাদেশ সময়ে। আপনার মন্দির বা পরিবার যে পঞ্জিকা মানে, সেই মতে পুরোহিতের কাছে মিলিয়ে নিন। বিস্তারিত আছে কোজাগরি লক্ষ্মীপূজার সময় লেখায় আর মন্দিরবিডির পঞ্জিকায়।

এই বিষয়ে আরও পড়ুন

সূত্র

পঞ্জিকার সময় স্থানভেদে সামান্য বদলাতে পারে। চূড়ান্ত সময় ও পারিবারিক রীতির প্রশ্নে নিজের মন্দির ও পুরোহিতের কাছে মিলিয়ে নিন।

মতামত দিন

মতামত দিতে লগইন করুন।

0 টি মতামত

কোনো মতামত নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!