প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মী পূজার নিয়ম সহজ: সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালার পর (সকালে করলে সকাল ৯টার মধ্যে) জল ছিটিয়ে শুদ্ধ হয়ে ঘটের সামনে বসুন, নামমন্ত্র বলে চন্দন, ফুল, ধূপ, দীপ ও নৈবেদ্য দিন, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম সেরে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়ুন, শেষে শাঁখ বাজিয়ে উলু দিন। দশ মিনিটেই হয়, তিথি-নক্ষত্র দেখতে হয় না।
এই পূজার বেশিরভাগ নিয়মই ঘরোয়া প্রচলন, কোনো শাস্ত্রের বাঁধা বিধান নয়। তাই নিচে যেখানে দরকার, বলে দেওয়া হয়েছে কোনটি শাস্ত্রীয়, কোনটি প্রচলিত লোকাচার, আর কোনটি পারিবারিক রীতি। আপনার বাড়ির রীতি আলাদা হলে সেটাই মানুন।
বৃহস্পতিবার কেন লক্ষ্মীবার
বাংলার হিন্দু ঘরে বৃহস্পতিবারকে লক্ষ্মীবার বলা হয়। এই সাপ্তাহিক পূজার ভিত্তি কোনো সংস্কৃত শাস্ত্রের বিধান নয়; এটি এসেছে বাংলার ব্রতকথার ধারা থেকে। লক্ষ্মীর পাঁচালির গল্পে দেবী নিজেই এক দুঃখী পরিবারকে বৃহস্পতিবারের ব্রত শেখান, আর সেই গল্প ধরেই ঘরে ঘরে এই দিনে পূজা চলে আসছে। অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীপুজো একটি প্রচলিত লোকাচার।
এই পূজায় কোনো তিথি বা নক্ষত্র মেলাতে হয় না। সপ্তাহের বৃহস্পতিবারটিই যথেষ্ট।
বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী পূজা কে করবেন, কখন করবেন
- কে করবেন: প্রচলিতভাবে বাড়ির বিবাহিত মহিলারা এই পূজা করেন। তবে যে কেউ করতে পারেন, পুরোহিতের দরকার হয় না। (প্রচলিত লোকাচার)
- কখন করবেন: সাধারণত সন্ধ্যায়, ঘরে প্রদীপ জ্বালার পর। সকালে করতে চাইলে সকাল ৯টার মধ্যে সেরে নেওয়ার চল আছে। (প্রচলিত লোকাচার)
- ঘড়ির হিসাব: এই সময় কোনো পঞ্জিকা থেকে নেওয়া নয়, তাই নিজের ঘড়ির সন্ধ্যা বা সকাল ৯টাই ধরুন। কলকাতার পঞ্জিকার সময় ভারতীয় সময়ে ছাপা হয়, আর তিথিনির্ভর পূজায় বাংলাদেশে তার সঙ্গে ৩০ মিনিট যোগ করতে হয়; বৃহস্পতিবারের পূজায় এই হিসাবের দরকার নেই।
প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মী পূজার উপকরণ (অল্প ফর্দ)
সাপ্তাহিক পূজায় বড় আয়োজন লাগে না। প্রচলিত ঘরোয়া ফর্দ:
- ঘট, আর তার নিচে দেওয়ার জন্য একটু মাটি ও এক মুঠো ধান
- আমপল্লব: বিজোড় পাতার একটি ডাল
- সিঁদুর, ঘটে স্বস্তিক আঁকার জন্য
- ফুল ও দূর্বা
- দুটি তুলসীপাতা, শুধু নারায়ণের জন্য
- একটি কাঁঠালি কলা অথবা একটি হরীতকী, ঘটের ওপর রাখার জন্য
- চন্দন ও আতপ চাল
- গঙ্গাজল বা পরিষ্কার জল, শুদ্ধির জন্য
- ধূপ ও প্রদীপ
- নৈবেদ্য: বাতাসা, ফল, নাড়ু
- শাঁখ, আর লক্ষ্মীর পাঁচালির বই
সব জিনিস না থাকলেও চলে। যা আছে তা দিয়েই পূজা সম্পূর্ণ, আর কোনো উপকরণ না থাকলে মনে মনে নিবেদন করা, অর্থাৎ মানস পূজাও গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হয়। কোজাগরীর বড় ফর্দ দেখতে চাইলে পড়ুন কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার ফর্দ।
ঘট পাতা ও প্রতি সপ্তাহে আমপল্লব বদল
অনেক বাড়িতে লক্ষ্মীর আসনে ঘট পাতা থাকে। ঘট বসানোর প্রচলিত নিয়ম:
- আসনে একটু মাটি রেখে তার ওপর ধান ছড়িয়ে দিন, তার ওপর ঘট বসান।
- ঘটের গায়ে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক আঁকুন।
- ঘটে বিজোড় পাতার আমপল্লব দিন।
- ঘটের ওপর একটি কাঁঠালি কলা বা একটি হরীতকী রাখুন, সঙ্গে ফুল।
প্রতি বৃহস্পতিবার পুরোনো আমপল্লব সরিয়ে নতুন পল্লব দেওয়ার চল আছে (প্রচলিত লোকাচার)।
ঘটের পাশে কেউ লক্ষ্মীর ছবি বা পট রাখেন, কেউ সরা, কেউ ছোট প্রতিমা। এটি পারিবারিক রীতি; কোনো নির্দিষ্ট রূপ বাধ্যতামূলক নয়।
১০ মিনিটে বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী পূজা: ধাপে ধাপে
নিচে প্রচলিত ঘরোয়া ক্রম দেওয়া হলো। পরিবারভেদে দু-একটি ধাপ আগে-পরে হতে পারে।
- শুদ্ধি: গঙ্গাজল বা পরিষ্কার জল মাথায় ও আসনে ছিটিয়ে নারায়ণকে স্মরণ করুন।
- ঘট ও প্রদীপ: ঘটের সামনে প্রদীপ জ্বালুন।
- ধ্যান: চোখ বুজে দেবীর রূপ মনে আনুন। ধ্যানমন্ত্র জানলে বলুন।
- উপচার: প্রতিবার নামমন্ত্র বলে একে একে চন্দন, ফুল, ধূপ, দীপ ও নৈবেদ্য দিন। এই পাঁচটিকে একসঙ্গে পঞ্চোপচার বলে।
- পুষ্পাঞ্জলি: মন্ত্র বলে এক, তিন বা পাঁচবার অঞ্জলি দিন।
- নারায়ণকে তুলসী: নারায়ণকে একটি ফুল ও দুটি তুলসীপাতা দিন।
- প্রণাম: প্রণাম মন্ত্র বলে প্রণাম করুন। দীক্ষা থাকলে তার আগে গুরুমন্ত্র জপ করে নিতে পারেন।
- পাঁচালি পাঠ: একজন পড়েন, বাকিরা হাতে দূর্বা নিয়ে শোনেন।
- শাঁখ ও উলু: পাঠ শেষে শাঁখ বাজান, উলু দিন।
- প্রসাদ: নৈবেদ্য প্রসাদ হিসেবে সবার মধ্যে ভাগ করে দিন।
প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মী পূজার মন্ত্র
সাপ্তাহিক পূজা এই তিনটি মন্ত্রেই সারা যায়। সংস্কৃত উচ্চারণ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই; মন্ত্র না জানলে বাংলায় অর্থটি ভক্তি নিয়ে বললেও পূজা সম্পূর্ণ হয়।
নামমন্ত্র (প্রতিটি উপচারে)
ওঁ শ্রীং লক্ষ্মীদেব্যৈ নমঃ
অর্থ: দেবী লক্ষ্মীকে প্রণাম।
পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র
ওঁ নমস্তে সর্বদেবানাং বরদাসি হরিপ্রিয়ে।
যা গতিস্ত্বৎপ্রপন্নানাং সা মে ভূয়াত্ত্বদর্চনাৎ॥
এষ সচন্দনপুষ্পাঞ্জলিঃ ওঁ শ্রীং লক্ষ্মীদেব্যৈ নমঃ॥
অর্থ: হে হরিপ্রিয়া, তুমি সব দেবতাকে বর দাও, তোমায় প্রণাম। যারা তোমার শরণ নেয় তারা যে গতি পায়, তোমার পূজায় আমারও যেন তা-ই হয়। এই চন্দনমাখা ফুলের অঞ্জলি দেবী লক্ষ্মীকে নিবেদন করি।
প্রণাম মন্ত্র
ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মি নমোঽস্তু তে॥
অর্থ: হে পদ্মা, পদ্মে যাঁর বাস, হে শুভা, তুমি বিশ্বরূপ বিষ্ণুর পত্নী। হে দেবী, সব দিক থেকে আমাকে রক্ষা করো; মহালক্ষ্মী, তোমাকে প্রণাম।
ধ্যানমন্ত্র, নারায়ণের প্রণাম মন্ত্র ও অন্য মন্ত্রগুলো অর্থসহ পাবেন লক্ষ্মী পূজার মন্ত্র অর্থসহ লেখায়।
লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠের নিয়ম ও গল্পের সংক্ষেপ
প্রণামের পর লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়া হয়। একজন পড়েন, বাকিরা হাতে দূর্বা নিয়ে মন দিয়ে শোনেন। পাঠ শেষ হলে শাঁখ বাজানো ও উলু দেওয়া হয়। (প্রচলিত লোকাচার)
পাঁচালির কয়েকটি রূপ চালু আছে, পাঠে পাঠে তফাতও আছে, আর এর লেখকের নাম জানা যায় না। একটি জনপ্রিয় রূপের গল্প সংক্ষেপে এ রকম:
- দেবর্ষি নারদ লক্ষ্মীকে মর্ত্যের মানুষের দুঃখকষ্টের কথা জানান।
- লক্ষ্মী অবন্তীর কাছে নেমে আসেন। সেখানে দেখা হয় ধনেশ্বর নামে এক বণিকের বিধবা স্ত্রীর সঙ্গে, যাঁর সংসার তখন ভেঙে গেছে।
- দেবী তাঁকে বৃহস্পতিবারের ব্রত শেখান। ব্রত পালনের পর সেই ভাঙা সংসার আবার জোড়া লাগে।
- এক বণিক এই ব্রত নিয়ে উপহাস করে সব হারান; পরে অনুতপ্ত হলে তাঁর অবস্থা ফেরে।
বাড়ির বাইরে বা প্রবাসে থাকলে কী করবেন
কাজে বাইরে থাকলে বা প্রবাসে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূজা করা না গেলে, অনেক পরিবার দেবীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে ছুটির দিনে পূজাটি করেন। (প্রচলিত লোকাচার)
পূজা যেহেতু সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালার পর, প্রবাসে যেখানে আছেন সেখানকার সন্ধ্যাই ধরুন; বাংলাদেশ বা ভারতের ঘড়ির সঙ্গে মেলানোর দরকার নেই। ঘট বসানোর জায়গা না থাকলে লক্ষ্মীর একটি ছবির সামনে প্রদীপ জ্বেলেও পূজা করা যায়।
বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী পূজায় যা করবেন না
নিচের নিয়মগুলো প্রচলিত লোকাচার। এগুলোর পক্ষে কোনো শাস্ত্রবচন পাওয়া যায় না, তবে অনেক বাঙালি ঘরে মানা হয়।
- ঘণ্টা বা কাঁসর বাজানো হয় না; তার বদলে শাঁখ বাজানো ও উলু দেওয়া হয়।
- লক্ষ্মীর ঘটে তুলসী দেওয়া হয় না, তুলসী নারায়ণের জন্য। লোকবিশ্বাসে এর কারণ হিসেবে বলা হয়, পুরাণের কিছু গল্পে তুলসী ও লক্ষ্মী পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী।
- লোহা বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা হয় না। লোকবিশ্বাসে লোহাকে অলক্ষ্মীর সঙ্গে জড়ানো হয়।
- পূজার সময় কথা কম, পরিবেশ শান্ত রাখা হয়।
এ ছাড়া সাদা ফুল না দেওয়া, সন্ধ্যার পর ঝাঁট না দেওয়া বা ধার না দেওয়ার মতো আরও কিছু কথা শোনা যায়। এগুলোর নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি; পরিবারভেদে রীতি আলাদা। বিস্তারিত পড়ুন লক্ষ্মী পূজায় কলা লাগে না কেন? কলা, তুলসী, ঘণ্টা ও লোহার নিয়ম।
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার সঙ্গে পার্থক্য কী
- দিন: বৃহস্পতিবারের পূজা প্রতি সপ্তাহে; কোজাগরী বছরে একবার, আশ্বিনের পূর্ণিমার রাতে।
- ভিত্তি: কোজাগরীতে রাত জাগা ও লক্ষ্মীপূজার বিধান শাস্ত্রীয় (লিঙ্গপুরাণের বচন, রঘুনন্দনের তিথ্যাদিতত্ত্বে উদ্ধৃত); বৃহস্পতিবারের পূজা ব্রতকথার ধারা থেকে আসা লোকাচার।
- সময়: বৃহস্পতিবারের পূজা নিজের ঘড়ির সন্ধ্যায়; কোজাগরীর পূজা পঞ্জিকা দেখে, প্রদোষকালে। ২০২৬ সালে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ৭ কার্তিক ১৪৩৩, রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬); বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা মতে পূজার সময় সন্ধ্যা ৫টা ৩১ মিনিট থেকে ৭টা ৭ মিনিট (বাংলাদেশ সময়)। পঞ্জিকায় সময় ভারতীয় সময়ে ছাপা; বাংলাদেশ সময়ে ৩০ মিনিট যোগ করে দেওয়া হলো।
- আয়োজন: বৃহস্পতিবারে ছোট ঘটপূজা; কোজাগরীতে সন্ধ্যার পূজার পর রাত জাগা, চিঁড়া–নারকেল খাওয়া, সরা বা প্রতিমায় পূজা আর বড় ভোগ।
আপনার মন্দির বা পরিবার যে পঞ্জিকা মানে, সেই মতে চলুন, আর সময় পুরোহিতের কাছে মিলিয়ে নিন। কোজাগরীর পুরো পদ্ধতি আছে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার নিয়ম ও পদ্ধতি লেখায়, আর দুই পঞ্জিকা মতে পূর্ণিমা তিথি ও পূজার সময় পাবেন কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার তারিখ ও সময় লেখায়।
বছরের অন্য লক্ষ্মীপূজা কবে
- ভাদ্র, পৌষ ও চৈত্র মাসে: অনেক পরিবারে লক্ষ্মীপূজা হয়; কোথাও মাসের সংক্রান্তিতে, কোথাও শুক্লপক্ষের বৃহস্পতিবারে। (পারিবারিক রীতি)
- কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা: আশ্বিনের পূর্ণিমার রাতে।
- দীপান্বিতা লক্ষ্মীপূজা: কালীপূজার রাতে; পশ্চিমবঙ্গের পরিবারে বেশি প্রচলিত (আঞ্চলিক রীতি)। ২০২৬ সালে এই পূজা ২১ কার্তিক, রবিবার (৮ নভেম্বর)।
প্রশ্নোত্তর
বৃহস্পতিবার লক্ষ্মী পূজা কি সকালে করা যায়?
যায়। প্রচলিত মতে সকালে করলে সকাল ৯টার মধ্যে সেরে নিন। তবে বেশিরভাগ ঘরে সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালার পরই পূজা হয়।
বৃহস্পতিবারের পূজায় কি পঞ্জিকার সময় বা তিথি দেখতে হয়?
না। এই পূজায় তিথি, নক্ষত্র বা পঞ্জিকার ছাপা সময় মেলাতে হয় না; নিজের ঘড়ির সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালার পর করলেই হয়। ভারতীয় সময়ে ছাপা পঞ্জিকার সময়ের সঙ্গে ৩০ মিনিট যোগ করার হিসাব লাগে কোজাগরীর মতো তিথিনির্ভর পূজায়।
পুরুষেরা কি বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী পূজা করতে পারেন?
পারেন। প্রচলিতভাবে বাড়ির বিবাহিত মহিলারা এই পূজা করেন, তবে যে কেউ ভক্তি নিয়ে করতে পারেন।
বৃহস্পতিবার কি কলা দেওয়া বা খাওয়া নিষেধ?
পূজায় কলা দেওয়া নিষেধ নয়। কোনো শাস্ত্র, পঞ্জিকা বা পুরোহিতের পূজাপদ্ধতিতে লক্ষ্মীপূজায় কলা বারণের কথা পাওয়া যায়নি। বাংলার প্রচলিত বিধিতে ঘটের ওপর একটি কাঁঠালি কলা বা একটি হরীতকী রাখা হয়, আর বৃহস্পতিবারের পাঁচালিতেও নৈবেদ্যে কলার কথা আছে।
বৃহস্পতিবার কলা না খাওয়ার কথাটি সম্ভবত উত্তর ভারতের একটি বিশ্বাস থেকে এসেছে, যেখানে কলাগাছকে বিষ্ণু ও বৃহস্পতির সঙ্গে যুক্ত মনে করা হয়। যে লেখায় এই বিশ্বাসের কথা আছে, সেখানেও বিষ্ণুকে কলা নিবেদন করা যায় বলা হয়েছে। পরিবারে কলা না দেওয়ার রীতি থাকলে সেটা মানতে পারেন। বিস্তারিত: লক্ষ্মী পূজায় কলা লাগে না কেন।
কোনো বৃহস্পতিবার পূজা করা না গেলে কী করব?
অনেক পরিবার দেবীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে পরের ছুটির দিনে পূজা করেন।
মন্ত্র না জানলে কি পূজা হবে?
হবে। ওপরে দেওয়া নামমন্ত্রটি বলে উপচার দিন; সেটিও মনে না থাকলে বাংলায় মনের কথা বলে নিবেদন করুন। সংস্কৃত ছাড়া ভক্তি নিয়ে করা পূজাও সম্পূর্ণ।
এই বিষয়ে আরও পড়ুন
- মন্দিরবিডিতে লক্ষ্মীপূজার পাতা
- দেবী লক্ষ্মী
- কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ২০২৬: তারিখ, পূর্ণিমা তিথি ও পূজার সময় (বাংলাদেশ সময়ে)
- কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার নিয়ম ও পদ্ধতি: পুরোহিত ছাড়াই বাড়িতে ধাপে ধাপে
- কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার ফর্দ: সম্পূর্ণ উপকরণ তালিকা
- লক্ষ্মী পূজার মন্ত্র অর্থসহ: ধ্যান, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম মন্ত্র
- লক্ষ্মী পূজায় কলা লাগে না কেন? কলা, তুলসী, ঘণ্টা ও লোহার নিয়ম
সূত্র
- বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা, সন ১৪৩৩, পৃষ্ঠা ২০০–২০১: কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার প্রদোষকাল (ভারতীয় সময়ে ছাপা)।
- বঙ্গভারতী, প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা (পুরোহিত দর্পণ অনুযায়ী): bangabharati.wordpress.com
- বাংলাপিডিয়া, লক্ষ্মীপূজা: bn.banglapedia.org
- বাংলা উইকিপিডিয়া, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা: bn.wikipedia.org
- শব্দকল্পদ্রুম (রাধাকান্ত দেব), "কোজাগর": sanskrit-lexicon.uni-koeln.de
- আজতক বাংলা, পুরোহিত ছাড়া স্ত্রী-আচারে লক্ষ্মীপূজা (২০২১): bangla.aajtak.in
- সংবাদ প্রতিদিন, লক্ষ্মীপূজায় যে ভুল করবেন না: sangbadpratidin.in
- TV9 বাংলা, বৃহস্পতিবার কলা খাওয়া নিয়ে বিশ্বাস (২০২৪): tv9bangla.com
নিজের পরিবারের রীতি আলাদা হলে বাড়ির প্রবীণদের বা পুরোহিতের কাছে জেনে নিন।
Leave a Comment
Please login to leave a comment.
0 Comments
No comments yet. Be the first to comment!