দেবী কালী হলেন হিন্দুধর্মের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী মহাশক্তি বা দেবী। তিনি আদি পরাশক্তি এবং দশমহাবিদ্যার প্রথম ও প্রধান রূপ হিসেবে পূজিত হন। 'কালী' শব্দটি সংস্কৃত 'কাল' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ সময়, পরিবর্তন, মৃত্যু বা অন্ধকার। তিনি কাল বা সময়ের অতীত, তাই তিনি কালীতীতা। দেবী কালীর বাহ্যিক রূপ অত্যন্ত রহস্যময়, ভয়াল এবং গভীর আধ্যাত্মিক প্রতীকীবাদে সমৃদ্ধ। সাধারণত তাঁকে কৃষ্ণবর্ণা বা ঘন নীল গাত্রবর্ণে চিত্রিত করা হয়, যা অনন্ত মহাবিশ্ব, পরম শূন্যতা এবং সৃষ্টির আদিম অবস্থার প্রতীক, যেখানে সমস্ত সৃষ্টি লীন হয়ে যায়। তাঁর আলুলায়িত বা মুক্ত কেশ মুক্ত চেতনার প্রতীক, যা সামাজিক বন্ধন ও মায়ার অতীত। চতুর্ভুজা দেবীর বামহস্তদ্বয়ে রয়েছে রক্তমাখা খড়্গ এবং অসুরমুণ্ড, যা যথাক্রমে আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং মানুষের অহংকারের বিনাশ নির্দেশ করে। ডানহস্তদ্বয়ে রয়েছে অভয় ও বরদা মুদ্রা, যা তাঁর পরম ভক্তদের ভয় থেকে মুক্তি এবং কাঙ্ক্ষিত आशीर्वाद প্রদান করে। দেবীর গলায় শোভা পায় পঞ্চাশটি নরমুণ্ডের মালা, যা সংস্কৃত বর্ণমালার পঞ্চাশটি অক্ষরের প্রতীক এবং সৃষ্টির আদি শব্দতরঙ্গকে নির্দেশ করে। তাঁর কটিদেশে রয়েছে কাটা মানুষের হাতের কোমরবন্ধনী, যা মানুষের সমস্ত কর্মফলের প্রতীক এবং নির্দেশ করে যে সমস্ত কর্ম অবশেষে দেবীতেই সমর্পিত হয়। দেবী কালী শান্ত ও ধ্যানমগ্ন মহাদেব শিবের বক্ষের ওপর দণ্ডায়মান। এই রূপটি পুরুষ ও প্রকৃতির শাশ্বত মিলন এবং নিষ্ক্রিয় পরম চেতনার ওপর সক্রিয় আদি শক্তির আধিপত্যকে প্রকাশ করে। তিনি কেবল বিনাশের দেবী নন, বরং তিনি পরম করুণাময়ী বিশ্বজননী মাতা যিনি তাঁর সন্তানদের সমস্ত অশুভ শক্তি, ভয়, রোগ এবং অজ্ঞানতা থেকে রক্ষা করেন। তান্ত্রিক সাধনায় এবং শাক্ত ঐতিহ্যে দেবী কালীর আরাধনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর বিভিন্ন রূপ যেমন দক্ষিণা কালী, শ্মশান কালী, ভদ্রকালী, রক্ষা কালী এবং মহাকালী বিভিন্ন উদ্দেশ্যে পূজিত হন। বিশেষত বাংলায় কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা কালীপূজা অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, যা আলোর উৎসবের মাধ্যমে অন্ধকার দূর করার প্রতীক।
এক নজরে
পরিচয়
অস্ত্র
খড়গ, ত্রিশুল
সঙ্গী
মহাদেব
পূজা ও উপাসনা
প্রধান উৎসব
শ্যামা পূজা
পূজার দিন
অমাবস্যা
পবিত্র ফুল
রক্তজবা
পবিত্র রঙ
রক্তিম লাল
পরিচিতি
পৌরাণিক কাহিনি
দেবী কালীর উৎপত্তি ও লীলাকাহিনী হিন্দু ধর্মগ্রন্থ, বিশেষ করে 'দেবীমাহাত্ম্যম্' বা 'শ্রীশ্রীচণ্ডী'-তে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। পুরাণের কাহিনী অনুযায়ী, একবার চণ্ড ও মুণ্ড নামক দুই শক্তিশালী অসুর দেবী অম্বিকার (দুর্গা) ওপর আক্রমণ চালায়। অসুরদের এই ঔদ্ধত্য দেখে দেবীর ভ্রূকুটি কুটিল ললাট থেকে এক পরম তেজস্বী ও ভয়ঙ্করী দেবীর আবির্ভাব ঘটে, যিনি হলেন কালী। তাঁর এই রূপ ছিল কৃষ্ণবর্ণা, লোলজিহ্বা এবং হাতে খড়্গ ও পাশ ধারণকারী। তিনি মুহূর্তের মধ্যে চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করেন এবং তাদের ছিন্ন মস্তক দেবী অম্বিকার চরণে উৎসর্গ করেন। এই বীরত্বের জন্য দেবী অম্বিকা তাঁকে 'চামুণ্ডা' নামে ভূষিত করেন। দেবী কালীর সর্বাধিক পরিচিত পৌরাণিক কাহিনীটি হলো রক্তবীজ বধের ঘটনা। রক্তবীজ নামক এক শক্তিশালী অসুরের বর ছিল যে, তার শরীর থেকে এক ফোঁটা রক্ত মাটিতে পড়লে সেখান থেকে সমকক্ষ আরও এক হাজার রক্তবীজ অসুরের জন্ম হবে। এই বরের কারণে দেবতারা তাকে পরাজিত করতে পারছিলেন না। তখন দেবী কালী যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন। তিনি তাঁর বিশাল খড়্গ দিয়ে রক্তবীজকে আঘাত করেন এবং তার শরীর থেকে নিঃসৃত সমস্ত রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই নিজের জিহ্বা প্রসারিত করে পান করে নেন। এভাবে তিনি রক্তবীজের বংশবৃদ্ধি রোধ করেন এবং তাকে সম্পূর্ণভাবে বিনাশ করেন। রক্তবীজ বধের পর দেবী কালী অত্যন্ত ক্রোধোন্মত্ত হয়ে এক প্রলয়ঙ্করী নৃত্য শুরু করেন। তাঁর এই তাণ্ডব নৃত্যের তীব্রতায় সমগ্র সৃষ্টি ও স্বর্গলোক কেঁপে ওঠে। দেবতারা ভীত হয়ে মহাদেব শিবের শরণাপন্ন হন। সৃষ্টিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে শিব শান্তভাবে কালীর নৃত্যপথে শুয়ে পড়েন। উন্মত্ত নৃত্যের একপর্যায়ে কালী যখন অসাবধানতাবশত শিবের বুকে পা রাখেন, তখন তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। লজ্জায় ও বিস্ময়ে তাঁর জিহ্বা নির্গত হয় এবং তাঁর ক্রোধ শান্ত হয়। এই পৌরাণিক ঘটনাটি পরম চেতনার দ্বারা আদি শক্তির নিয়ন্ত্রণের আধ্যাত্মিক সত্যকে প্রকাশ করে। দেবী কালী এভাবেই জগতের কল্যাণ সাধন করেন। এছাড়াও শ্রীশ্রীচণ্ডীর প্রথমা চরিতে মধু-কৈটভ বধের উদ্দেশ্যে ব্রহ্মার স্তবে দেবী মহামায়া যোগনিদ্রা রূপ ত্যাগ করে মহাকালী রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যা সৃষ্টির আদি লগ্নে তাঁর অপরিসীম গুরুত্বকে প্রমাণ করে।
মন্ত্র
ওঁ ক্রীঁ কাল্ল্যৈ নমঃ
ধ্যান মন্ত্র:
ওঁ করালবদনাং ঘোরাং মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাং। কালিকাং দক্ষিণাং দিব্যাং মুণ্ডমালা বিভূষিতাম্॥
পালনীয় দিন
সম্পর্কিত উৎসব
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

দীপান্বিতা লক্ষ্মী পূজা ও অলক্ষ্মী বিদায় ২০২৬: নিয়ম, সময় ও কারা করেন
দীপাবলির সন্ধ্যায় দীপান্বিতা লক্ষ্মী পূজা, তার আগে অলক্ষ্মী পূজা ও বিদায়। ২০২৬ সালে ২১ কার্তিক, রবিবার (৮ নভেম্বর), বিকেল ৫টা ২৩ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিট। অলক্ষ্মী কে, বিদায়ের প্রচলিত নিয়ম, আর কারা এই পূজা করেন।
প্রবন্ধ পড়ুন
দীপাবলি ও কালী পূজার শুভেচ্ছা বার্তা ২০২৬: ক্যাপশন, স্ট্যাটাস ও ছোট বার্তা
শুভ দীপাবলি ও শ্যামা পূজার শুভেচ্ছা বার্তা: পরিবার, বন্ধু, প্রবাসী প্রিয়জন আর প্রয়াত স্বজনের স্মরণে ছোট বার্তা, ফেসবুক ক্যাপশন ও স্ট্যাটাস। সব মন্দিরবিডির নিজের লেখা, কপি করে পাঠান।
প্রবন্ধ পড়ুন
কালী পূজা ২০২৬ কত তারিখ: শ্যামা পূজার তারিখ ও সময়
কালী পূজা ২০২৬ পঞ্জিকা মতে ২১ কার্তিক ১৪৩৩, রবিবার (৮ নভেম্বর)। শ্যামা পূজা ও দীপাবলি একই রাতে, পূজা মধ্যরাতে। অমাবস্যা প্রচলিত ও দৃক্ দুই গণনায়, ঢাকার নিশীথকাল, ভূত চতুর্দশী, সরকারি ছুটি আর ভাইফোঁটা, সব বাংলাদেশ সময়ে।
প্রবন্ধ পড়ুনএখনো কোনো উত্তর নেই
এই বিষয়ে প্রশ্ন করুন →মন্দির ডিরেক্টরি
কালী-এর মন্দিরসমূহ
কালী-এর সঙ্গে যুক্ত যাচাইকৃত MandirBD মন্দির প্রোফাইল ফিল্টার করুন।
খুঁজুন ও ফিল্টার করুন

উত্তর চন্দ্র দাস পাড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দির

উলপুর সার্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মাতার মন্দির

গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি

গোলপাহাড় মহাশ্মশান কালীবাড়ি

ঘোড়াবান্ধা ক্ষত্রিপাড়া কালী ও দূর্গা মন্দির

চন্দ্রনাথ মন্দির

জয় কালী মন্দির
টেপাখোলা কালীবাড়ী সার্বজনীন মন্দির

দক্ষিণ বাইন বাড়িয়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির

দিঘীরপাড় সার্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দির

বাণী তীর্থ গ্রন্থাগারের পূজা মন্দির

