মূল বিষয়বস্তুতে যান
চন্দ্রনাথ মন্দির, সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম
যাচাইকৃতঐতিহ্যবাহী

চন্দ্রনাথ মন্দির, সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম

Chandranath Temple

প্রতিষ্ঠিত1200৯৪বার দেখা হয়েছে১চেক-ইন১সংরক্ষিত
দিকনির্দেশনা

দর্শনের আগে

সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম

সব দিনের খোলার সময়
  • রবিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • সোমবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • মঙ্গলবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • বুধবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • বৃহস্পতিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • শুক্রবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • শনিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০

তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদ ১ নভে ২০২৬

বিবরণ

চন্দ্রনাথ মন্দিরের পবিত্রতার শেকড় প্রোথিত রয়েছে হিন্দু পুরাণের এক সুগভীর ও বেদনাবিধুর আখ্যানে। পুরাণ মতে, সত্যযুগে প্রজাপতি দক্ষের মহাযজ্ঞে দেবাদিদেব মহাদেবকে অপমান করা হলে, দেবী সতী সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে যজ্ঞকুণ্ডে আত্মাহুতি দেন। প্রাণহীনা স্ত্রীর শোকে উন্মত্ত মহাদেব সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন। সৃষ্টির ধ্বংস রোধ করতে ভগবান বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত করেন। এই খণ্ডগুলো ভারত উপমহাদেশের যে যে স্থানে পতিত হয়েছিল, সেগুলোই আজ 'শক্তিপীঠ' বা 'সতীপীঠ' নামে পরিচিত।
বিশ্বাস করা হয়, সীতাকুণ্ডের এই চন্দ্রনাথ পাহাড়ে দেবী সতীর ডান হাত (দক্ষিণ হস্ত) পতিত হয়েছিল। সেই হিসেবে চন্দ্রনাথ ধাম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি সতীপীঠ। পাহাড়ের পাদদেশে দেবী ভবানী এবং চূড়ায় শিব বা চন্দ্রনাথ—এই দুইয়ের উপস্থিতির কারণে স্থানটি শাক্ত এবং শৈব—উভয় সম্প্রদায়ের সাধকদের কাছেই সমানভাবে পূজনীয়। এখানে এলে শিব ও শক্তির এক পরম ঐশ্বরিক যুগলবন্দি অনুভব করা যায়। একদিকে শক্তিরূপিণী মায়ের মাতৃসুলভ আশ্রয়, অন্যদিকে দেবাদিদেবের বৈরাগ্য ও প্রশান্তি—এই দুই ধারার এক আশ্চর্য মেলবন্ধন ঘটেছে চন্দ্রনাথ ধামে।


পুণ্যতীর্থের প্রবেশদ্বার: ব্যাসকুণ্ড থেকে শুরু হওয়া এক আধ্যাত্মিক যাত্রা
চন্দ্রনাথ মন্দিরে পৌঁছানোর যাত্রাটি কেবল একটি শারীরিক আরোহণ নয়, এটি মূলত আত্মশুদ্ধির এক আধ্যাত্মিক যাত্রা। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত মূল মন্দিরে যাওয়ার আগে পাহাড়ের পাদদেশে বেশ কয়েকটি পবিত্র স্থান অতিক্রম করতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো 'ব্যাসকুণ্ড'। পৌরাণিক কিংবদন্তি অনুযায়ী, মহামুনি ব্যাসদেব এই পবিত্র কুণ্ডের তীরে বসে অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পন্ন করেছিলেন এবং দীর্ঘকাল এখানে ধ্যানমগ্ন ছিলেন। চন্দ্রনাথ দর্শনে যাওয়ার আগে ভক্তরা এই ব্যাসকুণ্ডের পবিত্র জলে স্নান করে নিজেদের দেহ ও মনকে শুদ্ধ করে নেন। বিশ্বাস করা হয়, এই কুণ্ডের জলে স্নান করলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ মোচন হয়।
ব্যাসকুণ্ডের পাশেই রয়েছে শতবর্ষী এক প্রাচীন বটবৃক্ষ, যাকে 'অক্ষয় বট' বলা হয়। মুনি-ঋষিদের ধ্যানের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই বিশাল বৃক্ষটি। এখানে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করলে আজও যেন প্রাচীন ঋষিদের বেদমন্ত্র উচ্চারণের ধ্বনি কানে ভেসে আসে। এখান থেকেই শুরু হয় পাহাড়ের চূড়ার দিকে ওঠার দুর্গম পথ।

ইতিহাস

ঐতিহাসিক তথ্য থেকে জানা যায় যে, ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীতে সম্পূর্ণ চট্টগ্রাম অঞ্চলটি আরাকান রাজ্যের অধীনে শাসিত হতো। পরবর্তী শতাব্দীতে, অর্থাৎ ৭৭০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এই অঞ্চলের শাসনভার চলে যায় পাল সম্রাট ধর্মপালের হাতে। মধ্যযুগে, সোনারগাঁওয়ের সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ্ (১৩৩৮-১৩৪৯ খ্রি.) ১৩৪০ খ্রিষ্টাব্দে এই অঞ্চলটি নিজ অধিকারে নেন। এরপর ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সুলতানি বংশের শেষ সুলতান গীয়াস উদ্দীন মুহাম্মদ শাহ্ সুর বংশের শের শাহ্ সুরির কাছে পরাজিত হলে এলাকাটি পুনরায় আরাকান রাজ্যের হাতে চলে যায় এবং আরাকানীদের বংশধররা শাসন করতে থাকে। পরবর্তীতে পর্তুগিজরাও আরাকানীদের সাথে এই অঞ্চলের শাসনকাজে ভাগ বসায় এবং ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তারা একসাথে এই এলাকা শাসন করে। অবশেষে প্রায় ১২৮ বছরের রাজত্ব শেষে ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সেনাপতি বুজুর্গ উমেদ খান আরাকানী ও পর্তুগিজদের হটিয়ে দিয়ে এই অঞ্চলটি দখল করে নেন। পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর এই অঞ্চলটি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিশ শতকের শুরুতে ১৯০৮ সালে ঐতিহাসিক স্বদেশী আন্দোলনের সময়েও এই অঞ্চলে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিশেষ প্রভাব তৈরি হয়েছিল এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি ২ নম্বর সেক্টরের অধীনস্থ একটি রণকৌশলগত এলাকা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
এই পবিত্র ভূমির নামকরণের পেছনেও রয়েছে ভাষাতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিবর্তন। প্রথম জনশ্রুতি অনুসারে, ত্রেতাযুগে রামচন্দ্রের বনবাসের সময় সীতাদেবী এখানে একটি কুণ্ডে স্নান করেছিলেন, যার ফলে এই অঞ্চলের নাম ‘সীতাকুণ্ড’ এবং মন্দিরের আদি নাম ‘সীতার কুণ্ড মন্দির’ হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় ভিন্ন একটি তত্ত্ব পাওয়া যায়। ফার্সি শব্দ "শাত-ই-কন্দ" (যার অর্থ পার্বত্য সমুদ্রসৈকত) থেকে কালক্রমে 'সীতাকুণ্ড' শব্দটির উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন এই অঞ্চলের দেওয়ানি লাভ করে, তখন তাদের দাপ্তরিক নথিপত্রে ফার্সি শব্দের এই পরিবর্তিত রূপটিই স্থায়ীভাবে গৃহীত হয়েছিল।
পৌরাণিক উপাখ্যান: শাক্তপীঠ ও মহাদেবের তাণ্ডব
সনাতন ধর্মশাস্ত্রে চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মন্দিরকে অন্যতম পবিত্র ও জাগ্রত শাক্তপীঠ (শক্তিপীঠ) হিসেবে গণ্য করা হয়। হিন্দু পুরাণ ও তান্ত্রিক শাস্ত্র অনুযায়ী, সত্য যুগে রাজা দক্ষ একটি বিশাল যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। সেই দক্ষ যজ্ঞে স্বামী মহাদেবের (শিব) নিন্দা সহ্য করতে না পেরে দেবী সতী যজ্ঞকুণ্ডে আত্মাহুতি দিয়ে নিজের দেহ বিসর্জন দেন। স্ত্রীর বিয়োগব্যথায় শোকবিহ্বল ও ক্রুদ্ধ মহাদেব সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রলয় নৃত্য শুরু করেন, যার ফলে সমগ্র বিশ্বসংসার চরম সংকটে পড়ে। সৃষ্টিকে এই প্রলয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীর দেহ খণ্ডিত করেন।
দেবী সতীর দেহখণ্ডসমূহ ভারতীয় উপমহাদেশের ৫১টি বিভিন্ন স্থানে পতিত হয় এবং এই স্থানসমূহ তীর্থস্থান বা শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিতি পায়। তান্ত্রিক ও বৈদিক শাস্ত্রমতে, এই ৫১টি পীঠের অবস্থান মূলত সংস্কৃত ব্যাকরণের ৫১টি বর্ণমালার সাথে আধ্যাত্মিকভাবে সম্পৃক্ত। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, চন্দ্রনাথ পাহাড়ের এই পবিত্র স্থানে দেবী সতীর দক্ষিণ হস্ত বা ডান হাত পতিত হয়েছিল। যদিও কিছু কিছু ইতিহাস ও স্থানীয় আখ্যানে একে বাম হস্ত রূপেও বর্ণনা করা হয়েছে। 'পীঠনির্ণয়' এবং অন্যান্য তন্ত্রগ্রন্থে চন্দ্রনাথ মন্দিরের এই তত্ত্বটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিবৃত রয়েছে।

কীভাবে যাবেন

  • সড়কপথে (ঢাকা থেকে): সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল বা মহাখালী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসে উঠে সরাসরি সীতাকুণ্ড বাজারে নামতে পারবেন। শ্যামলী, সৌদিয়া, হানিফ, ইউনিক ইত্যাদি বাস এই রুটে নিয়মিত চলাচল করে। নন-এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ৪২০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে এবং এসি বাসের ভাড়া ৮০০-১১০০ টাকার মতো হয়ে থাকে।

  • রেলপথে (ঢাকা থেকে): 'ঢাকা মেইল' ট্রেনে সরাসরি সীতাকুণ্ডে নামার সুবিধা আছে। রাত ১১টায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে এটি সকাল ৬.৩০ থেকে ৭টায় সীতাকুণ্ড পৌঁছায়। মেইল ট্রেনে ভাড়া অত্যন্ত কম (প্রায় ১২০ টাকা) এবং এটি ব্যাকপ্যাকারদের খুব প্রিয়। এছাড়া অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনে গেলে ফেনী বা চট্টগ্রাম স্টেশনে নেমে তারপর বাসে আসতে হবে।

  • চট্টগ্রাম শহর থেকে: শহরের অলংকার মোড় বা এ কে খান মোড় থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে অনায়াসে সীতাকুণ্ড বাজারে আসা যায়। বাসে ভাড়া পড়ে ২০ টাকা এবং সিএনজিতে ৪০ থেকে ৮০ টাকার মতো।

দেবতাগণ

ভ্রমণ তথ্য

প্রবেশ মূল্যফ্রি
পার্কিংনিকটে
ফটো অনুমতিহ্যাঁ
জুতা রাখার ব্যবস্থা
হুইলচেয়ার সুবিধা
যাওয়ার সেরা সময়প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে শিব চতুর্দশী তিথিতে এখানে বিশাল মেলা বসে, তখন দেশ-বিদেশের অসংখ্য পুণ্যার্থী সমবেত হন।

অবস্থান ও মানচিত্র

দিকনির্দেশনা পান ↗

সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম

এলাকাসীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম

মতামত

এখনো কোনো উত্তর নেই

এই বিষয়ে প্রশ্ন করুন →

এই প্রোফাইলটি ৯০% সম্পূর্ণ

সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করুন

তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদ ১ নভে ২০২৬

এই তথ্য কি সঠিক?

স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিন

আমাদের ডিজিটাল ঐতিহ্য রক্ষায় সাহায্য করুন। আপনার এলাকার মন্দিরের তথ্য, ছবি বা পঞ্জিকা আপডেট করে আমাদের সাথে যুক্ত হোন।

আবেদন করুন
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হোন

নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবক আবেদন স্বেচ্ছাসেবক ড্যাশবোর্ড থেকে করা যায়।

মহাপুরুষ

খোলার সময়

  • রবিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • সোমবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • মঙ্গলবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • বুধবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • বৃহস্পতিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • শুক্রবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০
  • শনিবারসকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০

অ্যাপে এই মন্দির

মন্দিরটি সঙ্গে রাখুন, এক ছোঁয়ায় আবার খুঁজে পান।

  • সেভ করুন, গেলে চেক-ইন করুন
  • আরতি আর প্রসাদের সময় এক নজরে
  • দৈনিক পঞ্জিকা ও উৎসবের বার্তা
ডাউনলোড করুনGoogle Play

সাধারণ প্রশ্ন

চন্দ্রনাথ মন্দির কোথায়?

চন্দ্রনাথ মন্দির-এর ঠিকানা: সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম।

চন্দ্রনাথ মন্দির কখন খোলা থাকে?

প্রতিদিন সকাল ৬:০০ থেকে রাত ৮:০০।

চন্দ্রনাথ মন্দির-এ কোন দেবদেবীর পূজা হয়?

এখানে পূজিত দেবদেবী: বিষ্ণু, হনুমান, কালী, শ্রী কৃষ্ণ, শিব।