সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরে অবস্থিত শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতীর্থ। প্রচলিত শক্তিপীঠ-পরম্পরায় স্থানটি সতীর গ্রীবা বা কণ্ঠদেশ পতিত পীঠ হিসেবে শ্রদ্ধেয়; আদ্যাশক্তি এখানে মহালক্ষ্মী ভৈরবী নামে পূজিত হন। দেবীর এই পীঠরূপ এবং সাধারণ লক্ষ্মীপূজার পরিচয়কে একইভাবে ব্যাখ্যা না করে স্থানীয় শক্তি-উপাসনার ঐতিহ্যে স্থানটির তাৎপর্য বোঝা প্রয়োজন।
মূল উপাসনাস্থল প্রাচীরঘেরা হলেও ওপরের অংশ উন্মুক্ত—এটি মন্দিরটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কাছের গোটাটিকরের শিবটিলায় পৃথক স্থানে পীঠরক্ষী ভৈরবের উপাসনা হয়। বাংলায় প্রকাশিত বিবরণে তাঁকে সর্বানন্দ এবং ইংরেজি বিবরণে সম্ভরানন্দ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। জৈনপুরের দেবীপীঠ ও ওই শিবটিলা পরস্পর সম্পর্কিত ধর্মস্থান হলেও মানচিত্রে পৃথক অবস্থান।
নিত্যপূজার পাশাপাশি চৈত্রের বার্ষিক মহালক্ষ্মী ভৈরবী পূজা, চণ্ডীপাঠ, অঞ্জলি, কীর্তন ও মহাপ্রসাদের আয়োজনে বহু ভক্ত সমবেত হন। শারদীয় দুর্গাপূজাও পালিত হয়। অক্টোবর ২০২৬-এ মহাষ্টমীতে এখানে দ্বিতীয়বার কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার সংবাদ রয়েছে।




