
কৃষক-বিজ্ঞানী হরিপদ কাপালী
(হরিপদ কাপালী)
জীবনী
কৃষক-বিজ্ঞানী হরিপদ কাপালী বাংলাদেশের কৃষি ইতিহাসে এক অনন্য নাম। প্রথাগত কোনো বিজ্ঞান শিক্ষা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তিনি একটি উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেন, যা পরবর্তীতে সারা দেশে সাড়া ফেলে।
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন: ১৯২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে এক দরিদ্র সনাতন পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কুঞ্জলাল কাপালী এবং মাতার নাম সরোধনী। একেবারে ছোটবেলাতেই পিতা-মাতাকে হারিয়ে তিনি অনাথ হন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে তাকে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে আসাননগর গ্রামের সুনীতি বিশ্বাসকে বিবাহ করে তিনি শ্বশুরবাড়িতেই স্থায়ী হন।
হরি ধানের আবিষ্কার: ১৯৯২ সালের দিকে হরিপদ কাপালী তাঁর ইরি ধানের ক্ষেতে একটি ব্যতিক্রমী ধান গাছ দেখতে পান। ওই গাছটির ফলন ও গঠন অন্যগুলোর চেয়ে বেশ উন্নত ও পুষ্ট ছিল। তিনি পরম যত্নে গাছটিকে আলাদা করে তার বীজ সংরক্ষণ করেন। পরবর্তী বছরগুলোতে সেই বীজ বুনে তিনি অভাবনীয় ফলন পান।
বৈশিষ্ট্য ও স্বীকৃতি: তাঁর উদ্ভাবিত এই ধান খরা, অতিবৃষ্টি এবং পোকামাকড় সহিষ্ণু ছিল এবং ফলন ছিল প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেক বেশি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কৃষকদের জন্য ছাড়পত্র দেয়। ১৯৯৯ সালের দিকে তাঁর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় 'হরি ধান'।
সম্মাননা ও প্রয়াণ: নবম ও দশম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা পাঠ্যবইয়ে তাঁর এই অসাধারণ অবদানের কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৬টি সম্মাননা ও পদক লাভ করেন। আজীবন কৃষির সাধনায় মগ্ন থাকা এই কর্মযোগী মানুষটি ২০১৭ সালের ৬ জুলাই ৯৪ বছর বয়সে আসাননগরের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তথ্যসূত্র ও আরও জানুন
হরিধানের আবিস্কারক হরিপদ কাঁপালির জীবনী
সেই হরি ধানের আবিষ্কারক হরিপদ কাপালী
উল্লেখযোগ্য অবদান
ডেটাবেসে কোনো সংযুক্ত অবদান পাওয়া যায়নি।





