মূল বিষয়বস্তুতে যান
ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক
আধুনিক যুগযাচাইকৃতবাংলাদেশী

ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক

জন্ম ১৯৪১ – বর্তমান
জন্মস্থানপাবনা জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত, ব্রিটিশ ভারত
পাবনার শহরের রাধানগর মহল্লা, পাবনা, রাজশাহী

জীবনী

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষাজীবন

ড. অরুণ কুমার বসাক ১৯৪১ সালের ১৭ অক্টোবর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত পাবনা শহরের রাধানগরে এক বাঙালি সনাতনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হরিপদ বসাক একজন বেসরকারি চাকুরিজীবী ছিলেন এবং মাতা ঊষা রানি বসাক ছিলেন গৃহিণী; চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান। ১৯৫৭ সালে পাবনার আর. এম. একাডেমি থেকে ১ম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর তিনি ১৯৫৯ সালে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আই.এস.সি উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৬১ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বি.এসসি (সম্মান) পরীক্ষায় ১ম শ্রেণীতে ১ম স্থান লাভ করেন এবং ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এসসি পরীক্ষায় ১ম শ্রেণীতে ১ম স্থান অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয় 'স্বর্ণপদক' লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে ভর্তির সুযোগ ও স্কলারশিপ পেলেও তৎকালীন ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে পাসপোর্ট আটকে যাওয়ায় বিদেশযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন করেন এবং ১৯৭৫ সালে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৬৯ সালের ডিসেম্বরে দেবীকা বসাকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

(উৎস: Bangladesh Academy of Sciences (BAS), Wikipedia, ABIOGRAPHY, The Daily Star)

কর্মজীবন, অবকাঠামো নির্মাণ ও স্বদেশের টান

১৯৬৩ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়, যেখানে তিনি ১৯৭৮ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের সুযোগ তৈরি হলেও মাতৃভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধের কারণে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই আজীবন অধ্যাপনা চালিয়ে যান। আশির দশকে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তরবঙ্গের প্রথম কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে আঞ্চলিক প্রযুক্তি শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (SUST) প্রেষণে যুক্ত থেকে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান, ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো (১৯৮০–১৯৮২), ইতালির আব্দুস সালাম আইসিটিপি (ICTP)-তে সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট (১৯৮৭–২০০৫) এবং কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি ও সাউদার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে গবেষণা পরিচালনা করেন। ২০০৮-২০০৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে আজীবন 'প্রফেসর ইমেরিটাস' সম্মাননায় ভূষিত করে।

(উৎস: Bangladesh Academy of Sciences (BAS), ABIOGRAPHY, Wikipedia, The Daily Star)

গবেষণা, বৈজ্ঞানিক অবদান ও সম্মাননা

পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান (Nuclear Physics), তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান এবং নিউক্লিয়াস-নিউক্লিয়াস ইন্টারঅ্যাকশন পটেনশিয়াল নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে সমাদৃত। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকালে তিনি তৎকালীন বিশ্বের একমাত্র 'Polarized ³He Beam' এবং টেনসর পোলারাইজড ডিউটেরন নিয়ে মৌলিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি সাধন করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নালে (যেমন Physical Review Letters, Physics Letters, Europhysics Letters) তাঁর ১০০টিরও বেশি এবং জাতীয় জার্নালে ১৪টি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞান গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি ২০০৩ সালে 'বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (BAS) গোল্ড মেডেল' লাভ করেন। এছাড়াও তিনি লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্সের ফেলো (FInstP), বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো এবং আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য। ২০১৬ সালে তিনি 'দ্য ডেইলি স্টার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড', ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'রজ্জাক-শামসুন লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' এবং ২০২০ সালে এথিক্স ক্লাব বাংলাদেশ থেকে 'নোবেল টিচার অ্যাওয়ার্ড' লাভ করেন।

(উৎস: Bangladesh Academy of Sciences (BAS), Wikipedia, The Daily Star, ABIOGRAPHY)

উল্লেখযোগ্য অবদান

ডেটাবেসে কোনো সংযুক্ত অবদান পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত ব্যক্তিত্ব