মূল বিষয়বস্তুতে যান
শুভ মহালয়া
সব উৎসব
উৎসব

শুভ মহালয়া

Mahalaya

অক্টো১০২০২৬

পরবর্তী

শনি, ১০ অক্টোবর

নির্ঘণ্ট

  • পিতৃপক্ষের শেষ, দেবীপক্ষের সূচনা

  • আকাশবাণী কলকাতায় মহিষাসুরমর্দিনী

    আনুমানিক ভোর ৪:৩০

    পঞ্জিকায়: ভোর ৪টায় (ভারতীয় সময়)

  • অমাবস্যা তিথি

    বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে: ৯ অক্টোবর রাত ১০:০৭ থেকে রাত ৯:৫০

  • মহালয়ার তর্পণ: সকালে, অমাবস্যা তিথিতে

পরিচয়

মহালয়া হলো সনাতন হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা অমাবস্যা তিথি। এই দিনটি বিশেষভবে পিতৃপক্ষের (পিতৃপুরুষদের স্মরণের পক্ষ) সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের (আদ্যাকালী ও মহামায়া দুর্গার আবাহনের সূচনা) মিলনসন্ধি হিসেবে চিহ্নিত হয়। শাস্ত্রীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পঞ্জিকা বিধান মতে, সূর্য যখন কন্যা রাশিতে অবস্থান করে, তখন এই অমাবস্যা তিথিটি অত্যন্ত পবিত্র ও সিদ্ধিপ্রদ বলে গণ্য হয়।

'মহালয়' শব্দটির ব্যাকরণগত উৎপত্তি দুটি সংস্কৃত পদ থেকে—'মহা' (মহান বা পরম) এবং 'আলয়' (আশ্রয় বা ধাম)। এর মূল অর্থ পরম আশ্রয় বা পিতৃপুরুষদের মিলনস্থল; আবার অন্য অর্থে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের পরম আশ্রয়ক্ষেত্র। ঐতিহ্যগতভাবে এই ভোরে চণ্ডীপাঠ ও তর্পণানুষ্ঠানের মাধ্যমে মা দুর্গাকে মর্ত্যলোকে আগমন করার জন্য ব্যাকুল আহ্বান জানানো হয়।

সাধারণ সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে, মহালয়া হলো সার্বজনীন দুর্গাপূজার প্রাক্কালে ভোরের এক অনন্য আত্মিক অনুভূতি। এই বিশেষ দিন থেকেই মৃৎশিল্পীরা দেবী দুর্গার মৃন্ময়ী প্রতিমায় শেষ স্পর্শ হিসেবে 'চক্ষুদান' সম্পন্ন করেন এবং মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর আগমনী সুর গুঞ্জরিত হতে শুরু করে।

ধর্মীয় তাৎপর্য

মহালয়ার আত্মিক ও বৈদিক তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। সনাতন দর্শনে বিশ্বাস করা হয় যে, পিতৃপক্ষে সূক্ষ্ম শরীরে পিতৃপুরুষগণ পিতৃলোক থেকে মর্ত্যধামে আগমন করেন। মহালয়ার অমাবস্যা তিথিতে বংশধরদের প্রদত্ত জল, কূশ ও তিল গ্রহণ করে পিতৃপুরুষগণ পরম তৃপ্তি লাভ করেন এবং বংশধরদের সুখ-সমৃদ্ধির আশীর্বাদ প্রদান করে নিজ ধামে প্রত্যাবর্তন করেন।

সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই দিনটি মানবজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঋণ—'পিতৃঋণ' স্বীকারের প্রতীক। মা-বাবা এবং পূর্বপুরুষদের ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা সনাতন ধর্মের কৃতজ্ঞতাবোধ ও অহিংস জীবনদর্শনের উজ্জ্বল নিদর্শন। এটি পরিবার ও সমাজকে অতীত ঐতিহ্য ও শ্রদ্ধাবোধের সুদৃঢ় সুতোয় আবদ্ধ রাখে।

একই সাথে মহালয়া অন্যায় ও অসুরশক্তির বিরুদ্ধে পরম দৈবশক্তির বিজয়ের ঘোষণা। মহিষাসুরের অত্যাচারে স্বর্গচ্যুত দেবতাদের তেজরাশি একত্রিত হয়ে দশভুজা মহামায়া দুর্গার সৃষ্টি হয়েছিল। মহালয়ার শুভ তিথিতে দেবী দুর্গার সেই দিব্যশক্তির আবাহন করা হয়, যা অধর্ম বিনাশ করে জগতে ধর্ম ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বার্তা বহন করে।

আচার-অনুষ্ঠান

মহালয়ার প্রধান ও অত্যাবশ্যকীয় আচার হলো 'পিতৃতর্পণ'। ভক্তগণ ব্রাহ্মমুহূর্তে বা প্রাতঃকালে স্নান সেরে নদী, জলাশয় বা গঙ্গার তীরে সমবেত হন। অনামিকা আঙুলে কূশের আংটি (কূশ পবিত্রী) ধারণ করে জল, কৃষ্ণতিল, যব ও পুষ্প সহযোগে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করে তর্পণ প্রদান করা হয়। এই তর্পণে কেবল নিজের পরিবার নয়, বরং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত নিরাশ্রয় আত্মার উদ্দেশে জল অর্পণ করা হয় (যা 'তিলতর্পণ' নামে পরিচিত)।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আচার হলো সূর্যোদয়ের পূর্বে চণ্ডীপাঠ ও শ্রীশ্রী চণ্ডীর স্তোত্র শ্রবণ। মহালয়ার ব্রাহ্মমুহূর্তে মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্ভুক্ত দেবী মাহাত্ম্য বা চণ্ডীর শ্লোক পাঠ করা হয়। আধুনিক ধর্মানুষ্ঠানিক রীতিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত কণ্ঠে 'মহিষাসুরমর্দিনী' গীতিআলেখ্য শ্রবণ বাঙালির ঘরে ঘরে মহালয়ার ভোরে এক আবশ্যিক আত্মিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া মহালয়ার দিনে অন্নদান, বস্ত্রদান এবং ব্রাহ্মণভোজনের মতো সতত পুণ্যকর্ম সম্পন্ন করা হয়। এই দিনে নিরামিষ আহার গ্রহণ এবং কোনো ধরনের বিবাহ বা নতুন গৃহপ্রবেশের মতো উৎসবমূলক শুভ কাজ না করে কেবল স্মৃতিতর্পণ ও ভক্তির সাধনায় নিমগ্ন থাকা শাস্ত্রীয় নিয়ম। একই দিনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনপূর্বক মৃৎশিল্পীরা দেবী প্রতিমায় 'চক্ষুদান' পর্ব সম্পন্ন করেন।

শুভ মহালয়া কবে?

২০২৬

অক্টো১০

শনি, ১০ অক্টোবর

এই উৎসব কোথায় হয়

মন্দিরবিডির তালিকায় এখন পর্যন্ত এমন ৭টি মন্দির আছে, যেখানে শুভ মহালয়া পালিত হয়।

শুভ মহালয়া পালিত হয় এমন কোনো মন্দির চেনেন?

এখনো কোনো উত্তর নেই

এই বিষয়ে প্রশ্ন করুন →

সম্পর্কিত দেবতা

দুর্গা

মন্দির দেখুন →

তথ্য

ধরন

উৎসব

সময়কাল

১ দিন

আরও উৎসব দেখুন

বাংলাদেশের সকল সনাতন উৎসব ও পূজার তালিকা

সব উৎসব

সচরাচর জিজ্ঞাসা

শুভ মহালয়া কবে?

শুভ মহালয়া ২০২৬ সালে শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পালিত হবে।

২০২৬ সালের শুভ মহালয়া কবে উদযাপিত হবে?

২০২৬ সালের শুভ মহালয়া আগামী ১০ অক্টোবর, শনিবার উদযাপিত হবে। এই পুণ্য তিথির মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমন বার্তা ধ্বনিত হবে এবং দুর্গাপূজার সূচনা ঘটবে।

মহালয়া বলতে কী বোঝায় এবং এর মূল তাৎপর্য কী?

মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন, যা পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনা নির্দেশ করে। এই দিনে তর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের জলদান করা হয় এবং দেবী দুর্গাকে মর্তে আহ্বান জানানো হয়।

মহালয়ার দিনে তর্পণ করার উদ্দেশ্য কী?

তর্পণ হলো পূর্বপুরুষ বা পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় মন্ত্রোচ্চারণসহ তিল ও জল নিবেদনের একটি বিশেষ বৈদিক আচার। বিশ্বাস করা হয় যে মহালয়ার পুণ্যলগ্নে তর্পণ করলে পূর্বপুরুষদের অতৃপ্ত আত্মা তৃপ্তি লাভ করে এবং বংশধরদের আশীর্বাদ প্রদান করে।

মহালয়া কোন হিন্দু তিথিতে পালিত হয়?

সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে মহালয়া উদযাপিত হয়। এই অমাবস্যাকে সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া অমাবস্যাও বলা হয়ে থাকে।

মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠ শোনার প্রথা কী?

মহালয়ার কাকভোরে শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ এবং ভক্তিগীতি শুনে ভক্তরা দিনটি শুরু করেন। এর মাধ্যমে দেবী দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপ এবং তাঁর মর্তে আগমনকে গভীর ভক্তির সাথে বরণ করে নেওয়া হয়।

মহালয়ার সাথে দুর্গাপূজার মূল পর্বের সম্পর্ক কী?

মহালয়ার মাধ্যমেই দেবীপক্ষের সূচনা হয়, যা ভক্তদের দুর্গাপূজার মূল উৎসবের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। সাধারণত মহালয়ার ঠিক ছয় দিন পর মহাপঞ্চমী ও ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক দেবীবোধন সম্পন্ন হয়।

মহালয়ার দিনে তর্পণ কোথায় সম্পন্ন করা উচিত?

তর্পণ সাধারণত কোনো পবিত্র নদী, জলাশয় বা গঙ্গার তীরে স্নান সম্পন্ন করে সম্পন্ন করা হয়। উপযুক্ত জলাশয় না থাকলে মন্দিরে বা শুদ্ধ গৃহপ্রাঙ্গণে নিষ্ঠার সাথে এই আচার পালন করা যায়।

মহালয়ার দিনে কাদের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও জল নিবেদন করা হয়?

এই দিনে পিতা-মাতা, পিতামহ, মাতামহসহ সকল জ্ঞাত ও অজ্ঞাত পরলোকগত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জলদান করা হয়। পাশাপাশি সমগ্র জগতের সকল তৃষ্ণার্ত ও অতৃপ্ত আত্মার শান্তির জন্যও এই দিনে তর্পণ করা শাস্ত্রসম্মত।

মহালয়ার দিনে কী ধরনের খাদ্য বা ব্রত পালন করা উচিত?

মহালয়ায় তর্পণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভক্তরা সাধারণত নির্জলা বা ফলমূল আহার করে সংযম বজায় রাখেন। তর্পণ শেষ হওয়ার পর নিরামিষ ও সাত্ত্বিক খাদ্য গ্রহণ করা শাস্ত্রসম্মত নিয়ম।

দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে মহালয়ার দিনে মন্দিরে কী কী আয়োজন থাকে?

মহালয়ার দিনে মন্দিরগুলোতে ভোরে সমবেত চণ্ডীপাঠ, আগমনী গান, বিশেষ পূজা ও ভক্তদের সুবিধার্থে তর্পণ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা হয়। এছাড়া ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ ও দুর্গাপূজার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।

২০২৬ সালে মহালয়ায় মহিষাসুরমর্দিনী কখন?

১০ অক্টোবর, শনিবার ভোর ৪টায় (ভারতীয় সময়) আকাশবাণী কলকাতায় মহিষাসুরমর্দিনী শুরু হয়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে।

২০২৬ সালে মহালয়ার অমাবস্যা কখন?

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে অমাবস্যা তিথি ৯ অক্টোবর রাত ১০টা ৭ মিনিট থেকে ১০ অক্টোবর রাত ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময়)। মহালয়ার তর্পণ ১০ অক্টোবর সকালে।