মূল বিষয়বস্তুতে যান
তথ্য উপাত্ত

রাখের উপবাস ২০২৬: তারিখ, পাঁচ দিনের তালিকা ও প্রদীপ জ্বালানোর সময়

ববাংলাদেশের মন্দির এডমিন
২৭ অক্টোবর ২০২৬
৬ মিনিট পড়া
০

রাখের উপবাস ২০২৬ শুরু হবে ১৬ কার্তিক ১৪৩৩, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬), আর শেষ উপবাস ৩০ কার্তিক, মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর)। কার্তিক মাসের শেষ পনেরো দিনের প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার এই উপবাস রাখা হয়, তাই এ বছর দিন পাঁচটি। তালিকাটি বারদী শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমের নিজের ঘোষণা থেকে নেওয়া, আর প্রতিটি দিন মন্দিরবিডি পঞ্জিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।

রাখের উপবাস বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ভক্তদের ব্রত। একে কার্তিক ব্রত, গোঁসাইর উপবাস বা ঘৃতপ্রদীপ প্রজ্বালনও বলা হয়। সারা দিন উপবাসের পর বিকেলে ভক্তরা আশ্রমে বা মন্দিরে সারি বেঁধে বসেন, আর সূর্যাস্তে একসঙ্গে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রিয়জনের মঙ্গল কামনা করেন।

এক নজরে রাখের উপবাস ২০২৬

  • প্রথম উপবাস: ১৬ কার্তিক ১৪৩৩, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬); নারায়ণগঞ্জে সূর্যাস্ত বিকেল ৫টা ১৮ মিনিট
  • দ্বিতীয় উপবাস: ২০ কার্তিক, শনিবার (৭ নভেম্বর); নারায়ণগঞ্জে সূর্যাস্ত বিকেল ৫টা ১৬ মিনিট
  • তৃতীয় উপবাস: ২৩ কার্তিক, মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর); নারায়ণগঞ্জে সূর্যাস্ত বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট
  • চতুর্থ উপবাস: ২৭ কার্তিক, শনিবার (১৪ নভেম্বর); নারায়ণগঞ্জে সূর্যাস্ত বিকেল ৫টা ১৩ মিনিট
  • পঞ্চম ও শেষ উপবাস: ৩০ কার্তিক, মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর); নারায়ণগঞ্জে সূর্যাস্ত বিকেল ৫টা ১২ মিনিট

সূর্যাস্তের সময়গুলো বারদী আশ্রমের (সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ) অবস্থান ধরে হিসাব, আশ্রমের ঘোষিত সময় নয়। আশ্রম প্রদীপ জ্বালানোর কোনো ঘড়ির সময় প্রকাশ করেনি; প্রথা অনুযায়ী প্রদীপ জ্বলে সূর্যাস্তে। ঢাকায় সূর্য ডোবে প্রায় এক মিনিট পরে।

তারিখগুলো পঞ্জিকা মতে, যেভাবে আশ্রমের তালিকায় আছে। বাংলাদেশের জাতীয় বর্ষপঞ্জিতে কার্তিকের তারিখ দুই দিন এগিয়ে: সেখানে ৩ নভেম্বর ১৮ কার্তিক, আর ১৭ নভেম্বর ২ অগ্রহায়ণ। তাই সরকারি ক্যালেন্ডার দেখে শেষ দিনটিকে কার্তিকের বাইরে মনে হতে পারে। পঞ্জিকা মতে ১৭ নভেম্বর ৩০ কার্তিক, কার্তিকের শেষ দিন; অগ্রহায়ণ শুরু পরদিন, ১৮ নভেম্বর।

রাখের উপবাস কোন দিনগুলোতে হয়

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী উপবাস হয় কার্তিকের শেষ পনেরো দিনে, শুধু মঙ্গলবার আর শনিবার। কার্তিকের এই দিনগুলো প্রতি বছর সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন বারে পড়ে, তাই ইংরেজি তারিখ, এমনকি উপবাসের সংখ্যাও বছরভেদে বদলায়। প্রতি বছরের তারিখ সেই বছরের পঞ্জিকা দেখে মিলিয়ে নিতে হয়। ২০২৬ সালে পাঁচটি দিনই পড়েছে ১৬ থেকে ৩০ কার্তিকের মধ্যে: মঙ্গলবার তিনটি, শনিবার দুটি।

বারদী আশ্রম ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তাদের ফেসবুক পাতায় যে তালিকা দিয়েছে, তাতে এই পাঁচটি দিনই আছে, ১৭ নভেম্বরসহ। কিছু অনলাইন অনুষ্ঠানসূচিতে শেষ দিনটি নেই; আশ্রমের নিজের তালিকা আর পঞ্জিকা দুটোই বলছে, ৩০ কার্তিক, মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) উপবাসের দিন।

দ্বিতীয় আর তৃতীয় উপবাসের মাঝে, ২১ কার্তিক, রবিবার (৮ নভেম্বর) রাতে শ্যামাপূজা (কালীপূজা)।

রাখের উপবাস কেন রাখা হয়

প্রচলিত বিশ্বাস, কলেরা ও বসন্তের মতো রোগ থেকে রক্ষা পেতে বাবা লোকনাথ ভক্তদের কার্তিক মাসে উপবাস রেখে আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘিয়ের প্রদীপ ও ধূপ জ্বালাতে বলেছিলেন। এটি লোকবিশ্বাস, লিখিত ইতিহাস নয়: কবে থেকে রীতিটি চলছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় না। নামের “রাখ” শব্দের অর্থ রক্ষা বা সুরক্ষা (সংস্কৃত “রক্ষা” থেকে); প্রিয়জনকে রোগ-বিপদ থেকে রক্ষার প্রার্থনাই এই উপবাসের মূল কথা। কাহিনিটি বিস্তারিত পড়ুন রাখের উপবাস কি ও কেন করা হয় লেখায়।

কখন যাবেন, প্রদীপ জ্বলে কখন

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারদীতে দুপুরের পর থেকেই ভক্তরা আসতে শুরু করেন। বসার জায়গা পেতে বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া ভালো; এটি আমাদের পরামর্শ, আশ্রমের নির্ধারিত সময় নয়।

  • দুপুর থেকে বিকেল: ভক্তরা কলাপাতা বা কলাগাছের খোলে প্রদীপ, ধূপ, ফুল ও ফল সাজিয়ে সারি বেঁধে বসেন।
  • সূর্যাস্তে: ঘণ্টা আর উলুধ্বনির মধ্যে সবাই একসঙ্গে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান (প্রচলিত রীতি)।
  • প্রদীপ জ্বলার সময়: নীরবে বাবা লোকনাথকে স্মরণ ও প্রার্থনা। প্রদীপ জ্বালানোর পর কথা না বলার রীতি আছে।
  • প্রার্থনা শেষে: প্রদীপ জ্বলা শেষ হলে উপবাস ভাঙা হয়। বারদীতে এ সময় চাল-কলার প্রসাদ দেওয়া হয় (আজকের পত্রিকা, ২০২৫)।

প্রতিদিনের আয়োজন আশ্রম কর্তৃপক্ষ ঠিক করেন, তাই যাওয়ার আগে খোঁজ নিয়ে যান। ভিড়ে শিশু ও বয়স্কদের কাছে রাখুন, আর জ্বলন্ত প্রদীপের পাশে শাড়ির আঁচল ও ওড়না সামলে বসুন।

সঙ্গে কী নেবেন

প্রচলিত উপকরণ মাটির প্রদীপ, ঘি, তুলোর সলতে, কলাপাতা বা কলাগাছের খোল, ধূপ বা আগরবাতি, ফুল, ফল, ধান-দূর্বা, ডাব ও দুধ। প্রচলিত রীতিতে যত প্রিয়জনের মঙ্গল কামনা করা হয়, ততটি প্রদীপ জ্বালানো হয়। সব উপকরণ সব আশ্রমে বাধ্যতামূলক নয়। পুরো তালিকা, আগের দিনের সংযম থেকে উপবাস ভাঙা পর্যন্ত নিয়ম, আর বাবা লোকনাথের প্রণাম মন্ত্র পাবেন রাখের উপবাস পালনের নিয়মের লেখায়।

কোথায় পালিত হয়

সবচেয়ে বড় আয়োজন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমে, বাবা লোকনাথের স্মৃতিবিজড়িত প্রধান আশ্রমে। ঢাকা থেকে কীভাবে যাবেন, আছে বারদীতে রাখের উপবাসের গাইডে।

ঢাকায় পুরান ঢাকার স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমেও বড় আয়োজন হয় (প্রথম আলো, ২০২২)। এ ছাড়া দেশের নানা জায়গার লোকনাথ মন্দিরে ভক্তরা এই উপবাস রাখেন; নিজের এলাকার মন্দিরের আয়োজনের খবর সেখান থেকেই নিন। উৎসবের তারিখ, নিয়ম আর যে মন্দিরে পালিত হয়, সব একসঙ্গে আছে মন্দিরবিডির রাখের উপবাসের পাতায়।

প্রশ্নোত্তর

রাখের উপবাস ২০২৬ কবে শুরু?

পঞ্জিকা মতে ১৬ কার্তিক ১৪৩৩, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬)।

এ বছর রাখের উপবাস কয় দিন?

পাঁচ দিন: ১৬, ২০, ২৩, ২৭ ও ৩০ কার্তিক (৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৭ নভেম্বর)।

কোন কোন বারে রাখের উপবাস হয়?

কার্তিকের শেষ পনেরো দিনের মঙ্গলবার ও শনিবার।

১৭ নভেম্বরও কি উপবাসের দিন?

হ্যাঁ। পঞ্জিকা মতে দিনটি ৩০ কার্তিক, মঙ্গলবার, আর বারদী আশ্রমের ২০২৬ সালের তালিকায় এটিই শেষ উপবাস। সরকারি ক্যালেন্ডারে তারিখ আলাদা দেখায় বলে বিভ্রান্তি হতে পারে; কারণটি ওপরে বলা আছে।

প্রদীপ জ্বালানো হয় কখন?

সূর্যাস্তে। এ বছরের উপবাসের দিনগুলোতে নারায়ণগঞ্জে (বারদী) সূর্যাস্ত বিকেল ৫টা ১২ থেকে ৫টা ১৮ মিনিটের মধ্যে। আশ্রম আলাদা করে কোনো ঘড়ির সময় দেয়নি।

উপবাস কখন ভাঙা হয়?

প্রচলিত রীতিতে সূর্যাস্তে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনার পর, প্রদীপ জ্বলা শেষ হলে। কী খেয়ে উপবাস ভাঙবেন, তা আশ্রম ও পরিবারের রীতি অনুযায়ী; বারদীতে চাল-কলার প্রসাদ দেওয়া হয়।

প্রতি বছর কি একই তারিখে রাখের উপবাস হয়?

না। কার্তিকের শেষ পনেরো দিন প্রতি বছর ভিন্ন বারে পড়ে, তাই তারিখ প্রতি বছর পঞ্জিকা দেখে নতুন করে ঠিক হয়।

এই বিষয়ে আরও পড়ুন

সূত্র

আশ্রমের আয়োজন ও সময় বদলাতে পারে। যাওয়ার আগে আশ্রম কর্তৃপক্ষের কাছে মিলিয়ে নিন।

মতামত দিন

মতামত দিতে লগইন করুন।

0 টি মতামত

কোনো মতামত নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!