মূল বিষয়বস্তুতে যান
তথ্য উপাত্ত

ভূত চতুর্দশী ২০২৬: চোদ্দ শাক ও চোদ্দ প্রদীপের নিয়ম

ববাংলাদেশের মন্দির এডমিন
২৭ অক্টোবর ২০২৬
৫ মিনিট পড়া
০

ভূত চতুর্দশী ২০২৬ দুই দিনে ছড়ানো। বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা অনুযায়ী চোদ্দ প্রদীপ জ্বালানো হবে ২০ কার্তিক ১৪৩৩, শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায়। চোদ্দ শাক খাওয়া আর ভূতচতুর্দশীর অন্য কৃত্য পরদিন, ২১ কার্তিক, রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে, যতক্ষণ চতুর্দশী তিথি থাকে। সেদিন রাতেই শ্যামাপূজা ও দীপাবলি।

নিচে পঞ্জিকার ছাপা সময় বাংলাদেশ সময়ে, পঞ্জিকায় দেওয়া চোদ্দ শাকের নাম, চোদ্দ প্রদীপ কোথায় ও কেন জ্বালানো হয়, আর প্রদীপ নিয়ে কিছু সাবধানতার কথা। পঞ্জিকার সময় ভারতীয় সময়ে ছাপা; এখানে ৩০ মিনিট যোগ করে বাংলাদেশ সময়ে দেওয়া হলো।

ভূত চতুর্দশী ২০২৬ কবে

চোদ্দ প্রদীপ: ২০ কার্তিক, শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায়, বিকেল ৫টা ২৩ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে। বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকায় সেদিনের শেষে ছাপা আছে: "ঘ ৪।৫৩ গতে রাত্রি ঘ ৬।২৯ মধ্যে দেবগৃহাদিতে চতুর্দশ দীপদান"।

চোদ্দ শাক ও ভূতচতুর্দশীর কৃত্য: ২১ কার্তিক, রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে, চতুর্দশী থাকতে থাকতে। পঞ্জিকা মতে চতুর্দশী শেষ হয় সকাল ১১টা ১৮ মিনিটে। পঞ্জিকা সেদিনের জন্য আরও লিখেছে চতুর্দশ যমতর্পণ, দিবাস্নান, মাথায় অপামার্গ (আপাং) পাতা ঘোরানো, আর "আচারবশতঃ চতুর্দশ শাকভক্ষণ", অর্থাৎ প্রথা অনুযায়ী চোদ্দ শাক খাওয়া।

অনেক অনলাইন ক্যালেন্ডার আর লেখায় ভূত চতুর্দশী ও চোদ্দ শাক ৭ নভেম্বরে দেখানো হয়। আপনার বাড়িতে যে পঞ্জিকা মানা হয়, বা পরিবারে যে রীতি চলে আসছে, সেটাই মানুন।

নরক চতুর্দশীও এই পঞ্জিকায় ২১ কার্তিক (৮ নভেম্বর) সকালের কৃত্যের মধ্যে; সর্বভারতীয় ক্যালেন্ডারেও নরক চতুর্দশীর ভোরের স্নান ৮ নভেম্বর।

চোদ্দ শাক: পঞ্জিকায় দেওয়া নাম

বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা "চতুর্দশ শাকের বাংলা নাম" এভাবে দিয়েছে, এই ক্রমে:

  1. ওল
  2. কেঁউ
  3. বেতো
  4. সরিষা
  5. কালকাসুন্দে
  6. নিম
  7. জয়ন্তী
  8. শাঞ্চে
  9. হিলঞ্চ
  10. পলতা
  11. শৌলফ
  12. গুলঞ্চ
  13. ভাঁটপাতা
  14. শুষণীশাক

অন্য তালিকায় কিছু শাকের নাম অন্যভাবে লেখা হয়: হিলঞ্চকে হিঞ্চে, শাঞ্চেকে শালিঞ্চা, ভাঁটকে ঘেঁটু, শৌলফকে শুলফা; কোনো কোনো তালিকায় শৌলফের জায়গায় শেলু।

এর অনেক শাকই এখন শহরের বাজারে মেলে না, তাই অনেক পরিবার হাতের কাছে যে চোদ্দ রকম শাক পায়, তা দিয়েই রীতিটি পালন করে। পঞ্জিকা নিজেই একে "আচারবশতঃ", অর্থাৎ প্রথা হিসেবে লিখেছে। এর অনেকগুলো তেতো শাক, তাই কোনটা কতটা খাবেন, নিজের শরীর বুঝে ঠিক করুন।

চোদ্দ প্রদীপ: কোথায়, কেন

পঞ্জিকা দীপদানের জায়গা বলেছে "দেবগৃহাদিতে", অর্থাৎ ঠাকুরঘর ও তার আশপাশে। প্রচলিত রীতিতে ঠাকুরঘর থেকে শুরু করে সদর দরজা, ঘরের দরজা, অন্ধকার কোণ, তুলসীতলা, উঠোন বা ছাদে মিলিয়ে চোদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো হয়, ২০ কার্তিক (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায়।

চোদ্দ প্রদীপ নিয়ে তিন রকম বিশ্বাস প্রচলিত, তিনটিই লোকবিশ্বাস:

  • চোদ্দ পুরুষের উদ্দেশে: ঊর্ধ্বতন চোদ্দ পুরুষ এই রাতে বাড়িতে আসেন বলে বিশ্বাস, প্রদীপ তাঁদের পথ দেখায়।
  • অশুভ দূর করতে: অমাবস্যার আগের এই অন্ধকার রাতে অশুভ শক্তি ঘোরে বলে বিশ্বাস, আলো তাদের দূরে রাখে।
  • যমের উদ্দেশে দীপ: কোথাও কোথাও একটি প্রদীপ যমের উদ্দেশে দেওয়া হয়, অকালমৃত্যু থেকে রক্ষার কামনায়।

প্রদীপের সংখ্যা চোদ্দ কেন, তার কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় সূত্র আমরা পাইনি। পরিবারের নিজস্ব রীতি থাকলে সেটাই আগে মানুন।

প্রদীপ জ্বালানোর সময় সাবধানতা

  • পর্দা, শুকনো পাতা, কাগজ আর কাপড় থেকে প্রদীপ দূরে রাখুন।
  • শাড়ির আঁচল ও ওড়না সামলে প্রদীপ জ্বালান।
  • শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন, আর রাতে ঘুমোনোর আগে ঘরের ভেতরের প্রদীপ নিভিয়ে দিন।
  • হাতের কাছে এক বালতি জল রাখুন।

সেদিন রাতে: শ্যামাপূজা ও দীপাবলি

২১ কার্তিক, রবিবার (৮ নভেম্বর) অমাবস্যার রাতে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি। বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকায় সেদিন প্রদোষে লক্ষ্মী ও অলক্ষ্মী পূজা আর উল্কাদান, তারপর "মধ্যরাত্রিতে শ্রীশ্রীশ্যামা পূজা"। দৃক্‌ পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী ঢাকায় নিশীথকাল রাত ১১টা ১৬ মিনিট থেকে ১২টা ৮ মিনিট। পূজার নিয়ম আর দীপাবলির রীতি পাবেন কালীপূজা ও দীপাবলির নিয়ম লেখায়, পুষ্পাঞ্জলি ও ধ্যানের মন্ত্র কালীপূজার মন্ত্র অর্থসহ লেখায়। দুই পঞ্জিকার সময় আর যে মন্দিরে পূজা হয়, সব আছে মন্দিরবিডির কালীপূজার পাতায়।

প্রশ্নোত্তর

ভূত চতুর্দশী ২০২৬ কবে?

বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা মতে চোদ্দ প্রদীপ ২০ কার্তিক ১৪৩৩, শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায়, আর চোদ্দ শাক ও ভূতচতুর্দশীর কৃত্য ২১ কার্তিক, রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে, চতুর্দশী থাকতে থাকতে। অনেক ক্যালেন্ডারে পুরোটাই ৭ নভেম্বরে দেখায়; নিজের পঞ্জিকা বা পারিবারিক রীতি মানুন।

চোদ্দ প্রদীপ কখন জ্বালাতে হয়?

পঞ্জিকা মতে ২০ কার্তিক (৭ নভেম্বর) বিকেল ৫টা ২৩ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে, বাংলাদেশ সময়ে। পঞ্জিকায় ছাপা ভারতীয় সময়, ঘ ৪।৫৩ থেকে ৬।২৯, তার সঙ্গে ৩০ মিনিট যোগ করে।

চোদ্দ শাক কী কী?

বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা অনুযায়ী ওল, কেঁউ, বেতো, সরিষা, কালকাসুন্দে, নিম, জয়ন্তী, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, পলতা, শৌলফ, গুলঞ্চ, ভাঁটপাতা ও শুষণীশাক। অন্য তালিকায় কিছু নাম অন্যভাবে লেখা হয়, যেমন হিঞ্চে, শালিঞ্চা, ঘেঁটু, শুলফা বা শেলু।

চোদ্দ শাক কখন খেতে হয়?

বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা মতে ২১ কার্তিক, রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে, চতুর্দশী থাকতে থাকতে, অর্থাৎ সকাল ১১টা ১৮ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময়)। অনেক ক্যালেন্ডার ও লেখায় ৭ নভেম্বর বলা হয়; নিজের পঞ্জিকা বা পারিবারিক রীতি মানুন।

কেন চোদ্দ প্রদীপ জ্বালানো হয়?

প্রচলিত বিশ্বাস, প্রদীপগুলো চোদ্দ পুরুষের পথ দেখায় আর অশুভ দূরে রাখে; কোথাও একটি প্রদীপ যমের উদ্দেশে দেওয়া হয়। সবই লোকবিশ্বাস; সংখ্যাটির নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় সূত্র আমরা পাইনি।

নরক চতুর্দশী আর ভূত চতুর্দশী কি একই দিনে?

এ বছর সকালের কৃত্য একই দিনে। বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা ২১ কার্তিক (৮ নভেম্বর) সকালের কৃত্যে ভূতচতুর্দশী আর নরক চতুর্দশী দুটোই লিখেছে: দিবাস্নান, যমতর্পণ, চোদ্দ শাক। আলাদা শুধু চোদ্দ প্রদীপ, যা আগের সন্ধ্যায়, ২০ কার্তিক (৭ নভেম্বর)।

এই বিষয়ে আরও পড়ুন

সূত্র

মতামত দিন

মতামত দিতে লগইন করুন।

0 টি মতামত

কোনো মতামত নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!