মূল বিষয়বস্তুতে যান
তথ্য উপাত্ত

ভাইফোঁটা ২০২৬ কবে: তারিখ, সময়সূচি ও ফোঁটা দেওয়ার সময়

ববাংলাদেশের মন্দির এডমিন
২৭ অক্টোবর ২০২৬
৪ মিনিট পড়া
০

ভাইফোঁটা ২০২৬ পঞ্জিকা মতে ২৪ কার্তিক ১৪৩৩, বুধবার (১১ নভেম্বর ২০২৬)। এই দিনটিই ভ্রাতৃদ্বিতীয়া, কার্তিকের শুক্লা দ্বিতীয়া; ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় বোনেরা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেন।

বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকায় ফোঁটার বিধান দ্বিতীয়া থাকতে থাকতে, বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪১ মিনিটের মধ্যে। ভাইফোঁটা (অনেকে লেখেন ভাইফোটা) তাই এ বছর বুধবার সকালেই সেরে নেওয়া ভালো। এই লেখার সব সময় বাংলাদেশ সময়ে।

এক নজরে ভাইফোঁটা ২০২৬ সময়সূচি

  • ভাইফোঁটা: ২৪ কার্তিক ১৪৩৩, বুধবার (১১ নভেম্বর ২০২৬)।
  • ফোঁটা দেওয়ার সময়, প্রচলিত গণনা: ১১ নভেম্বর দুপুর ২টা ৪১ মিনিটের মধ্যে।
  • দ্বিতীয়া, প্রচলিত গণনা: ১০ নভেম্বর দুপুর ১টা ৭ মিনিট থেকে ১১ নভেম্বর দুপুর ২টা ৪১ মিনিট।
  • দ্বিতীয়া, দৃক্‌ গণনা: ১০ নভেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ১১ নভেম্বর বিকেল ৪টা ২৩ মিনিট।
  • যমরাজের পূজা: গোস্বামিমতে ১১ নভেম্বর মধ্যাহ্নে; পঞ্জিকায় এর আলাদা ঘড়ির সময় নেই।

প্রচলিত গণনার সময় বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা ১৪৩৩-এর ২৪ কার্তিকের পাতা থেকে। পঞ্জিকায় সময় ভারতীয় সময়ে ছাপা, “দিবা ঘ ২।১১ মধ্যে ভ্রাতৃদ্বিতীয়াকৃত্য (ভাইফোঁটা)”; এখানে ৩০ মিনিট যোগ করে বাংলাদেশ সময়ে দেওয়া। দ্বিতীয়া শুরুর সময় আজতক বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেখানে একই পঞ্জিকার উল্লেখ আছে। দৃক্‌ গণনার সময় মন্দিরবিডি পঞ্জিকা থেকে।

ভাইফোঁটা ১০ না ১১ নভেম্বর

দ্বিতীয়া তিথি লাগে ১০ নভেম্বর দুপুরে, তাই কেউ কেউ ১০ নভেম্বরকেই ভাইফোঁটার দিন ভাবেন। কিন্তু বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া দিয়েছে পরদিন, ১১ নভেম্বর, বুধবার, যেদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দ্বিতীয়া থাকে; পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকাতেও ভাইফোঁটা ১১ নভেম্বর। দৃক্‌ পঞ্চাঙ্গও ঢাকার হিসাবে ভাইফোঁটা ১১ নভেম্বর দেখায়।

বাংলা তারিখ অবশ্য পঞ্জিকাভেদে আলাদা দেখাতে পারে: প্রচলিত গণনায় (বেণীমাধব শীল, মন্দিরবিডি পঞ্জিকা) দিনটি ২৪ কার্তিক, দৃক্‌ পঞ্চাঙ্গের বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত হিসাবে ২৫ কার্তিক, আর বাংলাদেশের জাতীয় বর্ষপঞ্জিতে ২৬ কার্তিক। ইংরেজি তারিখ সবখানে এক: বুধবার, ১১ নভেম্বর।

পঞ্জিকায় ভাইফোঁটার বিধান

বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা এ দিনের কৃত্য হিসেবে লিখেছে যম, যমুনা, চিত্রগুপ্ত ও যমদূতের পূজা, যমের উদ্দেশে অর্ঘ্য, বোনের হাতে ভাইয়ের পূজা, আচার অনুযায়ী ভাইয়ের কপালে তিলক, আর ভাইয়েরও বোনকে বস্ত্র ইত্যাদি দেওয়া। বোনের হাতে খাওয়াও কর্তব্য বলে লেখা আছে।

ঘরে ঘরে রীতি আলাদা হলেও মূল কাজটি এক: বোনেরা, অনেকে উপবাস রেখে, ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা দেন, তারপর বোনের হাতে খাওয়া আর উপহার দেওয়া-নেওয়া। পুরো নিয়ম আর যম-যমুনার কাহিনি আছে ভাইফোঁটা কী ও তার নিয়ম লেখায়।

ভাইফোঁটার ছড়া

ফোঁটা দেওয়ার সময় বোনেরা যে ছড়া বলেন, বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা তা ছেপেছে “ভ্রাতৃদ্বিতীয়ায় প্রচলিত বাংলা প্রবচন” নামে:

ভায়ের কপালে দিলাম ফোঁটা।
যমের দুয়ারে পড়লো কাঁটা।।
যমুনা দেন যমকে ফোঁটা।
আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।।
যম যেমন হন চিরজীবী।
আমার ভাই যেন হয় তেমন চিরজীবী।

পরিবারভেদে ছড়ার পাঠ একটু আলাদা হয়; নিজের ঘরে যেভাবে বলা হয়ে আসছে, সেভাবেই বলুন।

বুধবার কর্মদিবস: ফোঁটা সকালে

বাংলাদেশের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় ভাইফোঁটা নেই, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐচ্ছিক ছুটির নয় দিনের মধ্যেও নয়। ১১ নভেম্বর তাই সাধারণ কর্মদিবস। প্রচলিত গণনায় ফোঁটার সময়ও দুপুর ২টা ৪১ মিনিটে শেষ, ফলে অফিস বা স্কুলে যাওয়ার আগে, সকালেই ফোঁটার আয়োজন করা সুবিধাজনক।

এর তিন দিন আগে, ২১ কার্তিক, রবিবার (৮ নভেম্বর) রাতে শ্যামা পূজা ও দীপাবলি; সময় ও নিয়ম আছে কালী পূজার পাতায়।

প্রশ্নোত্তর

ভাইফোঁটা ২০২৬ কবে?

পঞ্জিকা মতে ২৪ কার্তিক ১৪৩৩, বুধবার (১১ নভেম্বর ২০২৬)।

ভাইফোঁটা কত তারিখে?

১১ নভেম্বর, বুধবার। বাংলা তারিখ প্রচলিত গণনায় ২৪ কার্তিক; অন্য পঞ্জিকায় ২৫ কার্তিক আর জাতীয় বর্ষপঞ্জিতে ২৬ কার্তিক দেখাতে পারে।

ফোঁটা কখন দিতে হয়?

বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকায় ১১ নভেম্বর দুপুর ২টা ৪১ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময়), দ্বিতীয়া থাকতে থাকতে। দৃক্‌ গণনায় দ্বিতীয়া থাকে বিকেল ৪টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। আপনার পরিবার যে পঞ্জিকা মানে, সেই মতে চলুন।

ভাইফোঁটা ১০ না ১১ নভেম্বর?

১১ নভেম্বর। দ্বিতীয়া ১০ নভেম্বর দুপুরে লাগে বলে বিভ্রান্তি হয়, কিন্তু বেণীমাধব শীল ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত দুই পঞ্জিকাতেই ভাইফোঁটা বুধবার, ১১ নভেম্বর।

ভাইফোঁটায় কি সরকারি ছুটি আছে?

না। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় ভাইফোঁটা নেই, সাধারণ বা ঐচ্ছিক কোনো ছুটি হিসেবেই নয়। বুধবার, ১১ নভেম্বর তাই কর্মদিবস; ফোঁটা সকালে সেরে নেওয়াই সুবিধাজনক।

ভাইফোঁটার ছড়া কী?

সবচেয়ে প্রচলিত ছড়া: “ভায়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়লো কাঁটা।” পুরো ছড়া ওপরে দেওয়া আছে, পঞ্জিকায় যেমন ছাপা।

এই বিষয়ে আরও পড়ুন

সূত্র

আপনার পরিবার বা মন্দির যে পঞ্জিকা মানে, ফোঁটার সময় সেই মতে মিলিয়ে নিন।

মতামত দিন

মতামত দিতে লগইন করুন।

0 টি মতামত

কোনো মতামত নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!