মূল বিষয়বস্তুতে যান
রাখীবন্ধন
সব উৎসব
উৎসব

রাখীবন্ধন

রাখীবন্ধন

আগস্ট২৮২০২৬

সর্বশেষ

শুক্র, ২৮ আগস্ট

পূর্ণিমা

পরিচয়

রাখীবন্ধন বা রাখী পূর্ণিমা হলো সনাতন ধর্মের এক পরম পবিত্র, প্রাচীন এবং তাৎপর্যপূর্ণ সামাজিক-আধ্যাত্মিক উৎসব, যা প্রতি বছর হিন্দু পঞ্জিকার শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে (শ্রাবণী পূর্ণিমা) অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়। সংস্কৃত 'রক্ষা' (সুরক্ষা বা ত্রান) এবং 'বন্ধন' (যোগসূত্র বা বাঁধন)—এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত 'রাখীবন্ধন' মূলত পারস্পরিক সুরক্ষা, নিঃস্বার্থ স্নেহ, শ্রদ্ধা ও চিরন্তন অঙ্গীকারের প্রতীক। সনাতন ঐতিহ্যে এটি কেবল সহোদর ভাই-বোনের ভালোবাসার সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞাতি ভাইবোন, গুরু-শিষ্য, আত্মীয়স্বজন এবং সমাজের যে কোনো ব্যক্তির মধ্যে সার্বজনীন সৌভ্রাতৃত্ব, একাত্মতা ও আত্মিক বন্ধন সুদৃঢ় করার এক অনন্য মাধ্যম। এই পুণ্য তিথিতে নারীরা তাঁদের ভাই ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ডান হাতের মণিবন্ধে পবিত্র রক্ষাসূত্র (রাখী) বেঁধে দিয়ে তাঁদের দীর্ঘায়ু, সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও নৈতিক স্থৈর্যের প্রার্থনা করেন; বিনিময়ে ভাইয়েরা তাঁদের ভগিনীদের আজীবন মর্যাদা রক্ষা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সুরক্ষার পবিত্র শপথ গ্রহণ করেন। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উৎসবকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বজনীন সম্প্রীতি ও অখণ্ড মানবতার প্রতীক হিসেবে রাজপথে রূপ দিয়েছিলেন। আধুনিক প্রেক্ষাপটে রাখীবন্ধন আত্মিক পবিত্রতা, সামাজিক সংহতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।

ধর্মীয় তাৎপর্য

শ্রীকৃষ্ণ ও দ্রৌপদীর অক্ষয় বস্ত্রের আখ্যান (মহাভারত):

মহাভারতের রাজসূয় যজ্ঞের প্রেক্ষাপটে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন সুদর্শন চক্র দ্বারা শিশুপালকে বধ করেন, তখন শ্রীকৃষ্ণের তর্জনী কেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। উপস্থিত সকলে যখন চিকিৎসার সন্ধানে ব্যাকুল, তখন পঞ্চপাণ্ডব-পত্নী দ্রৌপদী কোনো দ্বিধা না করে নিজের বহুমূল্য রেশমি শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে শ্রীকৃষ্ণের ক্ষতস্থানে বেঁধে দেন। দ্রৌপদীর এই নিঃস্বার্থ স্নেহে মুগ্ধ হয়ে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে ভগিনী হিসেবে বরণ করেন এবং চিরকাল তাঁর সম্মান ও সুরক্ষার প্রতিদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। পরবর্তীকালে কুরু রাজসভায় পাশা খেলায় পরাজিত পাণ্ডবদের সামনে দুঃশাসন যখন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করে চরম লাঞ্ছনার চেষ্টা করে, তখন শ্রীকৃষ্ণ অলৌকিকভাবে অক্ষয় বস্ত্রের জোগান দিয়ে দ্রৌপদীর সতীত্ব ও সম্মান রক্ষা করেন এবং সেই রক্ষাসূত্রের ঋণ শোধ করেন।

দেবী লক্ষ্মী ও ভক্তরাজ বলির উপাখ্যান (শ্রীমদ্ভাগবত ও ভবিষ্য পুরাণ):

বামনাবতারে ভগবান শ্রীবিষ্ণু যখন ত্রিপাদ ভূমির ছলে ভক্তরাজ বলির অহংকার চূর্ণ করে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড অধিকার করেন, তখন বলির অনন্য ভক্তিতে তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু তাঁকে বর দিতে চান। বলি বিষ্ণুকে পাতালের দ্বারপাল হিসেবে চিরকাল তাঁর সাথে থাকার প্রার্থনা করেন। এর ফলে বৈকুণ্ঠ শূন্য হয়ে পড়লে দেবী লক্ষ্মী ব্যথিত হন। স্বীয় স্বামীকে ফিরিয়ে আনতে লক্ষ্মীদেবী এক দরিদ্র ব্রাহ্মণী বেশে পাতালে বলির রাজপ্রাসাদে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং শ্রাবণ পূর্ণিমার দিনে বলির হাতে একটি পবিত্র রক্ষাসূত্র বেঁধে ভাই হিসেবে বরণ করেন। উপহার হিসেবে লক্ষ্মীদেবী শ্রীবিষ্ণুর বৈকুণ্ঠে প্রত্যাবর্তনের প্রার্থনা ব্যক্ত করলে ধর্মপরায়ণ বলি ভাই হিসেবে সেই ইচ্ছা পূরণ করেন। সেই পুণ্য স্মৃতিতে আজও রাখী বাঁধার সময় "যেন বদ্ধো বলী রাজা..." মন্ত্রটি উচ্চারিত হয়।

দেবরাজ ইন্দ্র ও শচী দেবীর বৈদিক কাহিনী (ভবিষ্য পুরাণ):

ভবিষ্য পুরাণের উত্তরপর্বে বর্ণিত আছে, সুদীর্ঘ বারো বছর ব্যাপী দেবাসুর যুদ্ধে বৃত্রাসুর ও দৈত্যবাহিনীর কাছে দেবতারা পরাজিত হয়ে স্বর্গচ্যুত হন। দেবরাজ ইন্দ্র হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে বৃহস্পতির নির্দেশনায় ইন্দ্রপত্নী শচী (ইন্দ্রাণী) তপস্যার শক্তিতে শ্রাবণ পূর্ণিমার দিনে একটি বিশেষ মন্ত্রপূত রক্ষাসূত্র ইন্দ্রের কবজিতে পরিয়ে দেন। এই মহাশক্তিশালী রক্ষাকবচের প্রভাবে ইন্দ্র অসুরদের পরাজিত করে স্বর্গরাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। প্রাচীনকালে যেকোনো শুভ অভিযান বা যুদ্ধের পূর্বে ব্রাহ্মণ বা পত্নী কর্তৃক এই রক্ষাসূত্র পরানোর রেওয়াজ ছিল।

যমরাজ ও যমুনার অমর স্নেহের গাথা:

মৃত্যুর দেবতা যমরাজ দীর্ঘদিন তাঁর ভগিনী যমুনা দেবীর সাথে দেখা করতে না পারায় যমুনা অত্যন্ত ব্যাকুল হন। দেবী গঙ্গার পরামর্শে যমরাজ যমুনার গৃহে উপস্থিত হলে যমুনা পরম আনন্দে ভ্রাতাকে রাজকীয় আতিথেয়তা দেন, কপালে তিলক পরান এবং কবজিতে রক্ষাসূত্র বেঁধে মিষ্টিমুখ করান। এতে প্রসন্ন হয়ে যমরাজ বর দেন যে, শ্রাবণ পূর্ণিমা ও ভ্রাতৃদ্বিতীয়াতে যে ভাই তাঁর বোনের হাতে রক্ষাসূত্র ধারণ করবে এবং তিলক গ্রহণ করবে, সে অকালমৃত্যু ও নরকযাতনা থেকে মুক্ত থাকবে।

ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত (রানি কর্ণবতী, পুরু রাজা ও আলেকজান্ডার):

ঐতিহাসিক কিংবদন্তি অনুসারে, ৩২৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মহামতি আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণকালে তাঁর স্ত্রী রোকসানা (রোজানা) কাটোচ নরপতি রাজা পুরুকে রাখী পাঠিয়ে আলেকজান্ডারের প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন; যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মুখ সমরে পুরু আলেকজান্ডারকে বধ করার সুযোগ পেয়েও হাতে বাঁধা রাখীর মর্যাদা রাখতে গিয়ে আঘাত করেননি। অপরদিকে, ১৫৩৫ খ্রিষ্টাব্দে গুজরাটের সুলতান বাহাদুর শাহ যখন চিতোর আক্রমণ করেন, তখন মেবারের বিধবা রানি কর্ণবতী রাজ্য ও প্রজাদের সুরক্ষায় মুঘল সম্রাট হুমায়ূনের নিকট রাখী পাঠিয়ে ভ্রাতৃসুলভ সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন, যা ভারতীয় ইতিহাসে রাখীর সার্বজনীন মর্যাদার এক চিরন্তন দলিল।

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ও রবীন্দ্রনাথের সম্প্রীতি বার্তা (১৯০৫):

১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর ব্রিটিশদের কুখ্যাত বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার দিনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ও বাঙালির অখণ্ডতা রক্ষার লক্ষ্যে রাজপথে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কবজিতে রাখী পরিয়ে এই উৎসবকে এক ঐতিহাসিক গণজাগরণ ও জাতীয় ঐক্যের আন্দোলনে রূপান্তর করেছিলেন।

আচার-অনুষ্ঠান

অশুভ 'ভদ্রাকাল' পরিহার ও প্রশস্ত মুহূর্ত নির্বাচন:

মুহূর্ত চিন্তামণি শাস্ত্রের বিধান অনুসারে:

"ভদ্রায়াং দ্বে ন কর্তব্যং শ্রাবণী ফাল্গুনী তথা
শ্রাবণী নৃপতিং হন্তি গ্রামং দহতি ফাল্গুনী"
— অর্থাৎ ভদ্রাকালে শ্রাবণী (রাখীবন্ধন) ও ফাল্গুনী (হোলিকাদহন) বর্জনীয়। ভদ্রায় রাখী বাঁধলে রাজার বা পরিবারের অমঙ্গল হয়। তাই ভদ্রা সমাপ্ত হওয়ার পর অপরাহ্ণ কাল (দুপুরের পর) অথবা প্রদোষকালে প্রশস্ত শুভ লগ্নে রাখীবন্ধন করা বিধেয়।

মাঙ্গলিক পূজার থালি সজ্জা:

একটি কাঁসা, রূপা বা তামার থালিতে নিচের পবিত্র উপকরণগুলো সুন্দরভাবে সাজানো হয়:

- ঘৃতের প্রদীপ (আরতির জন্য)

- চন্দন বাটা ও রক্ত চন্দন / কুমকুম (তিলক প্রদানের জন্য)

- অক্ষত (অখণ্ড আতপ চাল, যা স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধির প্রতীক)

- দূর্বা ঘাস ও তুলসী পত্র (পবিত্রতা ও আরোগ্যের জন্য)

- পবিত্র রক্ষাসূত্র বা রাখী

- মিষ্টান্ন (লাড্ডু, সন্দেশ বা ক্ষীর)

- একটি শ্রীফল বা নারকেল ও জলপূর্ণ ঘট

তিলক প্রদান ও মঙ্গল আরতি:

ভাইকে উত্তর বা পূর্বমুখী করে শুদ্ধাসনে বসানো হয় (মাথায় একটি রুটি বা বস্ত্র রাখা প্রশস্ত)। বোন শুভকামনা করে ভাইয়ের ললাটে অনামিকা আঙুল দিয়ে চন্দন ও কুমকুমের তিলক পরিয়ে দেন এবং তার ওপর কয়েকটি অক্ষত চাল স্থাপন করেন। এরপর ঘৃতের প্রদীপ ও পঞ্চপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে ঘড়ির কাঁটার অভিমুখে ভাইয়ের মুখের সম্মুখে আরতি ঘুরিয়ে নেতিবাচক শক্তি দূর করার প্রার্থনা জানান।

বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ সহ ডানহাতে রাখীবন্ধন:

বোন ভাইয়ের ডান হাতের মণিবন্ধে পবিত্র রক্ষাসূত্রটি বেঁধে দেন। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী রাখী বাঁধার সময় নিম্নোক্ত অমোঘ বৈদিক রক্ষা মন্ত্রটি উচ্চারণ করতে হয়:

"যেন বদ্ধো বলী রাজা দানবেন্দ্রো মহাবলঃ।

তেন ত্বামভিবধ্নামি রক্ষে মা চল মা চল॥"

(অর্থ: যে পরম রক্ষাসূত্রে মহাশক্তিশালী অসুররাজ বলি আবদ্ধ হয়েছিলেন, সেই রক্ষাসূত্র দ্বারা আমি তোমায় আবদ্ধ করছি। হে রক্ষাসূত্র, তুমি চিরকাল স্থির থেকো এবং এই ব্যক্তিকে সর্বপ্রকার অনিষ্ট হতে রক্ষা করো।)

মিষ্টিমুখ, উপহার আদান-প্রদান ও আশীর্বাদ গ্রহণ:

রাখী পরানোর পর বোন ভাইকে মিষ্টি খাইয়ে দেন। ভাই ভগিনীর চরণে বা শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে উপহার, অর্থ (দক্ষিণা) প্রদান করেন এবং আজীবন যেকোনো বিপদে তাঁর সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। কনিষ্ঠ ভাইবোনেরা জ্যেষ্ঠদের চরণস্পর্শ করে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন এবং পরিবারের সকল সদস্য একত্র হয়ে নিরামিষ সাত্ত্বিক ভোজনে অংশ নেন।

বৃক্ষ রাখী ও সার্বজনীন সম্প্রীতি:

আধুনিক সনাতন সমাজে প্রকৃতি সুরক্ষার অংশ হিসেবে বট, অশ্বত্থ বা তুলসী বৃক্ষে রাখী বেঁধে 'বৃক্ষ রক্ষা' সংকল্প নেওয়া হয় এবং দেশপ্রেমিক সৈনিক (জওয়ান), পুলিশ ও সমাজের রক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাখী পরিয়ে সার্বজনীন উৎসব উদযাপন করা হয়।

দিন অনুযায়ী সূচি

১

রাখীবন্ধন (রাখী পূর্ণিমা) ২০২৬

২৮ আগস্ট ২০২৬পূর্ণিমা

মূল সময়সূচি

সকাল ৬:৩০ থেকে সকাল ১০:১৮

এই উৎসব কোথায় হয়

কোন কোন মন্দিরে রাখীবন্ধন পালিত হয়, তা আমরা এখনো জানি না।

রাখীবন্ধন পালিত হয় এমন কোনো মন্দির চেনেন?

এখনো কোনো উত্তর নেই

এই বিষয়ে প্রশ্ন করুন →

তথ্য

ধরন

উৎসব

সময়কাল

১ দিন

আরও উৎসব দেখুন

বাংলাদেশের সকল সনাতন উৎসব ও পূজার তালিকা

সব উৎসব

সচরাচর জিজ্ঞাসা

রাখীবন্ধন কবে?

রাখীবন্ধন সর্বশেষ শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পালিত হয়েছিল (পূর্ণিমা)।

২০২৬ সালে রাখীবন্ধন কবে পালিত হবে?

২০২৬ সালে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথি অর্থাৎ রাখীবন্ধন পালিত হবে ৩ আগস্ট, ২০২৬ (সোমবার)। তবে স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী সূর্যাস্ত ও তিথি বিবেচনায় কিছু অঞ্চলে তারিখ সামান্য ভিন্ন হতে পারে।

রাখীবন্ধনের শুভ মুহূর্ত বা শুভ সময় কখন?

শ্রাবণ পূর্ণিমার দিন ভদ্রা পরিহার করে প্রদোষকাল (সন্ধ্যার পূর্ববর্তী সময়) বা অপরাহ্নকালকে শুভ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৬ সালে শুক্রবার সকাল ৬:৩০ থেকে সকাল ১০:১৫ পর্যন্ত এই সময়টি বিশেষভাবে শুভ বলে গণ্য করা যেতে পারে।

ভদ্রাকাল কী এবং রাখীবন্ধনে এর প্রভাব কী?

ভদ্রাকাল হলো হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে একটি অশুভ সময়, যা শ্রাবণ পূর্ণিমার দিনে রাখীবন্ধনের মতো শুভ অনুষ্ঠান পালনের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভদ্রাকালে রাখী বাঁধলে তা অমঙ্গলের কারণ হতে পারে বলে শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

রাখীবন্ধনে ব্যবহৃত প্রধান বৈদিক মন্ত্র কোনটি?

রাখীবন্ধনের সময় ব্যবহৃত প্রধান বৈদিক মন্ত্রটি হলো: 'যেন বদ্ধো বলী রাজা দানবেন্দ্রো মহাবলঃ। তেন ত্বামভিবধ্নামি রক্ষে মা চল মা চল॥'। এই মন্ত্র দ্বারা ভাইয়ের মঙ্গল ও সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করা হয়।

রাখীবন্ধনের জন্য শ্রাবণ পূর্ণিমার গুরুত্ব কী?

শ্রাবণ পূর্ণিমা হলো সেই পবিত্র তিথি যখন দেবী লক্ষ্মী ভক্তরাজ বলিকে রাখীবন্ধন করেছিলেন এবং শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীর রক্তক্ষরণ থামিয়েছিলেন। এই দিনটির সাথে জড়িত পৌরাণিক কাহিনীগুলো রাখীবন্ধনের আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

রাখীবন্ধনের সময় তিলক পরানোর নিয়ম কী?

ভাইয়ের কপালে অনামিকা আঙুল দিয়ে চন্দন ও কুমকুমের তিলক পরানো হয়। তিলকের ওপর কয়েকটি অক্ষত চাল স্থাপন করা হয়। তিলক পরানোর সময় ভাইকে উত্তর বা পূর্বমুখী করে বসানো এবং মাথায় একটি রুটি বা বস্ত্র রাখা শ্রেয়।

রাখীবন্ধনে রাখীর রং ও উপাদানের তাৎপর্য কী?

রাখীর রং ও উপাদান পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত পছন্দ অনুসারে ভিন্ন হয়। সাধারণত লাল, হলুদ, সবুজ প্রভৃতি রং ব্যবহৃত হয়। রেশমি, সুতো বা ধাতব রক্ষাসূত্রের মাধ্যমে ভাই-বোনের অটুট বন্ধনের প্রতীক হিসেবে রাখীর গুরুত্ব অপরিসীম।

রাখীবন্ধনে ভাইকে কী উপহার দেওয়া উচিত?

ভাই সাধারণত ভগিনীকে অর্থ, গয়না, পোশাক বা ব্যবহার্য সামগ্রী উপহার দেন। অন্যদিকে ভগিনীরাও ভাইকে মিষ্টান্ন, পোশাক বা ব্যক্তিগত উপহার প্রদান করেন। উপহারের মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশিত হয়।

রাখীবন্ধন কি শুধু ভাই-বোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ?

না, রাখীবন্ধন শুধুমাত্র ভাই-বোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি গুরু-শিষ্য, বন্ধু, প্রতিবেশী এমনকি সমাজের যে কোনো ব্যক্তির মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উৎসবকে সামাজিক সংহতির মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

রাখীবন্ধনের সময় পরিবেশ সুরক্ষার ভূমিকা কী?

আধুনিক সনাতন সমাজে রাখীবন্ধনের সময় বৃক্ষ রাখী পালনের মাধ্যমে প্রকৃতি সুরক্ষার প্রতিজ্ঞা নেওয়া হয়। বট, অশ্বত্থ বা তুলসী বৃক্ষে রাখী বেঁধে মানুষ পরিবেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করে থাকে।

২০২৬ সালে রাখী বন্ধন রাখী পুর্নিমা কবে?

২০২৬ সালে পবিত্র রাখীবন্ধন (রাখী পূর্ণিমা) উৎসব পালিত হবে আগামী ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ (শুক্রবার)। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুসারে অশুভ 'ভদ্রাকাল' সমাপ্ত হওয়ার পর অপরাহ্ণ কাল অথবা প্রদোষকালে প্রশস্ত শুভ লগ্নে রাখীবন্ধন আচার সম্পন্ন করা বিধেয়।