মূল বিষয়বস্তুতে যান
← সব মহাপুরুষ
আদি শংকরাচার্য

আদি শংকরাচার্য

প্রধান মহাপুরুষ

১টি আশ্রম/মন্দির|guru

সংক্ষিপ্ত পরিচয়

আদি শংকরাচার্য ছিলেন সনাতন ধর্মের একজন মহান দার্শনিক, ধর্মগুরু এবং সমাজ সংস্কারক। তিনি অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের সুপ্রতিষ্ঠা করেন এবং ভারতের চার কোণায় চারটি প্রধান মঠ স্থাপন করে সনাতন ধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করেন। মাত্র ৩২ বছরের এক সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি পুরো ভারতের ধর্মীয় এবং দার্শনিক প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছিলেন।

জীবনী

আদি শংকরাচার্য ৮ম শতাব্দীতে কেরালার কালডি নামক একটি গ্রামে এক নম্বুদিরি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি অসাধারণ মেধার পরিচয় দেন এবং মাত্র আট বছর বয়সের মধ্যে চার বেদ আয়ত্ত করে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন গোবিন্দ ভগবতপাদ।

তিনি পুরো ভারত বর্ষ ভ্রমণ করে সনাতন ধর্মের প্রধান ভিত্তি প্রস্থানত্রয়ী (উপনিষদ, ভগবদ্গীতা এবং ব্রহ্মসূত্র)-র ওপর অত্যন্ত গভীর ও যুক্তিপূর্ণ ভাষ্য রচনা করেন। সনাতন ধর্মকে সুসংগঠিত করতে তিনি ভারতের চার প্রান্তে চারটি প্রধান মঠ (শৃঙ্গেরি, দ্বারকা, যোশীমঠ ও পুরী) প্রতিষ্ঠা করেন। জ্ঞানযোগের মাধ্যমে মোক্ষ লাভ এবং 'ব্রহ্ম ও জীব এক'—এই অদ্বৈত দর্শনই ছিল তাঁর মূল প্রচার। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি কেদারনাথে মহাপ্রয়াণ লাভ করেন।

বাণী ও উপদেশ

১. অদ্বৈত তত্ত্ব ও ব্রহ্মজ্ঞান: প্রতিটি জীবের ভেতরের আত্মা এবং পরমেশ্বর (ব্রহ্ম) আসলে এক ও অভিন্ন। অজ্ঞানতার কারণে আমরা নিজেদের আলাদা ভাবি।

২. মায়াবাদ: এই দৃশ্যমান জগত পরিবর্তনশীল এবং মায়া। একমাত্র পরম সত্য হলেন ঈশ্বর।

৩. জ্ঞানযোগের গুরুত্ব: ঈশ্বর ও আত্মাকে জানার প্রধান মাধ্যম হলো জ্ঞান। সঠিক আত্মজ্ঞানের মাধ্যমেই মানুষ মোক্ষ বা মুক্তি লাভ করতে পারে।

৪. ভক্তি ও কর্মের সমন্বয়: চিত্তশুদ্ধির জন্য নিষ্কাম কর্ম এবং ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি অত্যন্ত প্রয়োজন, যা মানুষকে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নেয়।

৫. সর্বধর্ম ও সমন্বয়: তিনি বিভিন্ন উপদলের মধ্যে বিরোধ দূর করে পঞ্চায়তন পূজা চালু করেন, যা সবাইকে এক সুতোয় বেঁধেছিল।

অলৌকিক লীলা

১. কনকধারা স্তোত্র ও স্বর্ণ বৃষ্টি: বাল্যকালে শংকর একবার এক দরিদ্র মহিলার বাড়িতে ভিক্ষা চান। সেই মহিলার ঘরে দেওয়ার মতো একটি শুকনো আমলকী ছাড়া আর কিছুই ছিল না। মহিলার এই চরম দরিদ্রতা দেখে দয়ার্দ্র হৃদয়ে শংকর দেবী লক্ষ্মীর স্তব (কনকধারা স্তোত্র) রচনা করেন। তাঁর প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী লক্ষ্মী সেই দরিদ্র মহিলার ঘরে সোনার আমলকী বৃষ্টি করেছিলেন।

২. কুমিরের ঘটনা ও সন্ন্যাসের অনুমতি: শংকর যখন সন্ন্যাস নিতে চাইলেন, তখন তাঁর মা রাজি হচ্ছিলেন না। একদিন নদীতে স্নান করার সময় একটি কুমির তাঁর পা কামড়ে ধরে। শংকর তাঁর মাকে চিৎকার করে বলেন যে, মা যদি তাঁকে সন্ন্যাস নেওয়ার অনুমতি দেন, তবেই কুমিরটি ছেড়ে দেবে। নিরুপায় মা সম্মতি দেওয়া মাত্রই অলৌকিকভাবে কুমিরটি শংকরকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়।

বাণী

“অহং ব্রহ্মাস্মি”

🛕আশ্রম ও মন্দিরসমূহ১

খুঁজুন ও ফিল্টার করুন

পরিচয় ও তথ্য

জন্মস্থান

কালডি (Kalady), কেরালা, ভারত।

আবির্ভাব কাল

788 – 820

সম্প্রদায়

অদ্বৈত বেদান্ত (দশनामी সম্প্রদায়)

উপাসনা

প্রধান উৎসব

শংকর জয়ন্তী (বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথি)

প্রিয় ফুল

ধুতুরা, আকন্দ এবং শ্বেত পদ্ম।

প্রিয় রঙ

গেরুয়া

স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিন

আমাদের ডিজিটাল ঐতিহ্য রক্ষায় সাহায্য করুন। আপনার এলাকার মন্দিরের তথ্য, ছবি বা পঞ্জিকা আপডেট করে আমাদের সাথে যুক্ত হোন।

আবেদন করুন