মূল বিষয়বস্তুতে যান
সিন্দুরমতি তীর্থধাম (সিন্দুরমতি দিঘী), পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সদর, লালমনিরহাট
যাচাইকৃত

সিন্দুরমতি তীর্থধাম (সিন্দুরমতি দিঘী)

পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সদর, লালমনিরহাট

Sindurmati Tirthadham (Sindurmati Dighi)

১৩বার দেখা হয়েছে
দিকনির্দেশনা

দর্শনের আগে

পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সদর, লালমনিরহাট

তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদ ৯ অক্টো ২০২৬

বিবরণ

সিন্দুরমতি তীর্থধাম (সিন্দুরমতি দিঘী) বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। এটি লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার অন্তর্গত পঞ্চরাম ইউনিয়নে অবস্থিত একটি বিশাল জলাশয় এবং পার্শ্ববর্তী মন্দির প্রাঙ্গণ নিয়ে গঠিত। দিঘিটি তার স্বচ্ছ জল এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত, যা দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে এটি কেবল একটি জলাশয় নয়, বরং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বৈশাখী পূর্ণিমা, রথযাত্রা, এবং অন্যান্য হিন্দু ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে এখানে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম ঘটে। তীর্থস্থানটির চারপাশে নির্মিত মন্দির এবং ঘাটগুলি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য উপাসনা ও পূজা-অর্চনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও, দিঘির পাড়ে আয়োজিত মেলাগুলি স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সিন্দুরমতি দিঘী শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন হিসেবে স্থানীয় ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে। এর চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং নির্মল পরিবেশ মানুষকে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি প্রদান করে। স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে তীর্থস্থানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, যাতে ভবিষ্যত প্রজন্মও এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে। সিন্দুরমতি তীর্থধাম বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হলেও, এটি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছেও আকর্ষণীয় একটি স্থান হিসেবে পরিচিত। এর নির্মল পরিবেশ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ মানুষকে আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করে তোলে।

ইতিহাস

উত্তরবঙ্গের স্নিগ্ধ প্রকৃতির মাঝে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের সীমান্তে অবস্থিত এক পুণ্যভূমি—সিন্দুরমতি তীর্থধাম। ১৬.৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই সুবিশাল দিঘি এবং মন্দির প্রাঙ্গণ শুধু একটি তীর্থস্থান নয়, এটি শত শত বছরের পুরনো এক আত্মত্যাগের নীরব সাক্ষী।

কীভাবে শুরু হলো এই তীর্থের পথচলা?

  • প্রচলিত লোকশ্রুতি অনুযায়ী, অনেক প্রাচীনকালে শ্রীলঙ্কা থেকে রাজ নারায়ণ চক্রবর্তী নামে এক নিঃসন্তান ব্রাহ্মণ জমিদার সস্ত্রীক তীর্থভ্রমণে আসেন।

  • এখানকার 'দেউল সাগর' মন্দিরের আধ্যাত্মিক শান্তিতে মুগ্ধ হয়ে তারা এখানেই বসতি স্থাপন করেন।

  • দীর্ঘকাল পর তাদের ঘরে দুই অপরূপা কন্যার জন্ম হয়। আদর করে তাদের নাম রাখা হয় 'সিন্দুর' ও 'মতি'।

  • সিন্দুর ও মতি যখন কৈশোরে পা দিয়েছেন, তখন ওই অঞ্চলে এক ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। খাল-বিল শুকিয়ে যায়, প্রজাদের মধ্যে হাহাকার পড়ে।

  • একজন দায়িত্বশীল শাসকের মতো জমিদার নারায়ণ চক্রবর্তী প্রজাদের জলকষ্ট নিবারণের জন্য ১৬.০৫ একর জায়গা জুড়ে একটি বিশাল দিঘি খননের মেগা-প্রজেক্ট হাতে নেন।

  • কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, হাজার হাজার শ্রমিক দিনের পর দিন মাটি কাটলেও দিঘির তলদেশে এক ফোঁটা জলের সন্ধান মেলেনি।

স্বপ্নাদেশ ও দুই বোনের আত্মোৎসর্গ

  • চিন্তিত জমিদার এক রাতে দৈব স্বপ্নাদেশ পান। তাকে জানানো হয়, তার দুই কুমারী কন্যা দিঘির মাঝখানে বসে ভগবানের আরাধনা করলে তবেই জল উঠবে।

  • চৈত্র মাসের রাম নবমী তিথিতে দিঘির মাঝখানে পূজার আয়োজন করা হয়। সিন্দুর পরেন লাল শাড়ি আর মতি সাদা শাড়ি।

  • পূজা চলাকালীন জমিদার খেয়াল করেন যে উপাচারে কিছু ঘাটতি রয়েছে এবং তা আনতে তিনি যখন বাইরে যান, ঠিক সেই মুহূর্তে দিঘির তলদেশ ভেদ করে প্রবল বেগে জলরাশি বেরিয়ে আসে।

  • পুরোহিতরা সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও, সিন্দুর ও মতি অথৈ জলে তলিয়ে সলিল সমাধি বরণ করেন। বিশ্বাস করা হয়, এই আত্মবিসর্জনের মাধ্যমেই তারা অমরত্ব লাভ করেন এবং দেবী রূপে পূজিত হতে থাকেন।

মিথের আড়ালে প্রত্নতাত্ত্বিক সত্য

গল্প বা লোককাহিনীর বাইরেও সিন্দুরমতির রয়েছে কংক্রিট ঐতিহাসিক প্রমাণ:

  • ১৯৭৫ সালের খনন: সরকারি উদ্যোগে এই দিঘি আংশিক পুনঃখনন করার সময় প্রাচীন কালের অনেক মূল্যবান মুদ্রা, দেব-দেবীর মূর্তি ও পাথর উদ্ধার করা হয়।

  • ২০০৩ সালের আবিষ্কার: দিঘির উত্তর পাড়ে খননকাজ চালানোর সময় একটি প্রায় ৮০০ বছরের প্রাচীন পাকা ঘাটের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।

  • উদ্ধারকৃত এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সযত্নে সংরক্ষিত আছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট আজও প্রতি বছর চৈত্র মাসের রাম নবমীতে এই সিন্দুরমতি দিঘিতে বিশাল মেলা বসে। হাজার হাজার সনাতনী পুণ্যার্থী এখানে পুণ্যস্নানের জন্য সমবেত হন। এই প্রাচীন স্থাপত্য ও দিঘি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জনকল্যাণে আত্মোৎসর্গের চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই।

কীভাবে যাবেন

লালমনিরহাট সদর থেকে স্থানীয় যানবাহন (রিকশা, অটোরিকশা) বা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে পঞ্চরাম ইউনিয়নে যাওয়া যায়। দিঘীটি ইউনিয়ন সদরের কাছাকাছি অবস্থিত।

দেবতাগণ

ভ্রমণ তথ্য

প্রবেশ মূল্যফ্রি
পার্কিংনিকটে
ফটো অনুমতিহ্যাঁ
জুতা রাখার ব্যবস্থা
হুইলচেয়ার সুবিধা
যাওয়ার সেরা সময়শীতকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ উৎসব ও তীর্থযাত্রার সময় হওয়ায় এই সময়টিতে দর্শনার্থীদের জন্য উত্তম।

অবস্থান ও মানচিত্র

দিকনির্দেশনা পান ↗

পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সদর, লালমনিরহাট

এলাকাপঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সদর, লালমনিরহাট
কাছের স্থানলালমনিরহাট সদর উপজেলা সদর
পোস্ট কোড5500

যে উৎসবগুলো এখানে হয়

মতামত

এখনো কোনো উত্তর নেই

এই বিষয়ে প্রশ্ন করুন →

এই প্রোফাইলটি ৭০% সম্পূর্ণ

সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করুন

এই মন্দির সম্পর্কে জানেন?

কয়েকটি তথ্য এখনো কেউ দেননি। প্রতিটি উত্তরে এক সেকেন্ড, যখন খুশি থামতে পারেন।

আনুমানিক কোন সালে প্রতিষ্ঠিত, জানেন?

নিরাপত্তা যাচাই চলছে…

প্রতিটি উত্তর নিশ্চিত হলে সেবা পয়েন্ট পাবেন।

তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদ ৯ অক্টো ২০২৬

এই তথ্য কি সঠিক?

স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিন

আমাদের ডিজিটাল ঐতিহ্য রক্ষায় সাহায্য করুন। আপনার এলাকার মন্দিরের তথ্য, ছবি বা পঞ্জিকা আপডেট করে আমাদের সাথে যুক্ত হোন।

আবেদন করুন
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হোন

নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবক আবেদন স্বেচ্ছাসেবক ড্যাশবোর্ড থেকে করা যায়।

খোলার সময়

এখনো খোলার সময় যোগ করা হয়নি।

সাধারণ প্রশ্ন

সিন্দুরমতি তীর্থধাম (সিন্দুরমতি দিঘী) কোথায় অবস্থিত?

সিন্দুরমতি তীর্থধাম (সিন্দুরমতি দিঘী) বাংলাদেশের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সদর, লালমনিরহাট-এ অবস্থিত। জিপিএস স্থানাঙ্ক নথিভুক্ত থাকলে এই পাতায় ঠিকানা, মানচিত্র ও দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।

সিন্দুরমতি তীর্থধাম (সিন্দুরমতি দিঘী) সম্পর্কে কী তথ্য পাওয়া যায়?

সিন্দুরমতি তীর্থধাম (সিন্দুরমতি দিঘী) প্রোফাইলে যাচাই থাকলে ঠিকানা, মানচিত্র, সময়সূচি, ছবি, দেবদেবী, সুবিধা, ইভেন্ট, ইতিহাস, যোগাযোগ ও কমিউনিটি আপডেট থাকতে পারে।

সিন্দুরমতি তীর্থধাম (সিন্দুরমতি দিঘী)-এ যাওয়ার দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে?

মানচিত্র কোঅর্ডিনেট থাকলে MandirBD পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সদর, লালমনিরহাট-এর সিন্দুরমতি তীর্থধাম (সিন্দুরমতি দিঘী)-এর জন্য মানচিত্র ও দিকনির্দেশনা লিংক দেখায়, যাতে যাত্রার পরিকল্পনা সহজ হয়।

সিন্দুরমতি তীর্থধাম (সিন্দুরমতি দিঘী) তথ্য কীভাবে সংশোধন করব?

মন্দির পাতার সংশোধন বা দাবি অপশন ব্যবহার করুন। জমা দেওয়া আপডেট প্রকাশের আগে স্বেচ্ছাসেবক ও মডারেটররা রিভিউ করেন।