শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দিরটি বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গা (ভাটপাড়া) অঞ্চলে অবস্থিত।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বেগবতী নদীর তীরে অবস্থিত শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দির অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় স্থান। এটি মূলত বিখ্যাত নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ি বা রাজবাড়ী প্রাঙ্গণের অন্তর্গত একটি ঐতিহাসিক মন্দির।
প্রতিষ্ঠাতা ও সময়: ১৬৫৬ সালে নলডাঙ্গা রাজবংশের বিখ্যাত রাজা মহারাজ প্রথম ভূষণ দেবরায় (মতান্তরে রাজা ইন্দ্রনারায়ণ দেবরায়) এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। নামকরণ: রাজা ইন্দ্রনারায়ণ যখন মন্দিরটি প্রথম নির্মাণ করেন, তখন এখানে প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহের নাম দেওয়া হয়েছিল "ইন্দ্রেশ্বরী"। পরবর্তীতে আধ্যাত্মিক সাধনায় সিদ্ধিলাভের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কারণে এই মন্দির ও দেবীর নাম পরিবর্তিত হয়ে সিদ্ধেশ্বরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
স্থাপত্যশৈলী ও অবকাঠামো গঠন: প্রাচীন বাংলা স্থাপত্যেরীতি অনুযায়ী বর্গাকারে এটি নির্মিত হয়েছিল, যার বাইরের দিকের প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৩৯ ফুট ৩ ইঞ্চি। এর মূল গর্ভ-মন্দিরের ওপর একটি প্রধান চূড়া এবং চার কোণে চারটি ছোট চূড়া বা রত্ন ছিল। উপাদান: ঐতিহ্যবাহী চুন-সুরকি, পাতলা ইট ও সুদৃশ্য নকশার কারুকাজে মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছিল। নলডাঙ্গা রাজবাড়ির মন্দির চত্বর নলডাঙ্গা রাজারা এই চত্বরে মোট ৭ থেকে ৮টি সুদৃশ্য মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। কালক্রমে মূল রাজপ্রাসাদটি বিলীন হয়ে গেলেও বেগবতী নদীর তীরে এখনও এই প্রাচীন মন্দিরগুলো টিকে রয়েছে। সিদ্ধেশ্বরী মন্দির ছাড়াও এই চত্বরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য মন্দিরগুলো হলো:
কালীমাতা মন্দির ও লক্ষ্মী মন্দির তারা মন্দির ও গণেশ মন্দির দুর্গা মন্দির ও রাজেশ্বরী মন্দির প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট দ্বিতল বিষ্ণু মন্দির (পঞ্চ দেবতা)
বর্তমানে নলডাঙ্গা রাজবাড়ির মন্দির চত্বরের মধ্যে এই সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দিরটি অন্যতম প্রধান সচল এবং নিয়মিত পূজিত মন্দির হিসেবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি তীর্থস্থান। প্রতিবছর বিশেষ করে পূজার দিনগুলোতে এখানে বহু ভক্ত এবং দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।



