মূল বিষয়বস্তুতে যান
শুভ জন্মাষ্টমী
সব উৎসব
উৎসবপ্রধান উৎসবজাতীয় ছুটি

শুভ জন্মাষ্টমী

Janmashtami

সেপ্ট৪২০২৬

সর্বশেষ

শুক্র, ৪ সেপ্টেম্বর

পরিচয়

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এবং আনন্দমুখর উৎসব হলো 'জন্মাষ্টমী' বা 'কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী'। দ্বাপর যুগে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মর্ত্যলোকে যে পুণ্য তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেই দিনটিকেই জন্মাষ্টমী হিসেবে উদযাপন করা হয়। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি বছর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে, রোহিণী নক্ষত্রের প্রভাবে এই পরম শুভদিনটি পালিত হয়। শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটি গভীর ভক্তি, প্রেম ও উল্লাসের সাথে পালন করে থাকেন। ঐতিহাসিক পটভূমি ও জন্মকথা শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পেছনের ইতিহাস অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং গভীর শিক্ষণীয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের পাপাচার যখন চরম সীমায় পৌঁছায়, তখন চারদিকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। কংস তার নিজ পিতা উগ্রসেনকে বন্দী করে সিংহাসন দখল করেছিল। দৈববাণী ও বন্দীশালা: কংসের বোন দেবকীর সাথে বসুদেবের বিয়ের দিন এক দৈববাণী হয় যে, দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান কংসের মৃত্যুর কারণ হবে। এই দৈববাণী শুনে কংস দেবকী ও বসুদেবকে কারাগারে বন্দী করে এবং একে একে তাদের ছয়টি সন্তানকে হত্যা করে। অষ্টম অবতারের আগমন: অবশেষে ভাদ্র মাসের এক ঘোর অন্ধকার, ঝড়-বৃষ্টি মুখর মধ্যরাতে দেবকীর অষ্টম সন্তান হিসেবে স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। গোকুলে যাত্রা: জন্মের পরপরই দৈব মায়ায় কারাগারের সব দরজা খুলে যায় এবং প্রহরীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বসুদেব সদ্যোজাত কৃষ্ণকে একটি ঝুড়িতে করে উত্তাল যমুনা নদী পার হয়ে গোকুলে নন্দ ঘোষ ও যশোদার কাছে রেখে আসেন এবং তাদের সদ্যোজাত কন্যিকাকে (যোগমায়া) নিয়ে কারাগারে ফিরে আসেন। নন্দোৎসব: গোকুলে যখন সবাই জানতে পারে যে যশোদা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন, তখন আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এই দিনটিকেই আমরা 'নন্দোৎসব' হিসেবে পালন করে থাকি।

ধর্মীয় তাৎপর্য

শ্রীকৃষ্ণ বিষ্ণুর অষ্টম অবতার হিসেবে পূজিত। তাঁর জন্ম ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য।

আচার-অনুষ্ঠান

এই দিন ভক্তরা উপবাস করেন, রাত ১২টায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মের সময় আরতি করেন এবং পরদিন ব্রত ভাঙেন।

উপবাসের নিয়ম

সূর্যোদয় থেকে পরদিন সূর্যোদয় পর্যন্ত উপবাস করা হয়। ফলমূল ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণযোগ্য।

ভিডিও

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ব্রত পূজা বিধি ও মন্ত্র ২০২৫

শুভ জন্মাষ্টমী কবে?

২০২৬

সেপ্ট৪

শুক্র, ৪ সেপ্টেম্বর

এই উৎসব কোথায় হয়

মন্দিরবিডির তালিকায় এখন পর্যন্ত এমন ৪টি মন্দির আছে, যেখানে শুভ জন্মাষ্টমী পালিত হয়।

শুভ জন্মাষ্টমী পালিত হয় এমন কোনো মন্দির চেনেন?

এখনো কোনো উত্তর নেই

এই বিষয়ে প্রশ্ন করুন →

তথ্য

ধরন

উৎসব

সময়কাল

১ দিন

ছুটি

জাতীয় ছুটি

আরও উৎসব দেখুন

বাংলাদেশের সকল সনাতন উৎসব ও পূজার তালিকা

সব উৎসব

সচরাচর জিজ্ঞাসা

শুভ জন্মাষ্টমী কবে?

শুভ জন্মাষ্টমী-এর পরের তারিখ এখনো যোগ করা হয়নি; পঞ্জিকায় তিথি দেখুন। সর্বশেষ পালিত হয়েছিল শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

ঢাকায় জন্মাষ্টমী উৎসব কোথায় সবচেয়ে বড় পরিসরে পালিত হয়?

ঢাকার ধামরাইয়ের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির ও পূরণ ঢাকার শ্রী শ্রী রাধা মাধব মন্দিরে জন্মাষ্টমী উৎসব ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। এছাড়া পুরান ঢাকার বিভিন্ন মন্দিরেও বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হয়।

জন্মাষ্টমীর দিন কোন সময়টিকে সবচেয়ে পবিত্র বলে বিবেচনা করা হয়?

ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মধ্যরাতের ঠিক পূর্ব মুহূর্তকে সবচেয়ে পবিত্র সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এটিই হল শ্রীকৃষ্ণের জন্মক্ষণ।

জন্মাষ্টমীর দিন উপবাস পালনের নিয়মাবলী কী কী?

উপবাস সূর্যোদয় থেকে শুরু হয়ে পরদিন সূর্যোদয় পর্যন্ত চলবে। এ সময় ফলমূল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করা যায়। তবে লবণবিহীন খাবার গ্রহণের প্রচলন রয়েছে।

জন্মাষ্টমীর দিন মন্দিরগুলোতে কোন বিশেষ অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হয়?

মন্দিরগুলোতে মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মের সময় বিশেষ আরতি, নামসংকীর্তন, ভজন-কীর্তন, এবং পরদিন নন্দোৎসব পালন করা হয়। অনেক স্থানে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও থাকে।

জন্মাষ্টমীর দিন উপবাস ভাঙার নিয়ম কী?

পরদিন সকালে সূর্যোদয়ের পর প্রথমে শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে প্রসাদ গ্রহণ করে তবেই উপবাস ভাঙা হয়। সাধারণত ফলমূল, দুধ ও মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার দিয়ে ভাঙা হয়।

জন্মাষ্টমীর দিন কোন বিশেষ প্রসাদ তৈরি করা হয়?

শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় মিষ্টান্ন হিসেবে পঞ্চামৃত, মাখন, মিছরি, ক্ষীর, লাড্ডু, জলভরা সন্দেশ ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। এছাড়া চন্দন, তুলসীপাতা ও ফুলের প্রসাদও দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে জন্মাষ্টমী পালনের ঐতিহাসিক পটভূমি কী?

বাংলাদেশে প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব পালিত হয়ে আসছে। বিশেষত বৃন্দাবনচন্দ্র মঠ, ঢাকেশ্বরী মন্দির ও অন্যান্য ঐতিহাসিক মন্দিরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে।

জন্মাষ্টমীর দিন কোন ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়?

শ্রীকৃষ্ণের জীবনী বর্ণনাকারী শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের দশম স্কন্দ, শ্রীকৃষ্ণের স্তোত্র, এবং গীতা থেকে বিশেষ অংশ পাঠ করা হয়। এছাড়া নামসংকীর্তনে ভক্তিগীতিও গাওয়া হয়।

জন্মাষ্টমীর দিন পরিবেশ রক্ষায় কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়?

মন্দিরগুলোতে একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিক এড়িয়ে বাঁশ ও খড়ের তৈরি সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। আলোকসজ্জায় এলইডি লাইট ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জন্মাষ্টমীর দিন ভক্তরা কোন বিশেষ ব্রত পালন করেন?

ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে 'কৃষ্ণাষ্টমী ব্রত' পালন করেন। এতে উপবাস, নামসংকীর্তন, শ্রীকৃষ্ণের স্তোত্র পাঠ এবং পরদিন প্রসাদ গ্রহণ অন্তর্ভুক্ত থাকে।