সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এবং আনন্দমুখর উৎসব হলো 'জন্মাষ্টমী' বা 'কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী'। দ্বাপর যুগে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মর্ত্যলোকে যে পুণ্য তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেই দিনটিকেই জন্মাষ্টমী হিসেবে উদযাপন করা হয়। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি বছর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে, রোহিণী নক্ষত্রের প্রভাবে এই পরম শুভদিনটি পালিত হয়। শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটি গভীর ভক্তি, প্রেম ও উল্লাসের সাথে পালন করে থাকেন। ঐতিহাসিক পটভূমি ও জন্মকথা শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পেছনের ইতিহাস অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং গভীর শিক্ষণীয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের পাপাচার যখন চরম সীমায় পৌঁছায়, তখন চারদিকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। কংস তার নিজ পিতা উগ্রসেনকে বন্দী করে সিংহাসন দখল করেছিল। দৈববাণী ও বন্দীশালা: কংসের বোন দেবকীর সাথে বসুদেবের বিয়ের দিন এক দৈববাণী হয় যে, দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান কংসের মৃত্যুর কারণ হবে। এই দৈববাণী শুনে কংস দেবকী ও বসুদেবকে কারাগারে বন্দী করে এবং একে একে তাদের ছয়টি সন্তানকে হত্যা করে। অষ্টম অবতারের আগমন: অবশেষে ভাদ্র মাসের এক ঘোর অন্ধকার, ঝড়-বৃষ্টি মুখর মধ্যরাতে দেবকীর অষ্টম সন্তান হিসেবে স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। গোকুলে যাত্রা: জন্মের পরপরই দৈব মায়ায় কারাগারের সব দরজা খুলে যায় এবং প্রহরীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বসুদেব সদ্যোজাত কৃষ্ণকে একটি ঝুড়িতে করে উত্তাল যমুনা নদী পার হয়ে গোকুলে নন্দ ঘোষ ও যশোদার কাছে রেখে আসেন এবং তাদের সদ্যোজাত কন্যিকাকে (যোগমায়া) নিয়ে কারাগারে ফিরে আসেন। নন্দোৎসব: গোকুলে যখন সবাই জানতে পারে যে যশোদা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন, তখন আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এই দিনটিকেই আমরা 'নন্দোৎসব' হিসেবে পালন করে থাকি।





