সনাতন ধর্মে শক্তি সাধনার প্রধান কেন্দ্র হলো শক্তিপীঠ। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দেবী সতীর আত্মাহুতির পর মহাদেব যখন তাঁর মৃতদেহ নিয়ে তাণ্ডব শুরু করেন, তখন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড রক্ষার্থে ভগবান বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে দেবীর দেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত করেন। এই খণ্ডগুলো ভারতীয় উপমহাদেশের যে যে স্থানে পতিত হয়েছিল, সেগুলোই আজ ‘সতীপীঠ’ বা ‘শক্তিপীঠ’ নামে সুপরিচিত।
অবিভক্ত বাংলার ভূখণ্ডে এর একটি বড় অংশ অবস্থিত, যার মধ্যে বর্তমান বাংলাদেশে রয়েছে ৫টি প্রধান পুণ্যভূমি এবং কিছু উপপীঠ। এই পবিত্র স্থানগুলো কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্রই নয়, বরং হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং অনন্য স্থাপত্যশৈলীর এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
বাংলাদেশে অবস্থিত প্রধান শক্তিপীঠসমূহ:
যশোরেশ্বরী শক্তিপীঠ (সাতক্ষীরা): এখানে দেবীর করতল বা হাতের তালু পতিত হয়েছিল। দেবী এখানে যশোরেশ্বরী এবং ভৈরব চণ্ড নামে পূজিত হন।
ভবানীপুর শক্তিপীঠ (বগুড়া): করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত এই পীঠে দেবীর বাম নূপুর বা অলঙ্কার পতিত হয়েছিল। এখানে দেবী অপর্ণা এবং ভৈরব বামন।
সুগন্ধা শক্তিপীঠ (বরিশাল): সুগন্ধা বা সুনন্দা নদীর তীরে দেবীর নাসিকা (নাক) পতিত হয়েছিল। এখানে দেবীর নাম সুগন্ধা এবং ভৈরব ত্র্যম্বক।
চট্টল শক্তিপীঠ (চট্টগ্রাম): সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উপর দেবীর দক্ষিণ বাহু বা ডান হাত পতিত হয়েছিল। এখানে দেবী ভবানী এবং ভৈরব চন্দ্রশেখর।
শ্রীশৈল / মহালক্ষ্মী গ্রীবা পীঠ (সিলেট): জৈন্তাপুরের নিকটবর্তী এই স্থানে দেবীর গ্রীবা বা ঘাড় পতিত হয়েছিল। এখানে দেবী মহালক্ষ্মী ও ভৈরব সম্বরানন্দ।
এই কালেকশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের এই পরম পবিত্র শক্তিপীঠগুলোর অবস্থান, ইতিহাস, ধর্মীয় তাৎপর্য এবং দর্শনার্থীদের জন্য যাতায়াতের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।