একনজরে বীর মুক্তিযোদ্ধা শিখা চক্রবর্তীর ত্যাগ ও সংগ্রামময় জীবন:
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন: ১৯৫৬ সালের ১লা জুলাই নারায়ণগঞ্জের মিশনপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শিখা চক্রবর্তী। তাঁর পিতা কৃষ্ণ কমল চক্রবর্তী এবং মাতা অনিতা চক্রবর্তী (বৈবাহিক সূত্রে শিখা ভট্টাচার্য)। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই তিনি শুটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। ১৯৭১ সালে ১৫ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতাকালে যুদ্ধ শুরু হয়।
কুমিল্লায় কৃষক রশিদ মিয়ার মহানুভবতা: যুদ্ধের শুরুতে বাবা-মা ও ছয় ভাই-বোনকে নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন শিখারা। কুমিল্লায় পৌঁছে কৃষক রশিদ মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় পান। রাতে ডাকাত দল হিন্দু পরিবারের সন্ধান করলে, ৮টি মানব প্রাণ বাঁচাতে কৃষক রশিদ মিয়া নিজের মাথায় ও বুকে কোরআন শরিফ ছুঁয়ে শপথ করে তাদের রক্ষা করেন।
মৃত্যুকূপ পেরিয়ে ভারত যাত্রা: শীতলক্ষ্যা নদী পার হওয়ার সময় পাকিস্তানি সেনাদের চোখ এড়াতে বাবা শিখাকে নৌকার পাটাতনের নিচে লুকিয়ে রাখেন। কান্নারত এক বছরের ছোট বোনকে নদীতে ফেলে দেওয়ার মানসিক চাপ এড়িয়ে, ফিডার দিয়ে শান্ত রেখে তাঁরা সীমান্ত অভিমুখে এগিয়ে যান। পরবর্তীতে ডাকাতের খপ্পর ও দালালের সহায়তা পেরিয়ে ৩০০ টাকার বিনিময়ে ভারতে পৌঁছান।
শরণার্থী শিবির ও বিশিষ্ট অতিথির আগমন: ভারতে পৌঁছে তাঁরা প্রথমে ত্রিপুরার সূর্যমনি ও পরে বিজয়নগর শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। এই বিজয়নগর শিবিরটি পরিদর্শনে এসেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির ভাই এডওয়ার্ড কেনেডি।
প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও সেবা: শুটিংয়ে দক্ষতা থাকলেও সশস্ত্র যুদ্ধের বদলে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তাঁকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যেখানে তিনি স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত আহত মুক্তিযোদ্ধাদের দিনরাত সেবা দেন।
মেজর খালেদ মোশাররফের সেবা: জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ‘কে’ ফোর্সের প্রধান ও যুদ্ধাহত অধিনায়ক খালেদ মোশাররফের পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন শিখা চক্রবর্তী। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মম শারীরিক অবস্থা দেখে অনেক রাত না ঘুমিয়ে ও না খেয়ে কাটাতে হতো তাঁদের।
স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তন ও কর্মজীবন: ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২৮শে ডিসেম্বর পরিবারসহ নিজ ভিটায় ফিরে দেখেন ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ও লুটপাট করে দেওয়া হয়েছে। শূন্য হাতে নতুন করে জীবন শুরু করে তিনি নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে যোগ দেন এবং ২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী একনিষ্ঠভাবে চিকিৎসাসেবা বজায় রাখেন।
সূত্র : বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র।
Leave a Comment
Please login to leave a comment.
0 Comments
No comments yet. Be the first to comment!